অনলাইন ডেস্ক :
এবার বাজেট পেশের আগেই ধারণা করা হয়েছিল নির্বাচনকে সামনে রেখে জনতুষ্টির দিকে সরকার বিশেষ মনোযোগ দেবে। নির্বাচিত সরকার জনগণের চিন্তা করে বাজেট করবে- এটাই স্বাভাবিক। কিন্তু সেই চিন্তার কতটুকু রাজনৈতিক আর কতটুকু অর্থনৈতিক বিবেচনায় তা নিয়ে বিশ্নেষণ, তর্ক-বিতর্ক শুধু আমাদের দেশে নয়, সারাবিশ্বেই হয়। এই তো গেল ফেব্রুয়ারিতে ভারতের মোদি সরকার যে বাজেট পেশ করল, তা নিয়েও এমন আলোচনা হয়েছে। আমাদের বর্ষীয়ান অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিত আগামী অর্থবছরের (২০১৮-১৯) জন্য ৪ লাখ ৬৪ হাজার ৫৭৩ কোটি টাকার যে বিশাল ব্যয়ের বাজেট বৃহস্পতিবার দিলেন, তাতে ভোটের ভাবনা প্রাধান্য পেয়েছে বলা যায়। যদিও তিনি ‘নির্বাচনী বাজেট’ উপমাটা পছন্দ করেন না। কয়েকদিন আগেই তিনি সাংবাদিকদের বলেছেন, প্রত্যেক বাজেটই সবাইকে খুশি করার জন্য দেওয়া হয়।
অর্থমন্ত্রী যাই বলুন, গতকাল জাতীয় সংসদে আগামী অর্থবছরের জন্য অর্থমন্ত্রীর আয় ও ব্যয় পরিকল্পনা আগের বাজেটগুলোর তুলনায় জনতুষ্টির দিকটা বিশেষভাবে খেয়াল রাখা হয়েছে। ভোটের বিবেচনায় জনগণকে স্বস্তি দেওয়ার চেষ্টা করেছেন মুহিত। তিনি নতুন করে আয়ের ওপর করহার বাড়াননি। ব্যাংক, বীমা ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানের করহার কমানোর প্রস্তাব করেছেন। সামাজিক নিরাপত্তার ভাতা ও সুবিধাভোগীর সংখ্যা বাড়িয়েছেন। এ ভাতার যাতে অপব্যবহার না হয় তার ব্যবস্থা নিয়েছেন। গ্রামের মানুষের দৃষ্টি আকর্ষণে কৃষি, পল্লী উন্নয়ন ও স্থানীয় সরকারে মনোযোগ বাড়িয়েছেন। স্থানীয় সরকার ব্যবস্থায় সংস্কার আনার ঘোষণা দিয়েছেন। থোক বরাদ্দ বাড়িয়েছেন। অনুন্নয়ন খাতে থোক বরাদ্দ সংশোধিত বাজেটের ৫৩০ কোটি টাকা থেকে ৯ গুণ বাড়িয়ে ৪ হাজার ৮০৯ কোটি টাকা করেছেন। কৃষিজমিসহ সব ধরনের ভূমি রেজিস্ট্রেশনে ভ্যাট প্রত্যাহারের প্রস্তাব করেছেন। কৃষি উপকরণ আমদানিতে শূন্য শুল্ক্ক বহাল রাখার প্রস্তাব করেছেন। কৃষকদের স্বার্থে প্রস্তাব করেছেন চালের আমদানি শুল্ক্ক বাড়ানোর। কৃষি খাতে ভর্তুকি রেখেছেন বড় অঙ্কের। কৃষি, জ্বালানি, রফতানিসহ বিভিন্ন খাতে ভর্তুকি ও প্রণোদনা প্রায় ১০ হাজার কোটি টাকা বাড়িয়েছেন। অর্থমন্ত্রী স্বস্তি দেওয়ার চেষ্টা করেছেন দেশীয় শিল্পকে। ওষুধ উৎপাদকদের স্বস্তি দিয়েছেন কাঁচামালে শুল্ক্ক রেয়াত দিয়ে। মোটরসাইকেল ও রেফ্রিজারেটরের স্থানীয় উৎপাদনে কর ছাড় দিয়েছেন।
