ছবি: সংগৃহীত

শনিবার (৯ জুলাই) এমন প্রতিবেদন প্রকাশ করে ভারতীয় সংবাদমাধ্যম এনডিটিভি

সুইমিংপুলের চারপাশে পতাকা হাতে জড়ো হয়েছেন হাজার হাজার উত্তেজিত আন্দোলনকারী। এ সময় একদলকে রান্নাঘরে রান্নাও করতে দেখা গেছে। আরেকদল বড় একটি টেবিলের চারপাশে অবস্থান নিয়েছে।

১৯৪৮ সালে ব্রিটেনের কাছ থেকে স্বাধীনতা লাভের পর সবচেয়ে মারাত্মক আর্থিক সংকট পার করছে শ্রীলংকা। বর্তমানে দেশটিতে বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ বলে আর কিছু নেই। এ কারণে ২ কোটি ২০ লাখ মানুষ অধ্যুষিত শ্রীলংকা খাবার, ওষুধ, জ্বালানির মতো অতি জরুরি আমদানি পণ্যের প্রয়োজন মেটাতে পারছে না।

বর্তমান এই দুরাবস্থার জন্য দেশটির অধিকাংশ মানুষ প্রেসিডেন্ট গোতাবায়া রাজাপাকসে ও তার পরিবারের সদস্যদের দায়ী করছেন। গত মার্চ থেকেই তার পদত্যাগের দাবিতে আন্দোলন চলছে রাজধানী কলম্বোসহ বিভিন্ন শহরে।

আরো পড়ুন>> 

ভঙ্গুর অর্থনীতি এবং জ্বালানির তীব্র সংকটের মধ্যে শ্রীলংকায় সরকারের বিরুদ্ধে জনরোষ বৃদ্ধি পাচ্ছিল। সপ্তাহখানেক ধরে চলছে জ্বালানি তেলের তীব্র সংকট। দিনের পর দিন মানুষ জ্বালানি তেলের জন্য পেট্রল পাম্পে দাঁড়িয়ে ছিলেন।

শনিবার টেলিভিশনের ফুটেজে দেখা যায়, হাজার হাজার মানুষ প্রেসিডেন্টের বাসভবনের দিকে যাচ্ছেন। তারা প্রেসিডেন্টের পদত্যাগ দাবি করে স্লোগান দিচ্ছিলেন।

সরকারের প্রতিরক্ষা বিভাগের একটি সূত্র জানিয়েছে, প্রেসিডেন্ট গোতাবায়াকে নিরাপত্তার জন্য সরিয়ে নেয়া হয়েছে। বিক্ষুব্ধ জনতাকে ছত্রভঙ্গ করতে ফাঁকা গুলি ছুড়ছেন নিরাপত্তাকর্মীরা। কিন্তু তাদের রোধ করা যায়নি। বিক্ষোভকারীরা প্রেসিডেন্টের বাসভবনে ঢুকে পড়েন।

জ্বালানিসহ নিত্যপণ্যের বাড়তি দাম, স্বাধীনতাপরবর্তী সময়ে সবচেয়ে ভয়াবহ অর্থনৈতিক সংকটে দিশেহারা শ্রীলংকার মানুষ। সংকট নিরসনে ব্যর্থতার অভিযোগে দেশটিতে সরকারের বিরুদ্ধে চলছে বিক্ষোভ–প্রতিবাদ। আর উত্তাল বিক্ষোভ ঠেকাতে দ্বীপরাষ্ট্রটির রাজধানী কলম্বোয় গতকাল শুক্রবার জারি করা হয়েছে কারফিউ।

আরো পড়ুন>> 

সরকারবিরোধী তুমুল বিক্ষোভে গতকাল উত্তাল ছিল কলম্বো। প্রেসিডেন্ট গোতাবায়া রাজাপাকসের পদত্যাগ ও দ্রুত অর্থনৈতিক সংকটের লাগাম টানার দাবিতে বিক্ষোভ চলছে। আজও বড় বিক্ষোভ হওয়ার কথা ছিল। বিক্ষোভকারীরা মিছিল নিয়ে প্রেসিডেন্ট ভবনের দিকে যাওয়ার কথা জানিয়েছিলেন। তাই যেকোনো অনাকাঙ্ক্ষিত পরিস্থিতি এড়াতে আগে থেকেই কলম্বোয় কারফিউ জারি করে শ্রীলংকা সরকার। আজ সেই কারফিউয়ের মধ্যেই বিক্ষোভের কারণে প্রেসিডেন্ট ভবন ছেড়ে চলে গেলেন।

এদিকে প্রধানমন্ত্রী রনিল বিক্রমাসিংহে পরিস্থিতির সমাধানের জন্য দলের নেতাদের একটি জরুরি বৈঠক ডেকেছেন। সংসদ ডাকার জন্য তিনি স্পিকারকেও অনুরোধ করেছেন।

ভিডিওটি দেখুন:

[wpcc-iframe frameborder=”0″ height=”550″ scrolling=”no” src=”https://www.youtube.com/embed/YBZrgHIwhb4″ width=”100%”]