কিন্তু দীর্ঘদিন সমাবর্তন না হওয়া এমনই এক বিশ্ববিদ্যালয়ের নাম পাবনা বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় (পাবিপ্রবি)। যেখানে স্নাতক ও স্নাতকোত্তর শেষে শিক্ষার্থীদের পরানো হয় কালো গাউন এবং কালো টুপি।
এই বিশ্ববিদ্যালয়ের (পাবিপ্রবি) প্রায় সাড়ে চার হাজার শিক্ষার্থী কোনো সমাবর্তনের দেখা এখনো পায়নি। প্রতিষ্ঠার ১৪ বছর পার হলেও এখনো শিক্ষার্থীদের কোনো সমর্তন দিতে পারেনি বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ।
সাবেক শিক্ষার্থীদের অভিযোগ, দীর্ঘদিন ধরে সমাবর্তনের আবেদন জানিয়ে আসলেও বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন কোনো এক অজানা কারণে সাড়া দেয়নি। তাই বর্তমান উপাচার্য এবং উপ-উপচার্য আসার পর সমাবর্তনের আয়োজন করা নিয়ে জোরালো দাবি তুলেছেন প্রাক্তন শিক্ষার্থীরা।
আন্তর্জাতিক ভ্যাকসিন ইন্সটিটিউটে কর্মরত বিশ্ববিদ্যালয়ের কম্পিউটার বিজ্ঞান ও প্রকৌশল (সিএসই) বিভাগের ১ম ব্যাচের শিক্ষার্থী জুলহাস সুজন ডেইলি বাংলাদেশকে বলেন, সম্প্রতি আমি একটি বিশ্ববিদ্যালয়ের স্পেশালাইজড একটি সাবজেক্টে মাস্টার্স শেষ করলাম। ডিগ্রি এনালাইসিসএর জন্য আমাকে যে পরিমাণ সমস্যায় পড়তে হয়েছে তা বলে বুঝাতে পারবো না। আমাদের বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ৮টি ব্যাচ গ্র্যাজুয়েশন শেষ করলেও এখনো কোনো কনভোকেশন পাইনি যেটা দু:খজনক।
আমেরিকার সাউর্দান ইলিয়ন্স বিশ্ববিদ্যালয়ে পিএইচডিরত বিশ্ববিদ্যালয়ের তৃতীয় ব্যাচের ইলেকট্রিক্যাল অ্যান্ড ইলেকট্রনিক্স ইঞ্জিনিয়ারিং (ইইই) বিভাগের শিক্ষার্থী অনুপ কুমার ডেইলি বাংলাদেশকে বলেন, মাতৃভূমি যেমন আপন তেমনি আপন পাবনা বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়। একজন শিক্ষার্থীর জীবনে সমাবর্তন খুবই গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। কারণ এটা আমাদের অনেক বছরের অধ্যাবসায় আর পরিশ্রমের পর আনুষ্ঠানিক স্বীকৃতি। বাবা, মা, শিক্ষক, বন্ধু, পরিবারের সবাই মিলে মুহূর্তটা স্মরণীয় হয়ে ওঠে। কিন্তু প্রতিষ্ঠার এত বছর পরও পাবিপ্রবি আমাদের জন্য একটা সমাবর্তনের আয়োজন করতে পারেনি এটা দুঃখজনক।
তবে বিশ্ববিদ্যালয়ের রেজিস্ট্রার (চলতি দায়িত্ব) বিজন কুমার ব্রহ্ম ডেইলি বাংলাদেশকে জানান, বিশ্ববিদ্যালয়ের তৃতীয় উপাচার্য অধ্যাপক ড. আল নকীব চৌধুরী থাকাকালীন সময়ে সমাবর্তনের উদ্যোগ নেয়া হয়। পরে সেই উদ্যোগ আর সামনে অগ্রসর হয়নি।
সমাবর্তন প্রসঙ্গে বিশ্ববিদ্যালয়ের উপ-উপাচার্য অধ্যাপক ড. এসএম মোস্তফা কামাল খান ডেইলি বাংলাদেশকে জানান, সমাবর্তন নিয়ে আমাদের পরিকল্পনা আছে। যেহেতু প্রথমবার সমাবর্তন হবে সেক্ষেত্রে আমাদের স্বপ্ন শিক্ষার্থীদের ভালো একটা সমাবর্তন দেয়া। সমাবর্তন আয়োজন নিয়ে আমরা অতি শিগগিরই পরিকল্পনা করবো।
বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. হাফিজা খাতুন ডেইলি বাংলাদেশকে জানান, এবার সমাবর্তন করার নিয়ে আমাদের পরিকল্পনা আছে। শুরুতে এসে আমরা অনেকগুলো কাজ করেছি। আমরা অতিদ্রুত সময়ের মধ্যেই শিক্ষার্থীদের জন্য সমাবর্তন আয়োজনের কাজ হাতে নিবো।