নগরবাসী ঈদের আনন্দ স্বজনদের সঙ্গে কাটাতে ভিড় জমিয়েছন রাজধানীর বিভিন্ন বিনোদন কেন্দ্রগুলোতে। শনিবার সকাল থেকেই ঢাকা শিশুপার্ক, জাতীয় চিড়িয়াখানাসহ নগরীর বিনোদনকেন্দ্রগুলোয় ভিড় জমাতে শুরু করে দর্শনার্থীরা। বেলা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে দর্শনার্থীদের সংখ্যাও বাড়তে থাকে। কেউ এসেছেন পরিবার নিয়ে, আবার কেউবা বন্ধু-বান্ধবের সঙ্গে ঘুরতে এসেছেন।
ঢাকা শিশুপার্কের ফটক খোলা হয় বেলা ১০টার দিকে। শুরু থেকেই দর্শনার্থীরা ভিড় করেন সেখানে। দুপুরের পর ভিড় আরও বাড়ে। ছেলে-মেয়েদের আবদার মেটাতেই সকাল সকাল শিশুপার্কে চলে এসেছেন অনেকেই।
দর্শনার্থীদের একজন বলেছেন, বাচ্চারা তেমন একটা কাছে পায় না। সারাদিনই দোকানে পড়ে থাকে। এজন্য ঈদের ছুটি পেয়েই মেয়েরা ব্যস্ত হয়ে পড়েছে বের হওয়ার জন্য। এজন্যই চলে আসলাম। এখানে ঘুরে আরও দুয়েক জায়গায় যাবো।
শিশুপার্কের টিকেট কাউন্টারের বিক্রেতারা বলেছেন, বেলা সোয়া ২টা পর্যন্ত পার্কে প্রায় ১০ হাজারের মতো দর্শনার্থী এসেছেন। এ সংখ্যা একলাখের কাছাকাছি হতে পারে।
রোববার শিশু পার্কের সাপ্তাহিক ছুটি। তবে ঈদ উপলক্ষে আগামীকাল পার্ক খোলা থাকবে বলে জানিয়েছে শিশুপার্ক কর্তৃপক্ষ।
মিরপুরের জাতীয় চিড়িয়াখানাও বেলা ১০টায় খোলা হয়। শুরু থেকেই দর্শনার্থীমুখর ছিল চিড়িয়াখানা এলাকা। দুপুরের পর চিড়িয়াখানা এলাকা দর্শনার্থীতে পূর্ণ হয়ে যায়। প্রতিটি প্রাণির খাঁচার সামনেই ভিড় দেখা গেছে। বাবা-মার হাত ধরে চিড়িয়াখানা ঘুরে দেখছে শিশুরা।
মিরপুর ৭ নম্বর সেকশন থেকে বাবার সঙ্গে চিড়িয়াখানায় এসেছে সানজিদা ইসলাম মনি। প্রথম শ্রেণির এই শিক্ষার্থী জানায়, ঘুরতে এসে খুব মজা পেয়েছে সে।
“বাঘ দেখেছি, হরিণ দেখেছি, বক দেখেছি। আরও অনেক কিছু দেখেছি। আজকে ঈদের দিন তো তাই বেড়াতে আসছি। খুব মজা হয়েছে।”
ঈদের দিন শনিবার ঢাকা শিশু পার্কে পরিবারের সাথে আসা শিশুরা। ছবি: আসিফ মাহমুদ অভি ঈদের দিন শনিবার ঢাকা শিশু পার্কে পরিবারের সাথে আসা শিশুরা। ছবি: আসিফ মাহমুদ অভি স্ত্রী-সন্তান নিয়ে বেলা ১১টার দিকে চিড়িয়াখানায় এসেছিলেন মোহাম্মদপুরের বাসিন্দা মঈনুল কবির। তিনি বলেন, আজকের আবহাওয়া বেড়ানোর জন্য খুবই ভালো ছিল।
“আজকের আবহাওয়াটা ভালো, গরম নেই। সকালের দিকে এসেছি, এখনও ঘুরছি। বাচ্চারা বেশ খুশি হয়েছে। এখানকার ব্যবস্থাপনাও এবার ভালো মনে হয়েছে।”
ঢাকা চিড়িয়াখানার কিউরেটর মো. নজরুল ইসলাম বলেন, বেলা সোয়া ৪টা পর্যন্ত প্রায় সত্তর হাজার লোক হয়েছে। সূর্যাস্ত পর্যন্ত খোলা থাকবে চিড়িয়াখানা, সেক্ষেত্রে দর্শনার্থী সংখ্যা আরও বাড়বে। ”
রোববারও চিড়িখানা খোলা থাকবে বলে জানান তিনি।
ঈদের নামাজের পরপরই হাতিরঝিলের বিভিন্ন স্থানে জড়ো হয় নানা শ্রেণিপেশার মানুষ। এখানকার ফুডকোর্ট ছাড়াও বাইরের খাবারের দোকানগুলোয় ভিড় করে তারা। হাতিরঝিলের ওয়াটার বাস এবং এবং প্যাডেল নৌকার টিকেট কাউন্টারের সামনেও দর্শনার্থীদের দীর্ঘ লাইন দেখা গেছে।
স্ত্রী-সন্তানকে নিয়ে হাতিরঝিলে বেড়াতে এসেছেন রামপুরা তিতাস রোড এলাকার সবজি বিক্রেতা কাজল মিয়া।
তিনি বলেন, “বেশি ঘুরাঘুরি করার সুযোগ তো পাই না, সময়ও অয় না। আইজা চান্স পাইয়া আইসা পড়লাম। মাইয়া দুইটা তো খুব খুশি হইছে।”
বন্ধুদের সঙ্গে মোটরসাইকেলে ঘুরতে বেড়িয়েছেন নতুন বাজারের মোহাম্মদ খোকন। তিনি বলেন, ঈদের ফাঁকা শহরে ঘুরতে ভালো লাগে।
“অন্য সময় তো যানজটের জন্য রাস্তায়ই বের হওয়া যায় না। আজ সেই সমস্যা নাই। এখন পর্যন্ত অনেক জায়গা ঘুরছি। হাতিরঝিলে ঘুরা শেষ করে আরও অনেক জায়গায় যাব বেশ মজা লাগছে।