‘লিপ ইয়ার’ দম্পত্তি

দিনটির বর্ণনা দিতে গিয়ে শাওন বলেন, ২৯ ফেব্রুয়ারি যেহেতু একটি লোভনীয় দিন তাই আমার স্ত্রীকে বুঝিয়ে বলি এই তারিখে বিয়ে হলে ব্যাপারটা কতোটা ইন্টারেস্টিং হবে। 

বিয়ের ১৫দিন আগে আমি রুমিকে বললাম ২৯ ফেব্রুয়ারি বিয়ের ব্যাপারে নিশ্চিত হতে। যেহেতু আমার জন্মদিন লিপ ইয়ারে তাই অপেক্ষা করার অভ্যাস আমার আছে। আমি বললাম তুমি চাইলে আমরা ২০২০ সালেও বিয়ে করতে পারি। তবে চার বছর অপেক্ষার করতে নারাজ রুমি।  

রুমি হেসে তখন বলেন, সমস্যা নাই। আমরা নিজেদের বিবাহবাষির্কী চার বছর পরপর সেলিব্রেট করবো। কিন্তু এই কৃপণতার কথা তোমাকে সারাজীবন শুনতে হবে। 

এতো ব্যতিক্রমের মধ্যে তাদের বিয়ের কার্ডটাও বাদ যায়নি। কার্ডের উপরের ছবিটাও ছিল ব্যতিক্রম। 

‘লিপ ইয়ার’ দম্পত্তি’র বিয়ের কার্ড

শাওন ছিলেন গাউন পরা, আর স্যুট পরা ছিলেন রুমি। শুধু তাই নয় ছবিতে শাওনকে আড়া কোলে ধরে রেখেছেন রুমি। বিয়েরদিন আর বরের জন্মদিন যেহেতু একই দিনে ছিল তাই কার্ডেও ছিল বিস্তারিত অনুষ্ঠানসূচী। 

একইদিনে একই জায়গায় জন্মদিন থেকে শুরু করে বিয়ের যাবতীয় অনুষ্ঠানের আয়োজন করেন তারা। বিকেল পাঁচটা থেকে জন্মদিন, সন্ধ্যা সাতটা থেকে গায়ে হলুদ, রাত নয়টা থেকে বিয়ে আর সারারাত বৌভাত। 

তবে শাওনের ভাষায় বিয়ের পুরো ব্যাপারটা ছিল, আমি পাইলাম, আমি উহাকে পাইলামের মতো। 

শাওনের বর্ণনায় উঠে আসে স্ত্রীর প্রতি তার ভালোবাসার বিষয়টি। তিনি বলেন, যখন পাহাড়ে, সমুদ্রে ঘুরতে যাই তখন ওর হাসিটা জিপিএস হিসেবে মানি। দূরে কোথাও চলে গেলেও সমস্যা নেই রুমির হাসি খেয়াল করেই আমরা ঠিকঠাক চলে আসতে পারি। 

তবে প্রথম বিয়েবার্ষিকী হলেও তেমন কোনো আনুষ্ঠানিকতার পরিকল্পনা নেই এই দম্পতির। এমনকি এই তারিখ বেছে নেয়াকে অনেক বন্ধুবান্ধব বা আত্মীয়রা কৃপণতা হিসেবে দেখলেও এতটুকুও বিচলিত নন তারা।