অনলাইন ডেস্ক:
প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার প্রতিশ্রুতির পরও নন-এমপিও শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের (স্কুল, কলেজ ও মাদ্রাসা) শিক্ষকরা এমপিওভুক্তির দাবিতে আন্দোলন করছেন। রাজধানীতে জাতীয় প্রেসক্লাবের সামনের রাস্তায় ঈদে উদযাপন করেছেন তারা। সোমবার (১৮ জুন) সকাল থেকে পালন করা হচ্ছে লাগাতার অবস্থান কর্মসূচি। এ পরিস্থিতিতে এ আন্দোলনের পেছনে অন্য কোনও ‘রহস্য’ থাকতে পারে বলে মনে করছেন সরকারের শীর্ষ কর্মকর্তারা।
বাজেটে সুস্পষ্ট নির্দেশনা না থাকার অভিযোগে গত ১০ জুন দেশের সব শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের এমপিওভুক্তির দাবিতে এ আন্দোলন শুরু হয়েছে।
শিক্ষকদের এই কর্মসূচির বিষয়ে দৃষ্টি আকর্ষণ করা হলে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা বিভাগের সচিব মো. সোহরাব হোসাইন বালা ট্রিবিউনকে বলেন, ‘শিক্ষকদের এমপিওভুক্তির জন্য সরকারপ্রধান প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন। তারা কারও ওপর আস্থা রাখছেন না। উল্টো গালাগালি করে যাচ্ছেন। কেন গালাগাল করছেন? আর আন্দোলনই বা কী কারণে করছেন? নিশ্চয়ই কোনও না কোনও রহস্য আছে।’
তিনি বলেন, ‘ডিসেন্ট ওয়েতে দাবি আদায়ের আন্দোলন করতে হয়। যেহেতেু সরকারপ্রধান প্রতিশ্রুত দিয়েছেন, তাদের বিশ্বাস রাখা উচিত ছিল।’
সচিব বলেন, ‘শিক্ষা প্রতিষ্ঠান এমপিওভুক্ত করার জন্য প্রধানমন্ত্রী বলেছেন। প্রধানমন্ত্রী আমাকে কি বারবার জানাবেন? তাদের বিশ্বাস রাখতে হবে। বুঝতে হবে সরকার একসঙ্গে সব প্রতিষ্ঠানের এমপিও দিতে পারবে না। যে সংখ্যক দেওয়া সম্ভব, তা বাছাই করে ক্যাটগারি অনুযায়ী দেওয়া হবে।’
প্রথম পর্যায়ে ১ হাজার শিক্ষা প্রতিষ্ঠান এমপিওভুক্ত করার বিষয়ে দৃষ্টি আকর্ষণ করা হলে সচিব বলেন, ‘প্রথম পর্যায়ে ১ হাজার শিক্ষা প্রতিষ্ঠান এমপিওভুক্ত করা হবে, বিষয়টি ওপেন সিক্রেট।’
আন্দোলন-কর্মসূচির শুরুর দিন শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা বিভাগের সচিব মো. সোহরাব হোসাইন জানিয়েছিলেন, এমপিওভুক্তি করা হবে। শিক্ষকরা যেন রাস্তায় না থেকে ঘরে ফিরে যান। এর পরদিন শিক্ষামন্ত্রী নুরুল ইসলাম নাহিদ শিক্ষকদের ঘরে ফিরে যাওয়ার আহ্বান জানান। নতুন শিক্ষা প্রতিষ্ঠান এমপিওভুক্ত করার জন্য নীতিমালা প্রস্তুত হয়েছে বলেও জানান শিক্ষামন্ত্রী।
এরপর গত বৃহস্পতিবার শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা বিভাগ থেকে এমপিও নীতিমালা জারি করে সরকার। ওই নীতিমালা অনুযায়ী নতুন শিক্ষা প্রতিষ্ঠান এমপিওভুক্ত করা হবে।
এত কিছুর পরও শিক্ষকরা আন্দোলন-কর্মসূচি দিয়ে রাস্তায় নেমে পড়েন। বারবার শিক্ষামন্ত্রী ও শিক্ষা সচিব এমপিওভুক্তির আশ্বাস দিলেও শিক্ষক নেতারা তাতে আস্থা রাখতে পারেননি।