মো: আ: রশীদ হাওলাদার, পটুয়াখালী জেলা  প্রতিনিধি : বাসের চাপায় হাত হারানোর ঘটনায় নিহত কলেজ ছাত্র রাজীবের পরিবারের পাশে দাড়িয়েছে পটুয়াখালী জেলা প্রশাসন। আজ বৃহস্পতিবার বেলা ১২ টায় জেলা প্রশাসক ড.মাছুমুর রহমান নিহত রাজিবের দুই ছোট ভাই হাফেজ মেহেদি হাসান ও হাফেজ মো:আবদুল্লাহার হাতে নগদ ৪৫ হাজার টাকা তুলে দেন। আর্থিক সহয়তা প্রদান অনুষ্ঠানে অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক(সার্বিক) মো: হেমায়েত উদ্দীন,জেলা সমাজ সেবা কর্মকর্তা শীলা রানী দাস,প্রেসক্লাব সভাপতি স্বপন ব্যানার্জী,জেলা কমিউনিষ্ট পার্টির সভাপতি কমরেড মোতালেব মোল্লা, জেলা জাসদের সাধারন সম্পাদক দেলোয়ার হোসেন দিলীপ,সম্মিলিত সাংস্কৃতিক জোট সাধারন সম্পাদক মুজাহিদ প্রিন্সসহ বিভিন্ন গণমাধ্যমের কর্মী,নিহত রাজিবের মামা মো: জাহিদুল ইসলাম ও খালা জাহানারা বেগম উপস্থিত ছিলেন।
আর্থিক সহয়তা প্রদান অনুষ্ঠানে জেলা প্রশাসক ড. মাছুমুর রহমান জানান,সরকারের পক্ষে পটুয়াখালী জেলা প্রশাসন নগদ ৪৫ হাজার টাকা প্রদান করছে। আরো এক লক্ষ টাকার চেক খুব অল্প সময়ের মধ্যে নিহতের পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হবে। তিনি জানান,রাজিবের ছোট দুইকে পড়াশুনার জন্য প্রত্যেক মাসে উপবৃত্তি প্রদানের সিদ্ধান্গ গ্রহন করেছে জেলা প্রশাসন। আগামীতে পড়াশুনা করতে যাতে কোন অসুবিধা না হয় সে বিষয়ে জেলা প্রশাসন সচেষ্ট থাকবে বলে দাবী করেন তিনি। আর্থিক সহয়তা প্রদান অনুষ্ঠানে নিহত রাজিবের দুই ভাই কোরআন তেলওয়াত করে তার ভাইয়ের জন্য দোয়া মোনাজাত করেন। রাজিবের খালা জাহানারা বেগম(৪০) জানান,মা বাবা হারানোর পর তিন বছর বয়স থেকে রাজিবকে তিনি কোলে পিঠে করে মানুষ করেছেন। রাজিব একটু বড় হওয়ার পর তার ছোট দুই ভাইকে ঢাকায় একটি মাদ্রাসায় ভর্তি করিয়ে দেন। একটা চাকুরীর চেষ্টা করছিলো রাজিব। চাকুরী হলে ভাইদের পড়াশুনায় আরো বেশী সহযোগিতা করতে পারবে বলে আশা ছিলো তার। কিন্তু নিয়তি তার সব স্বপ্ন কেড়ে নিয়েছে। ঘাতক বাস ড্রাইভার শুধু রাজিবকে হত্যা করেনি তাদের পরিবারের সকল স্বপ্ন কেড়ে নিয়েছে। গণমাধ্যমকর্মীদের প্রতি কৃতজ্ঞতা জানিয়ে জাহানারা বেগম বলেন,ঢাকা এবং পটুয়াখালীতে সাংবাদিকরা যেভাবে সহযোগিতা করেছে তাতে মনে হয়েছে তারা আমার পরিবারের সদস্য,তারা আমার ভাই। সকলের কাছে তিনি একটাই দাবী জানান,ঘাতক ড্রাইভার যেন আইনের ফাঁকদিয়ে বের হতে না পারে। তার যেন ফাঁসি হয় সে দাবী তিনি সরকারের কাছে রাখেন।