বাজেট বক্তব্যে উল্লেখ না থাকলেও নতুন শিক্ষা প্রতিষ্ঠান এমপিওভুক্তির ক্ষেত্রে বরাদ্দ থাকছে বলে জানা গেছে। বার্ষিক উন্নয়ন কর্মসূচিতে (এডিপি) এমপিদের স্কুল ও মাদ্রাসা ভবন নির্মাণে একাধিক প্রকল্প রয়েছে। সরকারের অগ্রাধিকার বড় ৯টি প্রকল্পে সাড়ে ৩২ হাজার কোটি টাকার বরাদ্দ রাখা হয়েছে, যা মোট এডিপির ১৯ শতাংশ। সরকারি কর্মচারীদের জন্য কম সুদে গৃহঋণেরও ব্যবস্থা রয়েছে। সরকারের উন্নয়ন প্রচারের জন্য আলাদা প্রকল্পও নেওয়া হয়েছে। সার্বজনীন পেনশন ব্যবস্থা প্রবর্তনের কাজ আগামী অর্থবছর থেকে শুরু করার ঘোষণা রয়েছে।
তবে অর্থমন্ত্রী সব ক্ষেত্রেই স্বস্তি দিয়েছেন, তা বলা যাবে না। কিছু ক্ষেত্রে চাপও আছে। করপোরেট করহার সবক্ষেত্রে কমাননি। পুরনো গাড়ি আমদানি নিরুৎসাহিত করতে অবচয় সুবিধা কমানোর প্রস্তাব করেছেন। প্রসাধনীর ওপর শুল্ক্ক বাড়ানোর প্রস্তাব করেছেন। ছোট আকারের ফ্ল্যাটের নিবন্ধন ব্যয় বাড়ানোর প্রস্তাব করেছেন। অনলাইন ব্যবসায় ভ্যাট আরোপ করেছেন। শেয়ারবাজারের অবস্থা খারাপ হলেও আলাদাভাবে এ বাজারের জেন্য কোনো সুখবর দেননি। অবশ্য কোনো বাজেটই শতভাগ মানুষকে খুশি করা যায় না। কারণ আয় বাড়াতে হলে কর ছাড়া বিকল্প নেই।
অর্থমন্ত্রী দেশের অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধির উচ্চ লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করেছেন। বিনিয়োগ বাড়ানোর মাধ্যমে আগামী অর্থবছরে ৭ দশমিক ৮ শতাংশ প্রবৃদ্ধি অর্জন করতে চান। এত বড় অঙ্কের প্রবৃদ্ধি পৃথিবীর খুব কম দেশেই হচ্ছে। আন্তর্জাতিক বাজারে তেল ও অন্যান্য পণ্যের দাম ঊর্ধ্বমুখী থাকলেও তিনি আগামী অর্থবছরে মূল্যস্ম্ফীতি ৫ দশমিক ৬ শতাংশে সীমিত রাখতে চান। জিডিপির অনুপাতে বিনিয়োগ ৩৩ দশমিক ৫৪ শতাংশে উন্নীত করতে চান। নির্বাচনের বছরে বিনিয়োগকারীদের মধ্যে নতুন বিনিয়োগে দ্বিধা থাকলেও অর্থমন্ত্রী বেসরকারি বিনিয়োগ জিডিপির দুই শতাংশ বাড়িয়ে ২৫ দশমিক ১৫ শতাংশে উন্নীত করতে চান। মাথাপিছু আয় বেড়ে ১৯৫৬ ডলার হবে বলে প্রাক্কলন করা হয়েছে। অর্থমন্ত্রী বড় বাজেট দেওয়ার পক্ষে যুক্তি দিয়ে বলেছেন, উচ্চ প্রবৃদ্ধি অর্জনে এর বিকল্প নেই। বাজেট বাস্তবায়ন পরিস্থিতি আরও ভালো হবে বলে আশ্বাস দিয়েছেন।
প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সঙ্গে কালো সুটকেস হাতে বেলা পৌনে ১২টায় বাজেট অধিবেশনে প্রবেশ করেন অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিত। তার মুখে ছিল উচ্ছ্বাস। শারীরিক কারণে অর্থমন্ত্রী দাঁড়িয়ে এবং স্পিকারের অনুমতি নিয়ে অধিকাংশ সময় নিজের আসনে বসেই বক্তৃতা করেন। বিরোধীদলীয় নেতা রওশন এরশাদের নেতৃত্বাধীন বিরোধী দল জাতীয় পার্টির সদস্যদের ব্যাপক উপস্থিতি ছিল। বাজেট বক্তৃতার মাঝে মাঝে সরকারি দলের সদস্যদের সঙ্গে টেবিল চাপড়ে তারাও অর্থমন্ত্রীকে উৎসাহ জোগান। উৎসবমুখর পরিবেশে আওয়ামী লীগ নেতৃত্বাধীন সরকারের সর্বশেষ ও দেশের ৪৭তম বাজেট উপস্থাপন করেন মুহিত। আগামী ডিসেম্বরে নির্বাচন। বর্তমান সরকার এ বাজেট বাস্তবায়নে ছয় মাস সময় পাবে। আওয়ামী লীগ নির্বাচনে জিতলে তৃতীয় মেয়াদে গিয়ে অর্থবছরের বাকি সময়ে এ বাজেট বাস্তবায়নের সুযোগ পাবে।
