অনলাইন ডেস্ক : স্ত্রীর স্বীকৃতি দাবি করে বাড়িতে যাওয়ায় তরুণীকে মাথার চুল কেটে ও হকিস্টিক দিয়ে পিটিয়ে নির্যাতনের অভিযোগ পাওয়া গেছে রাজবাড়ীর পাংশা উপজেলার এক যুবলীগ নেতার বিরুদ্ধে।

শুক্রবার দুপুরের এ ঘটনায় নির্যাতনের শিকার তরুণীকে রাজবাড়ী সদর হাসপাতালে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে।

অভিযুক্ত ফজলুল হক ফরহাদ উপজেলার পারনারায়ণপুর গ্রামের মৃত তোফাজ্জেল মোল্লার ছেলে। পাংশা উপজেলা যুবলীগের আহ্বায়ক তিনি। তার বিরুদ্ধে আনা অভিযোগ তিনি অস্বীকার করেছেন।

পাংশা থানার ওসি আহসানউল্লাহ সমকালকে বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

রাজবাড়ী সদর হাসপাতালে চিকিৎসাধীন ওই তরুণী বলেন, তিন বছর আগে ফরহাদের সাথে আমার বিয়ে হয়। ওই বিয়ের সুবাদে আমরা তিন বছর ঢাকায় ছিলাম। সেখানে আমি পড়াশোনাও করতাম। আমার পড়াশোনা শেষ হওয়ার পর আমি পাংশায় চলে আসি।

তিনি বলেন, কিছুদিন আগে আমি ফরহাদের বাড়িতে গেলে আমাকে সে শারীরিক নির্যাতন করে ও বলে তোমার সাথে আমার কোনো বিয়ে হয়নি। এ ব্যাপারে গত ২৩ এপ্রিল ফরহাদের বিরুদ্ধে রাজবাড়ী নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনাল আদালতে মামলা করি।

ওই তরুণী বলেন, মামলা করার পর ফরহাদ, ফরহাদের মা, বন্ধুমহলসহ প্রভাবশালী ব্যক্তিরা আমাকে স্ত্রীর মর্যাদার আশ্বাস দিয়ে মামলা তুলে নিতে বলে। আমি কোনো স্টেটম্যান ছাড়া মামলা তুলে নিতে অস্বীকার করি। পরে ফরহাদের আশ্বাসের ভিত্তিতে মামলাটি তুলে নিই। এরপরই ফরহাদ আমার সাথে যোগাযোগ বন্ধ করে দেয়।

তিনি বলেন, আমার আগে একটি বিয়ে হয়েছিল। ফরহাদ আমার সাবেক স্বামীকে পিস্তল ঠেকিয়ে হুমকি দেয় আমাকে ফেরত নেয়ার জন্য। গত শুক্রবার ফরহাদের বাড়িতে গেলে আমাকে দেখামাত্রই ঘরে ঢুকিয়ে দরজা বন্ধ করে কাচি দিয়ে আমার মাথার চুল এবড়োথেবড়ো করে কেটে স্কার্ফ পরিয়ে দেয় তারা। আমি ফরহাদের বাড়ি থেকে বের হওয়ার সময় বলি, আমি আবার আসব। এসময় ফরহাদ আমাকে হকিস্টিক দিয়ে পিটিয়ে আহত করে।

কান্নাজড়িত কণ্ঠে ওই তরুণী বলেন,আমি এখন কোথায় যাব। কার কাছে ঠাঁই নেব। এখন আমার জীবন হুমকির সম্মুখীন। হাসপাতালে ভর্তি হয়েও নিরাপদে নেই।

এ ব্যাপারে অভিযুক্ত পাংশা উপজেলা যুবলীগের আহ্বায়ক ফজলুল হক ফরহাদের সাথে মোবাইল ফোনে যোগাযোগ করা হলে তিনি অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, যেদিনের কথা বলা হয়েছে সেদিন পাংশা উপজেলা আওয়ামী লীগের ইফতার মাহফিল ছিল। আমি ইফতার মাহফিল নিয়ে ব্যস্ত ছিলাম। কারো ইন্ধনে সে একাজ করেছে। তার সাথে আমার কখনও বিয়ে হয়নি।

পাংশা থানার ওসি আহসানউল্লাহ জানান, এব্যাপারে একটি লিখিত অভিযোগ পাওয়া গেছে। অভিযোগের তদন্ত চলছে। তদন্ত শেষে আইনগত ব্যবস্থা নেয়া হবে।