অনলাইন ডেস্ক : একসময়ের ব্যাপক জনপ্রিয় নায়ক ছিলেন জাভেদ। এখন তিনি অনেকটাই অন্তরালে। জাভেদ শুধু নায়কই ছিলেন না, ছিলেন অসংখ্য চলচ্চিত্রের হিট নৃত্যপরিচালকও। এই জনপ্রিয় নায়ক ও নৃত্যপরিচালক আবারও চলচ্চিত্রে কাজ করতে আগ্রহ প্রকাশ করেছেন। জাভেদ জানিয়েছেন, ভালো প্রযোজক, পরিচালক এবং গল্প পেলে তিনি আবারও কাজ করবেন।
একসময় দেশের চলচ্চিত্রের পর্দা কাঁপানো এ নায়ক এখন অনেকটা আড়ালেই সময় কাটাচ্ছেন। অন্য নায়কদের চেয়ে তিনি অনেকটা ব্যতিক্রম ছিলেন। চলচ্চিত্রে অভিনয়ের পাশাপাশি তিনি নৃত্য পরিচালক হিসেবে কাজ করে আলাদা অবস্থান তৈরি করেছেন। সময়ের পরিক্রমায় এ নায়ক দীর্ঘদিন পর্দায় অনুপস্থিত। এর কারণ, সিনিয়রদের প্রতি নতুনদের অনাগ্রহ ও পরিবেশ প্রতিকূলতা। তবে এসবকে পাশ কাটিয়ে আবারও কাজ করতে আগ্রহী জাভেদ।
জাভেদ বলেন, ভালো গল্প এবং চরিত্র পেলে অবশ্যই অভিনয় করব। ইচ্ছে আছে নৃত্য পরিচালক হিসেবেও কাজ করার। কিন্তু তেমন কাজ ব্যাটে-বলে মিলছে না বলেই করা হচ্ছে না।’
রাজধানীর উত্তরাতেই থাকেন জাভেদ। একসময়ের কর্মমুখর বিএফডিসিতে এখন আর তেমন আসেন না তিনি। কারণ জাভেদের মতো নায়কদের জন্য চরিত্র সৃষ্টি হয় না এখন চলচ্চিত্রে। অথচ ১৯৭০ থেকে ১৯৮৯ পর্যন্ত নায়কদের মধ্যে জাভেদ ছিলেন অসম্ভব জনপ্রিয়। নিজে নাচতেন ও নায়িকাদের নাচিয়ে পর্দা কাঁপিয়ে তুলতেন। শাবানা, ববিতা, অঞ্জু ঘোষ, রোজিনা, সুজাতা, সুচরিতা প্রমুখ ছিলেন তার নায়িকা। পর্দায় নায়ক জাভেদের উপস্থিতি মানেই তিনি তলোয়ার নিয়ে যুদ্ধ করবেন।
জাভেদের আসল নাম ইলিয়াস জাভেদ। জন্ম ১৯৪৪ সালে আফগানিস্তানে। পরে তারা অয়াকিস্তানের পেশোয়ার হয়ে পাঞ্জাবে আসেন। শৈশবে তার প্রিয় নায়ক ছিলেন দিলীপ কুমার। জাভেদের বাবা ছিলেন ধর্মপরায়ণ। তিনি চাইতেন ছেলেরা ব্যবসায়ী হবে, নয়তো চাকরি করবে। কিন্তু জাভেদের ওইসব দিকে আদৌ মন ছিল না। কীভাবে অভিনেতা হওয়া যাবে এ নিয়েই তিনি ভাবতেন।
