অনলাইন ডেস্ক : সিগারেট (ফাইল ছবি)বিড়ির দাম অপরিবর্তিত রেখে আর সিগারেটের দাম বাড়িয়ে ন্যূনতম মূল্য নির্ধারণের প্রস্তাব করেছেন অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিত। বৃহস্পতিবার (৭ জুন) জাতীয় সংসদে ২০১৮-১৯ অর্থবছরের প্রস্তাবিত বাজেট বক্তৃতায় তিনি এই তথ্য জানিয়েছেন। এতে সভাপতিত্ব করেন স্পিকার ড. শিরীন শারমিন চৌধুরী।
অর্থমন্ত্রী নিম্নস্তরের সিগারেটের ন্যূনতম দাম ৩২ টাকা রাখার পক্ষে। এর সঙ্গে সম্পূরক শুল্ক যোগ হবে ৫৫ শতাংশ। মধ্যম স্তরের ১০টি সিগারেটের ন্যূনতম দাম তিনি প্রস্তাব করেছেন ৪৮ টাকা। এর সঙ্গে সম্পূরক শুল্ক যোগ হবে ৫৫ শতাংশ। আর উচ্চস্তরের ১০টি সিগারেটের নূন্যতম দাম ৭৫ ও ১০১ টাকা রাখা হচ্ছে। এর সঙ্গে সম্পূরক শুল্ক যোগ হবে ৬৫ শতাংশ। তার ইচ্ছে, আগামী দিনে লক্ষ্যমাত্রা নিম্নস্তরের সিগারেটের ন্যূনতম দাম ৭৫ টাকায় উন্নীত করা। এর সঙ্গে তিনি সম্পূরক শুল্ক যোগ করতে চান ৬৫ শতাংশ।
মন্ত্রীর ভাষ্য, ‘বিড়ির ভয়াবহতা সিগারেটের চেয়ে বেশি। বর্তমান আর্থ-সামজিক উন্নয়নের কারণে বিড়ির ব্যবহার কমে যাচ্ছে। এ খাতে নিয়োজিত শ্রমিকের সংখ্যা আগের তুলনায় কমছে। গত বছর বলেছিলাম, ২-৩ বছরের মধ্যে দেশে থেকে বিড়ি উৎপাদন বন্ধ হয়ে যাবে। কিন্তু প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ২০৪০ সালে দেশ থেকে তামাক নিঃশেষের সীমানা নির্ধারণ করেছেন। তাই বিড়ির উৎপাদন ২০৩০ সালে ও সিগারেটের উৎপাদন ২০৪০ সালে নিঃশেষ করার সিদ্ধান্ত নিয়েছি আমরা। তাই এবার বিড়ির মূল্য বৃদ্ধি পাচ্ছে না। তবে ফিল্টারযুক্ত বিড়ির ক্ষেত্রে ২০ শলাকার প্যাকেটের মূল্য ১২-১৫ টাকা করা হয়েছে।’

বর্তমান শুল্ক কাঠামো অনুযায়ী ফিল্টারযুক্ত ১০ শলাকার বিড়ি করসহ মূল্য ৬ টাকা থেকে বাড়িয়ে ৭ টাকা ৫০ পয়সা, ২০ শলাকার প্রতি প্যাকেট বিড়ি করসহ মোট মূল্য ১২ টাকা থেকে বাড়িয়ে ১৫ টাকা করা হয়েছে। অর্থমন্ত্রী বলেন, ‘বিড়ি-সিগারেটের মতো স্বাস্থ্যের জন্য ক্ষতিকর জর্দা ও গুল। এক্ষেত্রে প্রতি ১০ গ্রাম জর্দা ও গুলের ন্যূনতম মূল্য ২৫ টাকা নির্ধারণের প্রস্তাব করেছি। এর সঙ্গে সম্পূরক শুল্ক যোগ হবে ৬৫ শতাংশ।’

আওয়ামী লীগের নেতৃত্বাধীন সরকারের দ্বিতীয় মেয়াদের পঞ্চম বাজেট এটি। বৃহস্পতিবার দুপুর ১টায় ৪ লাখ ৬৪ হাজার ৫৭৩ কোটির বাজেট উপস্থাপন শুরু করেন অর্থমন্ত্রী। এর মধ্যে রাজস্ব আয়ের লক্ষ্য ২ লাখ ৯৬ হাজার ২০১ কোটি টাকা।

