অনলাইন ডেস্ক : টানা পাঁচদিনের অনশনে অসুস্থ হয়ে পড়েছেন ননএমপিও শিক্ষক-কর্মচারী ফেডারেশনের সাধারণ সম্পাদক অধ্যক্ষ ড. বিনয় ভূষণ রায়। শুক্রবার রাতে তাকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি হয়েছে।
ফেডারেশনের কেন্দ্রীয় নেতা সরদার শাহ আলম বলেন, শুক্রবার রাতে প্রেসক্লাবের সামনে অনশনরত অবস্থায় গুরুতর অসুস্থ হয়ে পড়লে হাসপাতালে ভর্তি নিয়ে যাওয়া হয়। ৬ দিনের অনশনে শতাধিক শিক্ষক অসুস্থ হয়ে পড়েন। শুক্রবার ৩১ জনকে স্যালাইন দেয়া হয়েছে অনশনস্থলে। এছাড়া গুরুতর অসুস্থ ১১ জনকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। এর মধ্যে ছয় শিক্ষক হাসপাতাল থেকে ছাড়পত্র নিয়ে ফের অনশনে যোগ দিয়েছেন।
দেশের সকল স্বীকৃতিপ্রাপ্ত ননএমপিও শিক্ষা প্রতিষ্ঠান এমপিওভুক্ত করার দাবিতে শিক্ষকরা আমরণ অনশন অব্যাহত রেখেছেন। শনিবার অনশনের ষষ্ঠ দিন চলছে । জাতীয় প্রেসক্লাবের সামনে রাস্তার বিপরীত পাশে গত ১০ জুন থেকে অবস্থান কর্মসূচি শুরু করেন শিক্ষকরা। ঈদুল ফিতরের দিনেও রাজপথে ছিলেন তারা। কিন্তু দাবি না মানায় গত ২৫ জুন থেকে আমরণ অনশনে যান শিক্ষকরা।
গত ১২ জুন শিক্ষা প্রতিষ্ঠান এমপিওভুক্তির প্রক্রিয়া বাধাগ্রস্ত করতে বেসরকারি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান (স্কুল-কলেজ) এর জনবল কাঠামো ও এমপিও নীতিমালা ২০১৮ জারি করা হয়েছে। এই নীতিমালা শিক্ষা প্রতিষ্ঠান পাঠদান অনুমতি ও স্বীকৃতির সময় আরোপিত শর্তের সঙ্গে সাংঘর্ষিক। চলতি ২০১৮-১৯ বাজেটে নতুন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান এমপিওভুক্তির জন্য বরাদ্দের কোনো সুস্পষ্ট ঘোষণা নেই। যার ফলে নন-এমপিও শিক্ষক কর্মচারীর অত্যন্ত হতাশ ও আশাহত হয়ে পড়েছেন। এ অবস্থায় মহামান্য রাষ্ট্রপতির হস্তক্ষেপে সারাদেশের নন এমপিও শিক্ষা প্রতিষ্ঠান একযোগে এমপিওভুক্তি হলে সকলেই সন্তুষ্ট চিত্তে বাড়ি ফিরে যাবে। অনশনরত শিক্ষকরা বলছেন, স্বীকৃতি পাওয়া সবকটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান এমপিওভুক্ত না হওয়া পর্যন্ত তাঁরা অনশন চালিয়ে যাবেন।
বর্তমানে সারাদেশে এমপিওভুক্ত শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের সংখ্যা প্রায় ২৮ হাজার। এগুলোতে শিক্ষক-কর্মচারী আছেন প্রায় ৫ লাখ। তাদের বেতন-ভাতা বাবদ মাসে খরচ হয় প্রায় সাড়ে ৯০০ কোটি টাকা। এর বাইরে স্বীকৃতি পাওয়া ননএমপিওভুক্ত শিক্ষা প্রতিষ্ঠান আছে ৫ হাজার ২৪২টি। এগুলোতে শিক্ষক-কর্মচারী আছেন ৭৫ থেকে ৮০ হাজার। স্বীকৃতির বাইরে আছে ২ হাজারেরও বেশি ননএমপিও শিক্ষা প্রতিষ্ঠান।
মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা অধিদপ্তরের সূত্রমতে, স্বীকৃতিপ্রাপ্ত সব প্রতিষ্ঠানকে এমপিওভুক্ত করা হলে এবং ওই সব প্রতিষ্ঠানের প্রায় ৮০ হাজার শিক্ষক-কর্মচারীকে এমপিওভুক্ত করলে মাসে আরও প্রায় দেড়শ কোটি টাকা খরচ হবে। যদিও সরকারের পরিকল্পনা হলো হাজারখানেক প্রতিষ্ঠান এমপিওভুক্ত করা।