সিনেমা দেখা, গান শোনা নিয়েই মগ্ন থাকতেন জাভেদ। এ নিয়ে পরিবারের সঙ্গে তার দ্বন্দ্ব হয়। অবশেষে বাবা-মায়ের কাছে না বলেই জাভেদ পাঞ্জাব ছেড়ে এলেন তত্কালীন পূর্ব পাকিস্তানের (বর্তমানে বাংলাদেশ) ঢাকায়। সেটা ছিল ১৯৬৩ সালের কথা। জাভেদের প্রথম অভিনীত ছবি উর্দু ‘নয়ি জিন্দেগি’। এটি ১৯৬৪ সালে মুক্তি পায়। উর্দু ছবি ‘পায়েল’ (১৯৬৬) থেকেই জাভেদের নাম ছড়িয়ে পড়ে দেশজুড়ে। নাচে-গানে মাতোয়ারা করে জাভেদ অসাধারণ অভিনয় দেখিয়েছিলেন।
ছবিতে জাভেদের সঙ্গে শাবানা ছিলেন। প্রথমদিকে জাভেদ নৃত্য পরিচালক হিসেবে নাম করেন। ১৯৭৪ সালের পর থেকে জাভেদ ঢাকার ফিল্মে আবার ব্যস্ত হয়ে ওঠেন। একে একে নায়ক হিসেবে অভিনয় করেন ‘মালকা বানু’, ‘অনেক দিন আগে’, ‘শাহাজাদা’, ‘রাজকুমারী চন্দ্রবান’, ‘সুলতানা ডাকু’, ‘আজো ভুলিনি’, ‘কাজল রেখা’, ‘সাহেব বিবি গোলাম’, ‘নিশান’, ‘বিজয়িনী সোনাভান’, ‘রূপের রাণী’, ‘চোরের রাজা’, ‘তাজ ও তলোয়ার’, ‘নরমগরম’, ‘তিন বাহাদুর’, ‘জালিম’, ‘চন্দন দ্বীপের রাজকন্যা’, ‘রাজিয়া সুলতানা’, ‘সতী কমলা’, ‘বাহারাম বাদশা’, ‘আলাদিন আলী বাবা’, ‘সিন্দাবাদ’ প্রভৃতি ছবিতে।
অভিনয়ের পাশাপাশি এসব ছবিতে নৃত্য পরিচালক হিসেবেও তিনি কাজ করেছিলেন। ‘মনের ওই ছোট্ট ঘরে আগুন লেগেছে হায়রে’, ‘নাচো নাচো গো অঞ্জনা’, ‘চাকভুম চাকভুম চাঁদনী রাতে’, ‘মালকা বানুর দেশেরে বিয়ের বাজনা বাজেরে’, ‘ওরে ও বাঁশিওয়ালা’ ইত্যাদি জনপ্রিয় গানেরও নৃত্য পরিচালক ছিলেন তিনি। জাভেদ এ পর্যন্ত প্রায় দুই শতাধিক ছবিতে অভিনয় করেছেন—একসময় বছরের পর বছর মুক্তি পাওয়া প্রায় প্রতিটি ছবির নৃত্য পরিচালক ছিলেন তিনিই।
জাভেদের শতকরা ৯৯ ভাগ ছবিই সফল হয়েছিল। নায়ক হিসেবে তার প্রতিটি ছবিই ছিল সুপারহিট। তার অভিনীত ‘মালকা বানু’, ‘পায়েল’, ‘কাজল রেখা’, ‘নিশান’, ‘সাহেব বিবি গোলাম’সহ কত ছবি দেখার জন্য দর্শকের ভিড় উপচে পড়ত।
কালু খাঁর চরিত্রে অভিনয় করে তিনি বাঘের খাঁচায় লাফিয়ে পড়েছিলেন। দ্বৈত চরিত্রে অভিনয় করে জাভেদ দুই ভাইয়ের ভূমিকায় ছিলেন। তার নায়িকা ছিল ববিতা। ‘নিশান’ ছবিটি মুক্তি পাওয়ার পরে দেশব্যাপী হৈচৈ পড়ে গিয়েছিল জাভেদকে নিয়ে।
চলচ্চিত্রে কাজ না করলেও এখনও স্টেজ শো’তে পারফর্ম করেন এ নায়ক। তিনি বলেন, ভালো স্টেজ শোর প্রস্তাব এলে আমি পারফর্ম করার চেষ্টা করি।’ অভিনয়ের পাশাপাশি একটি চলচ্চিত্র প্রযোজনাও করেছেন জাভেদ। নাম ‘বাহরাম বাদশা’।