দিবাকর সরকার, কলাপাড়া প্রতিনিধি : কলাপাড়ায় ঘন ঘন বিদ্যুৎ যাওয়া আসার ফলে অতিষ্ট হয়ে পড়েছে সাধারন গ্রাহকরা। সকাল থেকে শুরু করে গভীর রাত পর্যন্ত একাধিকবার বিদ্যুৎ যাওয়া আসায় বিপর্যয়ের মুখে পড়েছে কলকারখানাসহ বিদ্যুৎ নির্ভরশীল ব্যবসা প্রতিষ্ঠানগুলো।
তীব্র দাবদাহ যতই তীব্রতর হয়, বিদ্যুৎ বিকল্পহীন মানুষগুলো ততই বিদ্যুৎ সংকটে ভুগে।
তাপমাত্রা বাড়ার সাথে সাথে যখন প্রায় অর্ধসিদ্ধ হয়ে ওঠে শহরের জীবনযাত্রা। ঠিক তখনই চলে যায় বিদ্যুৎ।
সকালে কয়েক ঘন্টা বিদ্যুৎ গিয়ে শুরু হয় প্রথম ধাপ, পরে দ্বিতীয় ধাপে দুপুরেও থাকেনা কয়েক ঘন্টা । এরপর রাতে নেয়া দুই অথবা তিনবার। এভাবে চলতে থাকে বিদ্যুৎ দেয়া নেয়ার খেলা। আর এভাবে বিদ্যুৎ যাওয়া আসার ফলে ছোট পরিসরে বসবাসরত বিদ্যুৎ নির্ভরশীল ঘন বসতীর অসহায় মানুষগুলো বিভিন্ন রোগে আক্রান্ত হচ্ছে।
বিশেষ করে পাখা না ঘোরার ফলে শিশুরা সর্দি জ্বরসহ বিভিন্ন রোগে আক্রান্ত হচ্ছে। অনেক সময় বিদ্যুৎ বিপর্যয়ের ফলে পানির সংকট দেখা দেয়। তখন দুপুরের গোসল সারতে হয় রাতে। এ ছাড়া বিদ্যুৎ সংকটে ব্যাহত হচ্ছে ছোট বড় শিল্প-কারখানার উৎপাদন, ব্যবসা-বানিজ্য, লেখাপড়া, এমনকি হাসপাতালের চিকিৎসাসেবা। অনেক ব্যবসায়ী বিদ্যূতের এ ভেলকিবাজিতে তাদের প্রতিষ্ঠান বন্ধ রাখতে বাধ্য হচ্ছেন। বিশেষ করে মৎস্য বন্দর মহিপুর, আলীপুরের বরফকল মালিকরা বিদ্যুৎ বিপর্যয়ে ব্যাপক অর্থ লোকসান দিচ্ছেন। পটুয়াখালী পলøী বিদ্যুৎ এর কলাপাড়া জোনের ৩৩ হাজার গ্রাহকরা এখন ঘন ঘন লোডসেডিংয়ের পরিত্রান খুজে বেড়াচ্ছেন।
কলাপাড়া পৌর শহরের গ্রাহক রহমান মিয়া জানান, পলøী বিদ্যুতের কার্যক্রমে আমরা সাধারন গ্রাহকরা খুবই অতিষ্ঠ। কোন রকমের আকাশে বিদ্যুৎ চমকালে কিংবা একটু বাতাসের চাপ দেখলেই বিদ্যুৎ চলে যায়। পৌর শহরের আরেক ব্যবসায়ী সালাম বলেন, গত প্রায় চার পাঁচ দিন ধরে বার বার বিদ্যুৎ যাওয়া আসার ফলে আমাদের ব্যবসায়ীদের অনেক লোকসানের মুখে পড়তে হচ্ছে।
কলাপাড়া পলøী বিদ্যুৎ সমিতির ডিজিএম আহসান কবির জানান, পটুয়াখালীর গ্রীডে একটু সমস্যা হয়েছে। মেরামতের কাজ চলছে। তবে অল্প সময়ের মধ্যেই সমস্যা সমাধান হবে।