দিবাকর সরকার, কলাপাড়া প্রতিনিধি: এইচএসসি পরীক্ষার ফলাফল প্রকাশ হওয়ার পর পটুয়াখালীর কলাপাড়ায় ফলাফল বিপর্যয়ে হতাশ অভিভাবক, শিক্ষক ও শিক্ষার্থীরা।
পটুয়াখালীর কলাপাড়া উপজেলার ছয়টি কলেজে এবছর এইচ.এস.সি পরীক্ষায় মোট ১১৬৫ জন পরীক্ষার্থী অংশগ্রহণ করে পাশ করেছে ৫৮৯ জন, পাশের হার ৫০.৫৬%  এবং জিপিএ-৫ পেয়েছে মাত্র ৪ জন।

এরমধ্যে পাশের হারের দিক থেকে সবার উপরে রয়েছে কলাপাড়া মহিলা ডিগ্রী কলেজ । এ কলেজ থেকে ১ জন জিপিএ-৫ সহ ১৭১ পরীক্ষার্থীর মধ্যে ৯৬ জন উত্তীর্ন হয়েছে। পাশের হার ৫৬ দশমিক ১৪ ভাগ।

কুয়াকাটা খানাবাদ কলেজে থেকে জিপিএ-৫ পেয়েছে ৩ জন। ২৯৬ পরীক্ষার্থীর মধ্যে ১৫১ জন উত্তীর্ন হয়েছে। পাশের হার ৫১ দশমিক ১৯ ভাগ।

মোজাহার উদ্দিন বিশ্বাস অনার্স কলেজ থেকে ২৫৭ পরীক্ষার্থীর মধ্যে উত্তীর্ন হয়েছে ১৩৮ জন। পাশের হার ৫৩ দশমিক ৭০ ভাগ।

আলহাজ্ব জালাল উদ্দিন কলেজে থেকে ১৯৫ পরীক্ষার্থীর মধ্যে ৯৯ জন উত্তীর্ন হয়েছে। পাশের হার ৫০ দশমিক ৭৭ ভাগ।

ধানখালী ডিগ্রী কলেজ থেকে ৯৬ জন পরীক্ষার্থীর মধ্যে ৪৮ জন উত্তীর্ন হয়েছে। পাশের হার ৫০ ভাগ।

মুক্তিযোদ্ধা মেমোরিয়াল কলেজ থেকে ১৫১ জন পরীক্ষার্থীল মধ্যে ৫৭ জন উত্তীর্ন হয়েছে। পাশের হার ৩৭ দশমিক ৭৫ ভাগ।

এবারে পাশের হারের দিক থেকে সব চেয়ে পিছিয়ে আছে মহিপুর থানার মুক্তিযোদ্ধা মেমোরিয়াল ডিগ্রী কলেজ। কলাপাড়ায় ছয়টি কলেজের মধ্যে চার কলেজ থেকে কেউই জিপিএ-৫ পায়নি।

কলেজ অধ্যক্ষ মোঃ কলিম উল্লাহ বলেন, কলেজের টেস্ট পরীক্ষায় শিক্ষার্থীরা ভালো ফলাফল করলেও মাত্র ৩৭ শতাংশ পাশ করায় তাঁরা হতাশ ও চিন্তিত। এ বিপর্যয়ের কারণ হিসেবে তিনি অভিযোগ করে আরও বলেন, কুয়াকাটা খানাবাদ কলেজ কেন্দ্রে তাঁদের কলেজের ছাত্রদের নৈর্ব্যক্তিক উত্তরপত্র কর্তন হতে পারে। পরীক্ষার হলে দায়িত্বরত শিক্ষকরা এ কাজ করেছে বলে তিনি ধারণা করেছেন।

কুয়াকাটা খানাবাদ কলেজের অধ্যক্ষ সি.এম সাইফুর রহমান খান এ অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, যেখানে সিসি ক্যামেরার আওতায় পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হয়েছে, সেখানে কী করে শিক্ষকরা উত্তরপত্র কর্তন করবে? তিনি উল্টো অভিযোগ করে বলেন, মুক্তিযোদ্ধা মেমোরিয়াল ডিগ্রি কলেজ পরীক্ষা কেন্দ্রে তাঁদের কলেজের পরীক্ষার্থীদের উত্তরপত্র টানাটানি করেছে এবং পদার্থ বিজ্ঞান পরীক্ষায় ক্যালকুলেটর ব্যবহার করতে দেয়নি। এজন্য বিজ্ঞান বিভাগের ৫৬ জন পরীক্ষার্থীর মধ্যে পাশ করেছে মাত্র ২২ জন।

কলাপাড়া মহিলা ডিগ্রী কলেজের অধ্যক্ষ আবু সাঈদ জানান, কলেজ প্রতিষ্ঠার পর এবারে ফলাফলের দিক দিয়ে এগিয়ে থাকায় অভিবাবক, কলেজ পরিচালনা পরিষদ,শিক্ষক,সহ সকলকে অভিন্দন ও ধন্যবাদ জানিয়েছেন। এবং এ অনুপ্ররেণা কাজে লাগিয়ে আগামীতে আরো ভালো ফলাফল করার আশা প্রকাশ করেন।