অর্থমন্ত্রী প্রথমে ২০১৭-১৮ অর্থবছরের সম্পূরক বাজেট ও পরে ২০১৮-১৯ অর্থবছরের প্রস্তাবিত বাজেট পেশ করেন। দুপুর পৌনে ১টায় স্পিকার ড. শিরীন শারমিন চৌধুরীর সভাপতিত্বে সংসদ অধিবেশন শুরু হয়। বাজেট পেশ উপলক্ষে অধিবেশন কক্ষ ছিল কানায় কানায় পূর্ণ। সংসদ গ্যালারি থেকে ভিআইপি লাউঞ্জ- সর্বত্রই ছিল উপচেপড়া ভিড়। দুপুর ১২টা ৫৩ মিনিটে সম্পূর্ণ ডিজিটাল পদ্ধতিতে নিজের দ্বাদশ এবং বর্তমান সরকারের দুই মেয়াদে টানা দশম বাজেট প্রস্তাব পড়া শুরু করেন অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিত। ‘সমৃদ্ধ আগামী পথযাত্রায় বাংলাদেশ’ শিরোনামের ১১০ পৃষ্ঠার বাজেট বক্তৃতার মাঝে ৩০ মিনিটের বিরতি দিয়ে বিকেল ৪টা ২ মিনিটে অর্থমন্ত্রী তার দীর্ঘ বক্তব্য শেষ করেন। বাজেট বক্তৃতা শেষে অর্থমন্ত্রী অর্থবিল-২০১৮ সংসদে উত্থাপন করেন। বিলটি আগামী ২৮ জুন পাস হবে। এর আগে প্রস্তাবিত বাজেটের ওপর সরকার ও বিরোধীদলীয় সদস্য ৪০ ঘণ্টা আলোচনা করবেন।
প্রধান বিরোধী রাজনৈতিক দল বিএনপি প্রস্তাবিত বাজেটকে প্রত্যাখ্যান করে বলেছে, নির্বাচনের বছরে ভোট আকর্ষণে বড় ধরনের ঘাটতি বাজেট দিয়েছে সরকার। ব্যবসায়ীরা সার্বিকভাবে বাজেটকে স্বাগত জানালেও ব্যাংক ছাড়া অন্যান্য ক্ষেত্রে করপোরেট করহার না কমানোর সমালোচনা করেছেন তারা। তারা বাজেট প্রস্তাব সংশোধনের সময় সব কোম্পানির করহার কমানোর দাবি জানিয়েছেন। অর্থনীতিবিদরা আগামী অর্থবছরের বাজেটের রাজস্ব আয়ের লক্ষ্যমাত্রাকে উচ্চাভিলাষী বলেছেন। তারা মনে করেন, রাজস্ব আয়ে ঘাটতি হবে। ফলে এত বড় বাজেট বাস্তবায়ন হবে না। কেউ কেউ বলেছেন, বাজেটে সরকারের নির্বাচনী ভাবনার প্রতিফলন রয়েছে। বাজেটে নির্বাচনকে সামনে রেখে সরকার বড় কোনো সংস্কারে যায়নি। কেউ কেউ মনে করেন, নির্বাচন বলেই সবক্ষেত্রে অর্থমন্ত্রী উদারহস্ত হয়েছেন, তা বলা যাবে না।
আয়ের লক্ষ্যমাত্রা :বাজেটে আগামী অর্থবছরে আয়ের লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছে তিন লাখ ৩৯ হাজার ২৮০ কোটি টাকা। এ লক্ষ্যমাত্রা চলতি অর্থবছরের সংশোধিত লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে ৩১ শতাংশ বেশি। চলতি অর্থবছরের বাজেটে রাজস্ব আদায়ের লক্ষ্যমাত্রা ছিল দুই লাখ ৮৭ হাজার ৯৯০ কোটি টাকা। পরে তা সংশোধন করে দুই লাখ ৫৯ হাজার ৪৫৪ কোটি টাকা করা হয়েছে। অর্থনীতিবিদরা বলছেন, সংশোধিত