তবে ময়নাতদন্ত প্রতিবেদন হাতে না পাওয়া পর্যন্ত মৃত্যুর সঠিক কারণ ও ধরণ সম্পর্কে নিশ্চিত করে কিছু বলা যাচ্ছে না বলে জানিয়েছে পুলিশ।
হাজারীবাগ থানার ওসি মোক্তারুজ্জামান বলেন, লাশ উদ্ধারের ঘটনাস্থল ও সুরতহাল রিপোর্ট পর্যালোচনা করে আমরা ধারণা করছি সাংবাদিক সোহানা পারভীন তুলি আত্মহত্যা করেছেন। আমরা তার দুই বন্ধুকে থানায় ডেকে এনে জিজ্ঞাসাবাদ করছি।
গতকাল বৃহস্পতিবার শহীদ সোহরাওয়ার্দী মেডিক্যাল কলেজ মর্গে ময়নাতদন্ত শেষে তুলির লাশ পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হয়। পরে সেটি যশোরে দাফন করার জন্য নিয়ে যাওয়া হয়। গতকাল বাদ মাগরিব যশোরের হুশতলা জামে মসজিদে জানাজা শেষে হুশতলা কবরস্থানে মরদেহ দাফন করা হয়।
বুধবার বিকাল ৫টার দিকে হাজারীবাগের রায়েরবাজার এলাকায় মদিনা মসজিদের পাশে ২৯৯/৫ নম্বর বাড়ির দ্বিতীয় তলার ফ্ল্যাট থেকে পুলিশ তুলির লাশ উদ্ধার করে।
তুলি ঢাকা সাব-এডিটরস কাউন্সিল ও ঢাকা সাংবাদিক ইউনিয়নের সদস্য ছিলেন। তার গ্রামের বাড়ি যশোর সদর উপজেলায়।
ওসি মোক্তারুজ্জামান বলেন, ঘটনার পর আমরা তুলির স্বজনদের সঙ্গে কথা বলেছি। তুলি মারা যাওয়ার আগে তার মানসিক হতাশার কথা ছোট ভাই মোহাইমিনুলকে জানিয়েছিলেন। তার শরীরের কোথাও জখমের চিহ্ন পাওয়া যায়নি।
তুলির ভাই মোহাইমিনুল ইসলাম বৃহস্পতিবার সাংবাদিকদের বলেন, আমি যশোরে ছিলাম। আপুর ঘটনা শুনে ঢাকায় এসেছি। মৃত্যুর আগে তার সঙ্গে নানা বিষয় নিয়ে কথা হয়েছে। কিন্তু তিনি এভাবে সিদ্ধান্ত নেবেন তা বুঝতেও পারিনি।
তুলি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের গণযোগাযোগ ও সাংবাদিকতা বিভাগের অনার্স ২০০২-০৩ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী ছিলেন। তিনি ঐ বিভাগ থেকে মাস্টার্স শেষ করার পর দৈনিক আমাদের সময় পত্রিকায় সাব-এডিটর হিসাবে যোগদান করেন। ২০১০ সালে তিনি দৈনিক কালের কণ্ঠে সাব-এডিটর হিসেবে চাকরি করেন। ২০১৬ সালে তিনি অনলাইন পোর্টাল বাংলা ট্রিবিউনে যোগ দেন।
পরে ২০২১ সালে বাংলা ট্রিবিউনের চাকরি ছেড়ে দিয়ে মোহাম্মদপুরের একটি বেসরকারি সংস্থায় প্রকল্প কর্মকর্তা হিসাবে যোগদান করেন। এর পাশাপাশি মনোহর নামে একটি মশলা বিক্রির অনলাইন শপ খুলে নারী উদ্যোক্তা হিসেবে আত্মপ্রকাশ করেছিলেন। বেসরকারি সংস্থায় চাকরি তার ভালো লাগছিল না। এর পাশাপাশি অনলাইন শপে কয়েক লাখ টাকা বিনিয়োগ করে তিনি লাভের মুখ দেখতে পারেননি।