অনলাইন ডেস্ক : এক গবেষণা-নিবন্ধে মনোবিদ জাস্টিন ল্যাভনার ও তাঁর গবেষণা সহযোগীরা জানাচ্ছেন, তাঁরা ১৬৯টি সদ্যবিবাহিত দম্পতিকে পর্যবেক্ষণ করেছেন এবং দেখেছেন পরিবর্তনের চরিত্র কেমন।
এদেশের ছেলেদের মায়েদের এক কমন দাবি, ছেলে বিয়ের পরেই বদলে গেল— এই তথ্য আংশিক হলেও সত্য। আর বন্ধুরা তো বলেই থাকে— বিয়ের পরে সে বদলে গেল। আর তাকে আড্ডায় পাওয়া যায় না। কিন্তু, সত্যিই কি বিয়ের পরে বদলে যায় মানুষ? সেই বদলের চরিত্র ঠিক কেমন?
এই সব প্রশ্নের উত্তর খুঁজতে চেয়েছিলেন মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের জর্জিয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের মনোবিজ্ঞান বিভাগের গবেষকরা। সম্প্রতি ‘জার্নাল অফ ডেভেলপমেন্টাল সাইকোলজি’-তে প্রকাশিত এক গবেষণা-নিবন্ধে মনোবিদ জাস্টিন ল্যাভনার ও তাঁর গবেষণা সহযোগীরা জানাচ্ছেন, তাঁরা ১৬৯টি সদ্যবিবাহিত দম্পতিকে পর্যবেক্ষণ করেছেন। এই দম্পতিদের মধ্যে পুরুষদের বয়স ২৫-২৬ বছর, মহিলাদের বয়স ২৩-২৪ বছর। তাঁরা এঁদের প্রথমে কিছু প্রশ্ন করেন, তার ৬ মাস পরে আবার তাঁদের সঙ্গে দেখা করে দ্বিতীয় দফার প্রশ্নগুলি করেন এবং তারও ১ বছর পরে গিয়ে তাঁদের তৃতীয় দফার প্রশ্নগুলি করেন।
বিয়ের ১৮ মাস পরে দেখা যায়, স্বামীদের ব্যক্তিত্বে লক্ষণীয় পরিবর্তন ঘটেছে। স্বামী ও স্ত্রীর মধ্যে মতের মিল কমে এসেছে। স্বামীরা একলা থাকতে বেশি পছন্দ করছেন। স্ত্রীদের খোলামেলা ভাব কমে এসেছে। এই পরিবর্তনগুলি অবশ্য সকলের ক্ষেত্রে একই মাত্রায় ঘটেনি। শিক্ষা, আয়, এথনিক প্রেক্ষিত ইত্যাদি ভেদ অবশ্যই কাজ করেছে। কিন্তু কোথাওই এগুলি পরিবর্তনের অন্তরায় হয়ে দাঁড়ায়নি।
দেখা গিযেছে, বিয়ের পরে স্বামী ও স্ত্রীর মধ্যে পরিতৃপ্তির ভাব কমে এসেছে। এঁদের মধ্যে কেউ কেউ দ্বিতীয় বা তৃতীয় স্তরের সমীক্ষার সময়ে বাবা-মা হয়েছেন। তাঁদের ক্ষেত্রে অবশ্য আলাদা করে কোনও পরিবর্তন নজরে পড়েনি সমীক্ষকদের। তবে, সব সময়েই যে পরিবর্তনগুলি নেতিবাচক হয়েছে, এমন নয়। বিয়ের পরে অনেকের মধ্যেই অনুভূতি শেয়ার করার প্রবণতাও বেড়েছে বলে জানিয়েছেন গবেষকরা।