লক্ষ্যমাত্রাও অর্জিত হবে না। সে হিসেবে আগামী অর্থবছরে লক্ষ্যমাত্রা অর্জন করতে হলে সরকারকে চলতি অর্থবছরের তুলনায় অন্তত ৪০ শতাংশ আয় বাড়াতে হবে, যা অসম্ভব। নির্বাচনের কারণে সরকার রাজস্ব খাতে বড় ধরনের সংস্কার করেনি। ব্যবসায়ীদের দাবির মুখে ভ্যাট আইন বাস্তবায়ন ইতিমধ্যে দু’বছর পেছানো হয়েছে। নতুন শুল্ক্ক আইন আগামী অর্থবছর থেকে বাস্তবায়নের কথা থাকলেও সরকার সেখান থেকে পিছিয়ে গেছে। রাজস্ব আয়ের মধ্যে এনবিআর থেকে থেকে দুই লাখ ৯৬ হাজার ২০১ কোটি টাকা। আয়কর ও প্রত্যক্ষ কর থেকে এক লাখ দুই হাজার ২০১ কোটি টাকা আদায়ের লক্ষ্যমাত্রা রয়েছে, যা এ খাতে চলতি অর্থবছরের সংশোধিত লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে ৩১ শতাংশ বেশি। আমদানি শুল্ক্ক বাড়ানোর লক্ষ্যমাত্রা ৩২ হাজার ৫৮৯ কোটি টাকা। ভ্যাট থেকে আদায়ের লক্ষ্যমাত্রা এক লাখ ১০ হাজার ৫৪৩ কোটি টাকা, যা চলতি অর্থবছরের সংশোধিত লক্ষ্যমাত্রা থেকে ২১ শতাংশ বেশি। আর্থিক খাতে করপোরেট করহার কমিয়ে এবং নতুন ভ্যাট আইন বাস্তবায়ন না করে আয়কর ও ভ্যাটে এত বড় প্রবৃদ্ধির লক্ষ্যমাত্রা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন অর্থনীতিবিদরা। অবশ্য অর্থমন্ত্রী এ লক্ষ্যমাত্রাকে বাস্তবসম্মত বলেছেন। তার দাবি, এনবিআরের জনবল ও কর্মপদ্ধতিতে ব্যাপক সংস্কার আনা হয়েছে। অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ড স্বাভাবিক। কর পরিপালনের প্রবণতা বাড়িয়ে এবং করদাতার সংখ্যা বাড়িয়ে রাজস্ব আয়ের লক্ষ্যমাত্রা অর্জন সম্ভব হবে।
ব্যয় পরিকল্পনা :আগামী অর্থবছরের জন্য ব্যয় ধরা হয়েছে ৪ লাখ ৬৪ হাজার ৫৭৩ কোটি টাকা, যা চলতি অর্থবছরের সংশোধিত ব্যয়ের চেয়ে ২৫ শতাংশ বেশি। চলতি অর্থবছরে মূল বাজেটে ব্যয়ের আকার ছিল ৪ লাখ ২৬৬ কোটি টাকা। সংশোধিত বাজেটে তা কমিয়ে ৩ লাখ ৭১ হাজার ৪৯৫ কোটি টাকা করা হয়েছে। অনুন্নয়ন ব্যয় ধরা হয়েছে ২ লাখ ৮২ হাজার ৪১৫ কোটি টাকা। এর মধ্যে অভ্যন্তরীণ ঋণের সুদ পরিশোধে যাবে ৪৮ হাজার ৩৭৭ কোটি টাকা। আর বৈদেশিক ঋণের সুদ পরিশোধে বরাদ্দ ২ হাজার ৯৬৩ কোটি টাকা। সুদ পরিশোধে সরকারের ব্যয় বাড়বে। চলতি অর্থবছরের বাজেটে অভ্যন্তরীণ ঋণের সুদ পরিশোধে বরাদ্দ ছিল ৩৯ হাজার ৫১৩ কোটি টাকা। সংশোধিত বাজেটে তা ধরা হয়েছে ৩৫ হাজার ৪০৪ কোটি টাকা। মোট উন্নয়ন ব্যয় ধরা হয়েছে ১ লাখ ৭৯ হাজার ৬৬৯ কোটি টাকা। এর মধ্যে বার্ষিক উন্নয়ন কর্মসূচির (এডিপি) আকার ১ লাখ ৭৩ হাজার কোটি টাকা। প্রতিবছর সরকার ব্যয়ের যে পরিকল্পনা করে, তা শেষ পর্যন্ত বাস্তবায়ন হয় না। অর্থনীতিবিদদের অনেকইে বলে থাকেন, সরকার বাজেটের অঙ্ক বড় করে দেখায়। পরিকল্পনা অনুযায়ী বাস্তবায়ন না হওয়া আর্থিক শৃঙ্খলা পরিপন্থী। আগামী অর্থবছরেও সরকার বাজেট বাস্তবায়ন করতে পারবে না বলে তাদের ধারণা।
