অনলাইন ডেস্ক : বর্ষবরণ উৎসব চাংক্রান আয়োজনে বান্দরবানে ঐতিহ্যবাহী নৃত্য প্রতিযোগিতায় মেতে উঠে ম্রো সম্প্রদায়ের নারী-পুরষরা। ম্রো বাঁশির সুরে ছন্দের তালে তালে নৃত্য প্রতিযোগীরা মাতিয়েছে শ্রোতাদের।
বুধবার সকালে বান্দরবানের টংকাবতী ইউনিয়নের দুর্গম বাইট্টাপাড়া স্কুল মাঠে এই উৎসব অনুষ্ঠিত হয়।
অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন পার্বত্য চট্টগ্রামবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী বীর বাহাদুর উশৈসিং এমপি। অন্যদের মধ্যে জেলা প্রশাসক মো. আসলাম হোসেন, পুলিশ সুপার জাকির হোসের মজুমদার, পার্বত্য জেলা পরিষদের সদস্য সিইয়ং ম্রো, লক্ষি পদ দাশ, পার্বত্য চট্টগ্রাম আঞ্চলিক পরিষদের সদস্য কাজল কান্তি দাশসহ স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিরা উপস্থিত ছিলেন।
উৎসব আয়োজক কমিটির সদস্যসচিব সিইয়ং ম্রো জানান, বর্ষবরণ ও বর্ষবিদায় উৎসবকে ম্রো সম্প্রদায় চাংক্রান উৎসব হিসেবে পালন করে। এটি ম্রো সম্প্রদায়ের প্রধান সামাজিক উৎসব। চাংক্রান উৎসবে ম্রো নারী-পুরষরা পুতির মালা তৈরি, কাপড় বুনোন, লাঠি দিয়ে ভিন্ন কায়দায় শক্তি প্রদর্শন এবং ঐতিহ্যবাহী নৃত্য প্রতিযোগিতায় অংশ নেয়।
প্রতিযোগিতায় চিম্বুক পাহাড়ের আশপাশের ১৪টি পাড়ার ম্রো সম্প্রদায়ের লোকজন অংশ নেয়। অনুষ্ঠান শেষে প্রতিযোগীদের মাঝে পুরস্কার বিতরণ করা হয়েছে।
অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে প্রতিমন্ত্রী প্রতিমন্ত্রী বীর বাহাদুর উশৈসিং বলেন, পার্বত্য শান্তিচুক্তির সফল ভোগ করছে পার্বত্যাঞ্চলের মানুষ। একসময় পাহাড়ে উৎসব আয়োজনে আতঙ্ক কাজ করত মানুষের মধ্যে। কিন্তু এখন পরিস্থিতি পাল্টেছে। পাহাড়ে উৎসব, সংস্কৃতি, ঐতিহ্য রক্ষায় কাজ করছে সরকার।
তিনি বলেন, উৎসবের রঙে রঙিন এখন পাহাড়ের মানুষ। সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি জেলা বান্দরবানে পাহাড়ে উৎসব মানে এই অঞ্চলের পাহাড়ি-বাঙালি সবার মিলনমেলা। পাহাড়ের বিভিন্ন সম্প্রদায়ের বর্ষবরণ উৎসব বৈসাবি আয়োজনে প্রয়োজনীয় সবধরনের ব্যবস্থা নেয়া হয়েছে।