অনলাইন ডেস্ক : এক ব্যাগ রক্ত বাঁচাতে পারে আপনার জীবন। মানুষের জীবন বাঁচাতে রক্ত যে কত মূল্যবান তা বোঝা যায় কেবল রক্তের প্রয়োজন হলেই। তবে রক্ত পাওয়া আগের চেয়ে অনেক সহজ হয়ে গেছে। বিশেষ করে তরুণরা, খুব আগ্রহ নিয়ে অপরিচিতদেরকেও রক্ত দিয়ে থাকেন।
তবে রক্তদানের ক্ষেত্রে অনেক বিষয়ে আপনাকে সতর্ক থাকতে হবে। রক্তদানের আগে রক্তে এইচআইভি পরীক্ষা, আপনার বয়স, ওজন ও শরীরিকভাবে সুস্থ থাকতে হবে।বিশেষ করে নারীদের ক্ষেত্রে রক্তদানের ক্ষেত্রে অনেক বিষয় জানা জরুরি। পিরিয়ড চলাকালে ও গর্ভাবস্থায় নারীরা রক্তদান করতে পারবেন না। গর্ভাবস্থায় রক্তদানে হতে পারে নানা জটিলতা।
গর্ভাবস্থায় কেন রক্তদান নয়
গর্ভাবস্থায় একজন নারীর শরীরে বিভিন্ন ধরনের পরিবর্তন দেখা দেয়। এ সময় রক্তের হিমোগ্লোবিন মাত্রা কমে যেতে পারে। আর রক্তের হিমোগ্লোবিন ১১-এর নিচে হলে রক্ত দেয়া ঠিক নয়। এতে করে হার্টবিট বেড়ে যাওয়া, ক্লান্ত লাগা, চোখে ঝাঁপসা দেখা, মাথা ঘোরাসহ অজ্ঞানও হয়ে যেতে পারেন। এছাড়া পিরিয়ড চলাকালে রক্ত দেয়া ঠিক নয়। গর্ভাবস্থায় রক্ত দিলে শরীরের রক্তশূন্যতা দেখা দিতে পারে। এছাড়া গর্ভজাত সন্তানের শরীরের রক্তপ্রবাহ সকমে যেতে পারে। এছাড়া আরও বিভিন্ন ধরনের সমস্যা দেখা দিতে পারে। তাই গর্ভাবস্থায় রক্তদান নয়। গর্ভাবস্থায় রক্তদানে হতে পারে যেসব সমস্যা
রক্তের হিমোগ্লোবিন
গর্ভাবস্থায় যদি রক্তের হিমোগ্লোবিন ১১-এর নিচে নেমে যেতে পারে। এতে করে হার্টবিট বেড়ে যাওয়া, ক্লান্ত লাগা, চোখে ঝাঁপসা দেখা, মাথা ঘোরাসহ অজ্ঞানও হয়ে যেতে পারেন।
পিরিয়ড ও গর্ভাবস্থা
মাসিক চলাকালীন সময়ে কোনো নারী রক্তদান করতে পারবেন না। কারণ এ সময় শরীর থেকে রক্ত প্রবাহিত হয় এবং শরীরে বিভিন্ন সমস্যা দেখা দিতে পারে। এছাড়া গর্ভাবস্থায় রক্তদান করতে পারবেন না। রক্তশূন্যতা
গর্ভাবস্তায় রক্তদানের ফলে মায়ের শরীরের রক্তশূন্যতা দেখা দিতে পারে, যা মা ও শিশুর জন্য ডেকে আনতে ভয়াবহ বিপদ।রক্তশূন্যতা কেড়ে নিতে পারে মা ও শিশুর জীবন।
গর্ভজাত শিশুর শরীরে রক্ত চলাচলে বাধা
রক্তদানের ফলে মায়ের শরীরে রক্তশূন্যতা দেখা দিতে পারে। এর ফলে গর্ভজাত শিশুর শরীরে রক্তপ্রবাহ কমে যেতে পারে। ফালে শিশুর স্বাভাবিক বেড়ে উঠা বাধাগ্রস্ত হয়।এছাড়া নানাবিধ সমস্যা দেখা দিতে পারে।
পুষ্টিহীনতা
মা যদি পুষ্টিহীনতা ও সংক্রমণজনিত সমস্যায় ভোগেন তবে তার প্রভাব পড়ে গর্ভের শিশুর ওপর। গর্ভাবস্থায় মায়ের শরীরিক সমস্যার কারণে শিশুদের পুষ্টিহীনতার সমস্যা হতে পারে। তাই গর্ভজাত শিশুর পুষ্টি পূরণের জন্য মাকে পুষ্টিসমৃদ্ধ খাবার খেতে হবে। আর রক্তদানের প্রশ্নই উঠে না। বিশেষজ্ঞরা বলেন, রক্তদানের ফলে রক্তদাতার শারীরিক কোনো ক্ষতি হয় না। রক্তের লোহিত কণিকার আয়ু ১২০ দিন। অর্থাৎ আপনি রক্ত দিন বা না দিন ১২০ দিন পর লোহিত কণিকা আপনা-আপনিই মরে যায়। সেখানে জায়গা করে নেয় নতুন লোহিত কণিকা। রক্তের আর উপাদানগুলোর আয়ুষ্কাল আরও কম। সুস্থ, সবল, নিরোগ একজন মানুষ প্রতি চার মাস অন্তর রক্ত দিতে পারেন। তবে নারীদের পিরিয়ড চলাকালে ও গর্ভাবস্থায় রক্ত দেয়া যাবে না।