বাজেট ঘাটতি ও অর্থায়ন :আগামী অর্থবছরের বাজেটে সামগ্রিক ঘাটতি ধরা (অনুদান ছাড়া) হয়েছে ১ লাখ ২৫ হাজার ২৯৩ কোটি টাকা। অনুদান পাওয়ার প্রত্যাশা রয়েছে ৪ হাজার ৫১ কোটি টাকা। বাজেট ঘাটতির আকার মোট দেশজ উৎপাদনের (জিডিপি) ৪ দশমিক ৯ শতাংশ। চলতি অর্থবছরের বাজেটে ঘাটিত ছিল ১ লাখ ১২ হাজার ২৭৬ কোটি টাকা। সংশোধিত বাজেটে তা ধরা হয়েছে ১ লাখ ১২ হাজার ৪১ কোটি টাকা। উভয় ক্ষেত্রে ঘাটতির আকার জিডিপির ৫ শতাংশ।
বাজেট ঘাটতি অর্থায়নে বৈদেশিক ঋণ ধরা হয়েছে ৫০ হাজার ১৬ কোটি টাকা। চলতি অর্থবছরের বাজেটে যা ছিল ৪৬ হাজার ৪২০ কোটি টাকা। সংশোধিত বাজেটে তা কমে হয়েছে ৪১ হাজার ৫৬৭ কোটি টাকা। ঘাটতি মেটাতে অভ্যন্তরীণ উৎস থেকে নেওয়া হবে ৭১ হাজার ২২৬ কোটি টাকা। চলতি অর্থবছরের মূল ও সংশোধিত বাজেটে যার পরিমাণ যথাক্রমে ৬০ হাজার ৩৫২ কোটি টাকা ও ৬৬ হাজার ১৭ কোটি টাকা। অভ্যন্তরীণ ঋণের মধ্যে ব্যাংক ঋণ নেওয়া হবে ৪২ হাজার ২৯ কোটি টাকা। সঞ্চয়পত্রসহ ব্যাংকবহির্ভূত উৎস থেকে নেওয়া হবে ২৯ হাজার ১৯৭ কোটি টাকা।
সংসদের পরিবেশ :বয়সজনিত কারণে টানা দাঁড়িয়ে বক্তব্য দিতে পারেননি অর্থমন্ত্রী। এক পর্যায়ে তিনি পানি পান করেন। বাজেট বক্তৃতা শেষে ফের নিজ আসনে দাঁড়িয়ে অর্থমন্ত্রী সবার কাছে ক্ষমা চেয়ে বলেন, ‘আমি পুরো বক্তব্যটি দাঁড়িয়ে দিতে পারিনি। রোজার মাসে অনেক নিয়মও আমি মানতে পারিনি। শুধু বয়সের কারণে এটি করতে হয়েছে। এ জন্য সবার কাছে আমি ক্ষমাপ্রার্থী।’ বাজেট উপস্থাপন শেষে স্পিকার আগামী ১০ জুন সকাল সাড়ে ১০টা পর্যন্ত সংসদের অধিবেশন মুলতবি করেন।
বাজেট পেশ উপলক্ষে জাতীয় সংসদ ভবন এলাকায় নেওয়া হয়েছিল বাড়তি নিরাপত্তা। বৈধ পাশ ছাড়া কাউকে প্রবেশ করতে দেওয়া হয়নি সংসদ ভবন এলাকায়। বাজেট বক্তৃতার আগেই সংসদ ভবনের কেবিনেট কক্ষে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সভাপতিত্বে মন্ত্রিসভার বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। বৈঠকে প্রস্তাবিত বাজেট অনুমোদন দেওয়া হয়। মন্ত্রিপরিষদে অনুমোদন পাওয়ার পর বাজেট বিলে স্বাক্ষর করেন রাষ্ট্রপতি মো. আবদুল হামিদ। সংসদে নিজ কক্ষে বসে বাজেট উপস্থাপন প্রত্যক্ষ করেন তিনি। এর আগে রাষ্ট্রপতিকে সংসদ ভবনে স্বাগত জানান সংসদ নেতা প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। প্রধান বিচারপতি, বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর, পিএসসি চেয়ারম্যান, তিন বাহিনীর প্রধান, বিভিন্ন দেশের কূটনীতিকসহ অন্যরা বাজেট বক্তৃতা প্রত্যক্ষ করেন।