বিড়ি উৎপাদনের কারখানা (ছবি: সংগৃহীত)বৃহস্পতিবার দুপুর সাড়ে ১২টার পর প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সভাপতিত্বে জাতীয় সংসদ ভবনে মন্ত্রিপরিষদের বৈঠকে ২০১৮-১৯ অর্থবছরের জন্য এই বাজেট অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। এরপর মন্ত্রিসভায় অনুমোদন পাওয়া প্রস্তাবিত বাজেটে সম্মতিসূচক স্বাক্ষর করেন রাষ্ট্রপতি মো. আবদুল হামিদ।

এবারের বাজেটে মোট রাজস্ব প্রাপ্তি ও বৈদেশিক অনুদান ৩ লাখ ৩৯ হাজার ২৮০ কোটি টাকা। এর মধ্যে জাতীয় রাজস্ব বোর্ড কর্তৃক রাজস্ব প্রাপ্তির লক্ষ্যমাত্রা ২ লাখ ৯৬ হাজার ২০১ কোটি টাকা। এনবিআর বহির্ভূত কর ৯ হাজার ৭২৭ কোটি টাকা। কর ব্যতিত রাজস্ব প্রাপ্তি ৩৩ হাজার ৩৫২ কোটি টাকা। বৈদেশিক অনুদান ৪ হাজার ৫১ কোটি টাকা। এডিপি ধরা হয়েছে ১ লাখ ৭৩ হাজার কোটি টাকা ও ঘাটতি ১ লাখ ২১ হাজার ২৪২ কোটি টাকা। এদিকে নিট ঋণ ধরা হয়েছে ৫০ হাজার ১৬ কোটি টাকা এবং অভ্যন্তরীণ ঋণ ৭১ হাজার ২২৬ কোটি টাকা।

বাজেটে জিডিপি অর্জনের লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছে ৭ দশমিক ৮ শতাংশ। মূল্যস্ফীতি ৫ দশমিক ৬ শতাংশে রাখার প্রত্যাশা রয়েছে অর্থমন্ত্রীর। বাজেটে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে বিদ্যুৎ খাতে।

নতুন বাজেটের আকার ২০১৭-১৮ অর্থবছরের মূল বাজেটের তুলনায় ৬৪ হাজার ৩০৭ কোটি টাকা বেশি। আর ২০১৭-১৮ অর্থবছরের সংশোধিত বাজেটের তুলনায় এর আকার ৯৩ হাজার ৭৮ কোটি টাকা বেশি। ২০১৭-১৮ অর্থবছরের মূল বাজেটের আকার চার লাখ ২৬৬ কোটি টাকা, সংশোধিত বাজেটের আকার তিন লাখ ৭১ হাজার ৪৯৫ কোটি টাকা।

নতুন বাজেটে ঘাটতি মেটাতে অর্থমন্ত্রী বৈদেশিক উৎস থেকে মোট ঋণ নেওয়ার লক্ষ্যমাত্রা ঠিক করেছেন ৬০ হাজার ৫৮৫ কোটি টাকা। সেখান থেকে ১০ হাজার ৫৬৯ কোটি টাকা বিদেশি ঋণ পরিশোধ বাবদ খরচ হবে। সরকারের নিট বৈদেশিক ঋণের পরিমাণ দাঁড়াবে ৫০ হাজার ১৬ কোটি টাকা। ঘাটতির বাকি ৭১ হাজার ২২৬ কোটি টাকা নেওয়া হবে অভ্যন্তরীণ উৎস থেকে। এর মধ্যে ব্যাংক থেকে ঋণ নেওয়া হবে ৪২ হাজার ২৯ কোটি টাকা, সঞ্চয়পত্র থেকে নেওয়া হবে ২৬ হাজার ১৯৭ কোটি টাকা। বাকি ৩ হাজার কোটি টাকা আসবে অন্যান্য উৎস থেকে।