অনলাইন ডেস্ক : ফেব্রুয়ারি ও মার্চের ধারাবাহিকতায় গত এপ্রিলেও বাড়তি দামে খাবার কিনতে হয়েছে বিশ্ববাসীকে। এ সময় বৈশ্বিক খাদ্যমূল্য সূচক আগের মাসের তুলনায় দশমিক ৪ পয়েন্ট বেড়েছে। তবে ২০১৭ সালের একই সময়ের তুলনায় চলতি বছরের এপ্রিলে বৈশ্বিক খাদ্যমূল্য সূচক ২ দশমিক ৭ শতাংশ বাড়তি ছিল। মূলত খাদ্যশস্য ও দুগ্ধপণ্যের বাড়তি দামের কারণে এপ্রিলে বৈশ্বিক খাদ্যমূল্য আগের তুলনায় বেড়েছে। তবে এ সময় ভোজ্যতেল, আমিষ পণ্য ও চিনির দাম কমতির দিকে ছিল। জাতিসংঘের খাদ্য ও কৃষি সংস্থার (এফএও) সর্বশেষ মাসভিত্তিক ফুড প্রাইস ইনডেক্সে (এফএফপিআই) এ তথ্য উঠে এসেছে। খবর এফএও।

এফএওর ফুড প্রাইস ইনডেক্স অনুযায়ী, চলতি বছরের মার্চে বৈশ্বিক খাদ্যমূল্য সূচক ছিল ১৭৩ দশমিক ১ পয়েন্ট। এক মাসের ব্যবধানে এ সূচক ৪ পয়েন্ট বেড়ে দাঁড়িয়েছে ১৭৩ দশমিক ৫ পয়েন্টে। শুধু আগের মাসের তুলনায় নয়, বরং ২০১৭ সালের একই মাসের তুলনায় গত এপ্রিলে বৈশ্বিক খাদ্যমূল্য সূচক ২ দশমিক ৭ শতাংশ বেড়েছে। গত বছরের এপ্রিলে বৈশ্বিক খাদ্যমূল্য সূচক ছিল ১৬৮ দশমিক ৯ পয়েন্টে। ২০১৭ সালজুড়ে বাড়তি দামে খাদ্য কিনতে হয়েছিল বিশ্ববাসীকে। চলতি বছরের জানুয়ারিতে বৈশ্বিক খাদ্যমূল্য কমে এলেও পরের মাস থেকে এর দাম ফের বাড়তে শুরু করে। গত ফেব্রুয়ারির পর থেকে প্রতি মাসেই বৈশ্বিক খাদ্যমূল্য সূচক ধাপে ধাপে বেড়েছে।

গত এপ্রিলে বৈশ্বিক খাদ্যমূল্য সূচক আগের তুলনায় বৃদ্ধির পেছনে বড় প্রভাবক হিসেবে কাজ করেছে দুগ্ধপণ্যের বাড়তি দাম। এ সময় দুগ্ধপণ্যের গড় সূচক মান দাঁড়িয়েছে ২০৪ দশমিক ১ পয়েন্টে, যা আগের মাসের তুলনায় ৬ দশমিক ৭ পয়েন্ট বেশি। এক মাসের ব্যবধানে দুগ্ধপণ্যের বৈশ্বিক মূল্যসূচক ৩ দশমিক ৪ শতাংশ বেড়েছে বলে জানিয়েছে এফএও। ২০১৭ সালের একই সময়ের তুলনায় গত এপ্রিলে দুগ্ধপণ্যের গড় মূল্যসুচক ১১ শতাংশ বাড়তি ছিল। মূলত বৈরী আবহাওয়ার জের ধরে পশুর খাদ্য সংকটের মুখে নিউজিল্যান্ডে তরল দুধ উৎপাদন কমার পরিস্থিতি সৃষ্টি হয়েছে। এর প্রভাব পড়েছে দুগ্ধপণ্যের আন্তর্জাতিক বাজারে। উৎপাদন ও সরবরাহে সংকটের সম্ভাবনা থেকে দুগ্ধপণ্যের বৈশ্বিক গড় দাম আগের তুলনায় বাড়তি রয়েছে।

একইভাবে গত এপ্রিলে খাদ্যশস্যের দাম আগের মাসের তুলনায় ১ দশমিক ৭ শতাংশ বেড়েছে। এ সময় খাদ্যশস্যের বৈশ্বিক মূল্যসূচক দাঁড়িয়েছে ১৬৮ দশমিক ৫ পয়েন্টে, যা আগের মাসের তুলনায় ১ দশমিক ৮ পয়েন্ট বেশি। গত কয়েক মাসের ঊর্ধ্বমুখী প্রবণতার ধারাবাহিকতায় ২০১৭ সালের একই সময়ের তুলনায় গত এপ্রিলে খাদ্যশস্যের বৈশ্বিক মূল্যসূচক ১৫ দশমিক ৪ শতাংশ বাড়তি ছিল। যুক্তরাষ্ট্র ও আর্জেন্টিনার কৃষিপণ্য উৎপাদনকারী অঞ্চলগুলোয় বিদ্যমান খরা পরিস্থিতির কারণে এসব অঞ্চল থেকে আন্তর্জাতিক বাজারে গম, ভুট্টা ও সয়াবিন সরবরাহ ব্যাহত হতে পারে বলে মনে করা হচ্ছে। একই সঙ্গে দক্ষিণ ও দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার দেশগুলোয় চালের বাড়তি চাহিদা খাদ্যপণ্যটির বাজার পরিস্থিতিতে তেজিভাব বজায় রেখেছে। মূলত এসব কারণেই কয়েক মাসের ধারাবাহিকতায় এপ্রিলেও খাদ্যশস্যের বৈশ্বিক মূল্যসূচকে তেজিভাব বজায় ছিল।

এদিকে এপ্রিলে ভোজ্যতেলের বৈশ্বিক মূল্যসূচক দাঁড়িয়েছে ১৫৪ দশমিক ৬ পয়েন্টে, যা আগের দেশগুলোর পাশাপাশি মাসের তুলনায় ১ দশমিক ৪ শতাংশ কম। ইউরোপীয় ইউনিয়নভুক্ত (ইইউ) ভারত-চীনসহ কয়েকটি দেশে পাম অয়েলের চাহিদা তুলনামূলক কম থাকার কারণে পণ্যটির দাম কমেছে। একইভাবে কমতির দিকে ছিল সয়াবিন তেল ও সানফ্লাওয়ার অয়েলের দামও। গত এপ্রিলে আমিষ পণ্যের বৈশ্বিক মূল্যসূচক আগের মাসের তুলনায় দশমিক ৯ শতাংশ কমেছে। এ সময় আমিষ পণ্যের বৈশ্বিক মূল্যসূচক দাঁড়িয়েছে ১৬৯ পয়েন্টে, যা আগের মাসের তুলনায় ১ দশমিক ৬ পয়েন্ট কম।

এপ্রিলে চিনির দামও আগের মাসের তুলনায় ৪ দশমিক ৮ শতাংশ কমেছে। এ সময় চিনির বৈশ্বিক মূল্যসূচক দাঁড়িয়েছে ১৭৬ দশমিক ৬ পয়েন্টে, যা আগের মাসের তুলনায় ৮ দশমিক ৯ পয়েন্ট বেশি। ২০১৭ সালের একই সময়ের তুলনায় এপ্রিলে চিনির গড় মূল্যসুচক ২৪ শতাংশ কম ছিল। বিশ্বজুড়ে বাড়তি উৎপাদনের জের ধরে এপ্রিলে চিনির দাম কমেছে বলে জানিয়েছে এফএও।