বুধবার এক বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানায় বাংলাদেশ মুঠোফোন গ্রাহক অ্যাসোসিয়েশন।
বিজ্ঞপ্তির তথ্যমতে, গত ২ মার্চ রাজবাড়ীর কালুখালীতে হোসেন (১৬) নামে এক কিশোর রেল ব্রিজের ওপর দাঁড়িয়ে টিকটক ভিডিও বানাতে গিয়ে রেলেকাটা পড়ে মারা যান।
৮ মে নড়াইলের কালিয়ায় টিকটক করতে বাধা দেওয়ায় মায়ের সঙ্গে অভিমান করে কীটনাশক পানে আত্মহত্যা করেন সুমি আক্তার (১৯)। ১৬ মে চুয়াডাঙ্গার আলমডাঙ্গার শহরের লাল ব্রিজের অদূরে হৃদয় (১৫) নামে এক কিশোর টিকটক ভিডিও বানাতে গিয়ে ট্রেনে কাটা পড়ে। ২২ মে নীলফামারীর সৈয়দপুরে টিকটক করতে গিয়ে নদীতে ডুবে মৃত্যু হয় মুস্তাকিম ইসলাম (১৬) নামে এক কিশোরের।
৮ জুলাই নোয়াখালীর চাটখিলে টিকটক ভিডিও বানানোর সময় অসাবধানতাবশত পা পিছলে গেলে সানজিদা আক্তার নামে (১১) এক শিশুর মৃত্যু হয়। ১১ জুলাই কুমিল্লায় চলন্ত ট্রেনের ছাদে টিকটক করতে গিয়ে পা পিছলে মেহেদী হাসান (১৫) নামে এক কিশোরের মৃত্যু হয়।
এছাড়া গত বছর ২০ নভেম্বর নারায়ণগঞ্জে টিকটক ভিডিও বানাতে গিয়ে নির্মাণাধীন তিনতলার ছাদ থেকে পড়ে অনিল (১৪) নামে এক কিশোরের মৃত্যু হয়। ২০১৯ সালের মার্চ মাসে টিকটক ভিডিও আপলোডকে কেন্দ্র করে অষ্টম শ্রেণির ছাত্র আরাফাত খুন হন।
শুধু তাই নয়, টিকটক ভিডিও তৈরির প্রলোভনে তরুণী পাচার, টিকটকের ফাঁদে ফেলে ধর্ষণ ও টিকটকের কারণে পাড়া মহল্লায় কিশোর গ্যাং গড়ে উঠেছে।
বিজ্ঞপ্তিতে আরো বলা হয়, মৃতদের মধ্যে অধিকাংশই কিশোর-কিশোরী। সবার মৃত্যুর সঠিক কারণ নির্ণয় না হওয়া এবং প্রকাশ না পাওয়ায় তাদের নাম-পরিচয় তুলে ধরা হচ্ছে না।
সংগঠনটির সভাপতি মহিউদ্দিন আহমেদ বলেন, টিকটকের কারণে এসব মৃত্যু হলেও প্রতিষ্ঠানটির বিরুদ্ধে বাংলাদেশে কেউ মামলা করেননি। টিকটক বাংলাদেশের লাইসেন্সধারী কোনো প্রতিষ্ঠান নয়। সরকার এর থেকে কোনো রাজস্বও পায় না। তাই উচ্চপর্যায়ের একটি তদন্ত কমিটি গঠন করে টিকটকের বিরুদ্ধে ক্ষতিপূরণসহ প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয়া আমাদের দাবি।