অনলাইন ডেস্ক :

এক কিশোরীকে ধর্ষণের মামলায় ভারতের স্বঘোষিত গডম্যান আসারাম বাপুকে দোষী সাব্যস্ত করেছেন দেশটির জোধপুরের তফসিলি জাতি-জনজাতি আদালত। এই রায়ের বিরুদ্ধে হাইকোর্টে আপিল করা হবে বলে তার আশ্রমের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে। মামলায় আসারামসহ পাঁচ জন অভিযুক্তের মধ্যে দু’জনকে বেকসুর খালাস দেওয়া হয়েছে।

আইনজীবীদের ধারণা, ৭৭ বছরের আসারামের সর্বোচ্চ ১০ বছরের কারাদণ্ড হতে পারে। রায় ঘোষণার পর মুখ খুলেছেন ধর্ষিতা কিশোরীর বাবা। তিনি বলেছেন, অবশেষে ন্যায় বিচার মিলেছে। আশা করি, আসারামের কঠোর সাজা হবে।

এ রায়কে কেন্দ্র করে বিশেষ সতর্কতা জারি করা হয়েছে ভারতের তিন রাজ্য রাজস্থান, গুজরাত ও হরিয়ানায়। গত বছর হরিয়ানার বিতর্কিত ধর্মগুরু গুরমিত রাম রহিমের শাস্তি ঘোষণার পর পরিকল্পিত দাঙ্গায় ৩৬ জন নিহত হয়। নষ্ট হয় ২০০ কোটি টাকার সম্পত্তি।

দেশটিতে আসারাম বাপুর চার শতাধিক আশ্রম রয়েছে। কোটি-কোটি টাকার সম্পত্তি। রয়েছে বিশাল ভক্তকুল। এ কারণেই এমন সতর্কতা। গুরমিত রাম রহিমের ক্ষেত্রে যেমনটি হয়েছিল— এক্ষেত্রেও আদালত বসেছে জেলের মধ্যেই। কড়া নিরাপত্তায় মুড়ে ফেলা হয় জেল চত্বর। রায় ঘোষণার আগে গ্রেফতার করা হয় তার ৬ ভক্তকে।

অশুভ শক্তির হাত থেকে মুক্তি দেওয়ার নামে আশ্রমে নিয়ে গিয়ে উত্তরপ্রদেশের শাহজহানপুরের ১৬ বছরের এক কিশোরীকে ধর্ষণের অভিযোগে ২০১৩ সালে গ্রেফতার করা হয় আসারামকে। এর পর থেকে জেলেই রয়েছে। ১২ বার জামিনের আবেদন করেছেন তিনি। প্রতিবারই আবেদন খারিজ হয়েছে।

গুজরাতের সুরাতেও আসারাম ও তার ছেলের বিরুদ্ধে ধর্ষণের অভিযোগ এনেছেন দুই বোন। আসারামের বিচার শুরু হওয়ার পর থেকে গত চার বছরে এই দুই মামলার ৯ জন সাক্ষীর ওপর হামলা হয়েছে। মারা গেছেন ৩ জন।

আসারামের রায়কে কেন্দ্র করে তার সমর্থকরা যাতে কোনো সহিংসতা ঘটাতে না পারে এজন্য ৩০ এপ্রিল পর্যন্ত জোধপুর জুড়ে ১৪৪ ধারা জারি হয়েছে। শহরে সব বাস টার্মিনাস ও রেল স্টেশনে নজরদারি বাড়ানো হয়েছে। শহরের বাইরে পল রোডে আসারামের আশ্রম। নাশকতার আশংকায় সেটিও ফাঁকা করে দেওয়া হয়েছে। সূত্র: এনডিটিভি।