অনলাইন ডেস্ক : বৃদ্ধা মাকে ঘরে আটকে স্ত্রীর সঙ্গে এক ব্যক্তির শ্বশুরবাড়ি যাওয়ার ঘটনায় তোলপাড় শুরু হয়েছে ভারতে।
চব্বিশ পরগনার দক্ষিণ রবীন্দ্রনগরের ক্ষুদিরাম সরণির ওই ঘটনায় বুধবার রাতে বৃদ্ধাকে উদ্ধার করা হয়েছে।
আনন্দবাজার পত্রিকা বলছে, খাবার বলতে এক বোতল জল আর চারখানা বিস্কুট। দরজা-জানলা যেভাবে বন্ধ, তাতে কারও দৃষ্টি তো দূর, আলো-বাতাসও ঢুকতে পারবে না। আশি বছরের বৃদ্ধা মাকে তিন দিনের জন্য ওই অবস্থায় রেখে জামাইষষ্ঠী নিমন্ত্রণে স্ত্রীর সঙ্গে কালিকাপুরে শ্বশুরবাড়িতে গিয়েছিলেন ছেলে।
বুধবার রাতে বৃদ্ধাকে উদ্ধার করার পরে সব শুনে স্তম্ভিত দমদমের বেদিয়াপাড়ার বাসিন্দারা। তিন কাঠা জমির ওপরে নিজের বাড়ি ছিল বৃদ্ধা শোভারানি দাসের। ওই বাড়িতে প্রোমোটিং হওয়ায় ছোট ছেলে ভবনাথ দাস ও বৌমা শ্যামলী দাসের সঙ্গে বেদিয়াপাড়ার আর এন ঠাকুর রোডের একটি বাড়ির একতলায় ভাড়া থাকেন তিনি।
প্রতিবেশী এক নারী জানান, গত তিন দিন ধরে মাঝেমধ্যেই দরজা-জানলায় ধাক্কা মারার আওয়াজ পাচ্ছিলেন তারা। কিন্তু সেই আওয়াজ যে পাশের বাড়ির বৃদ্ধা করছেন, তা প্রথমে বুঝতে পারেননি কেউ।
সদর দরজায় বাইরে থেকে তালা ঝোলানো। শোভারানি যাতে জানলা খুলতে না পারেন, তার জন্য ভিতরের একটি জানলা ছিটকিনির পাশাপাশি চেন-তালা দিয়ে লাগানো ছিল। আর একটি জানলা কাঠের বিম দিয়ে সিল করে দিয়েছিলেন পেশায় অটোচালক ভবনাথ।
আনন্দবাজারের প্রতিবেদনে বলা হয়, এই পরিস্থিতিতে বুধবার রাত সাড়ে আটটার দিকে বৃদ্ধার কান্নার আওয়াজ শুনে বিচলিত হয়ে পড়েন প্রতিবেশীরা। পরে তারাই দরজার তালা ভেঙে শোভারানিকে উদ্ধার করেন। রাত ১০টার দিকে দমদম পুর হাসপাতালে ভর্তি করানো হয় তাকে।
হাসপাতালের বিছানায় বসে বৃদ্ধা বলেন, যখন শ্বশুরবাড়ি যাচ্ছিল, ছেলেকে বললাম, চার দিন ধরে ভাত খাইনি, একটু ভাত দিয়ে যা। ভাত ছিল না। তখন বললাম একটু মুড়ি দিতে। চোখে তো দেখতে পাই না। একটু পরে বুঝলাম, মুড়িও নেই। শুধু এক বোতল জল আর চারটে বিস্কুট দিয়ে গিয়েছে।
স্থানীয় বাসিন্দা শিখা রায় বললেন, যাতে শৌচাগারে যেতে না হয়, তার জন্য সোম ও মঙ্গলবারের ওই অস্বাভাবিক গরমেও মাত্র এক বোতল জল দিয়ে গিয়েছিল। নিজের মায়ের সঙ্গে কেউ এমন ব্যবহারও করতে পারে!
স্থানীয় বাসিন্দাদের রোষের মুখে ভুল স্বীকার করে নিয়েছেন ভব ও তার স্ত্রী। তবে নিজেদের নির্দোষ প্রমাণে যুক্তি দিতে ছাড়েননি তারা। ছেলের বক্তব্য, জানলা খোলা থাকলে মা মলত্যাগ করে কাগজে মুড়ে বাইরে ছোড়েন। তাই মাকে নিয়ে প্রতিবেশীরা যাতে অসুবিধায় না পড়েন, সেই জন্যই ওই ভাবে রেখে গিয়েছিলাম।
বৃদ্ধা মাকে দেখাশোনার জন্য লোকও তো রাখা যেত? বৌমার জবাব, আমাদের সেই আর্থিক সামর্থ্য নেই।
দুই ছেলে মায়ের দায়িত্বের ভার একে অপরের কোর্টে ঠেলেছেন। ছোট ছেলের যুক্তি, পাঁচতলা বাড়ি উঠলেও তারা মাকে তার ভাগের টাকা দেননি। কারণ, মায়ের দায়িত্ব তো তাদেরই নিতে হবে। তার দাবি, বাড়ির প্রোমোটিং সংক্রান্ত যাবতীয় বিষয় দেখছেন তার ভাই জগন্নাথ দাস।
জগন্নাথ দাস বলেন, মায়ের দায়িত্ব নেবে বলেই তো ভাই তার ভাগে ১০০ বর্গফুট জায়গা বেশি পেয়েছে। আমি বাবার চিকিৎসা ও দেখাশোনার ভার নিয়েছিলাম।
হাসপাতালের বিছানায় শুয়ে মা বলেছেন, আমার ছেলের কোনও দোষ নেই। ভালই যত্নআত্তি করে!