ফাইল ছবি

মা বিলকিছ বেগম (৫৫) উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসাধীন রয়েছেন। মঙ্গলবার (১৯ জুলাই) উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে গিয়ে এ চিত্র দেখা গেছে। এ ঘটনায় বড় ছেলে কবীর হোসেনকে গ্রেফতার করা হয়েছে।

পরিবার, এলাকাবাসী ও অভিযোগ সূত্রে জানা গেছে, কালিয়াকৈর উপজেলার ঢালজোড়া ইউনিয়নের চিনাইল এলাকার নেলুমুদ্দিনের স্ত্রী ও তার দুই ছেলে সন্তান কবীর ও রাসেলকে নিয়ে বেশ সুখেই দিন যাপন করছেন। কিন্তু বড় ছেলে বিয়ে করার পর থেকে সংসারে অশান্তি নেমে আসে। কবীর বিয়ের পর তার স্ত্রীকে নিয়ে বাড়ইপাড়া বাসাভাড়া নিয়ে বসবাস করেন। পরে ছোট ছেলে রাসেল একটি স্থানীয় পোশাক কারখানায় চাকরি করে কোনোমতে মা-বাবাকে নিয়ে দিন যাপন করছেন। তার মা বিলকিছ বেগম (৫৫) দীর্ঘদিন ধরে ডায়োবেটিসসহ বিভিন্ন রোগে আক্রান্ত। বড় ছেলে কবীর হোসেন কোনো প্রকার ভরণপোষণ করেন না মা-বাবাকে। উল্টো জমি লিখে নেয়ার জন্য মা-বাবাকে চাপ সৃষ্টি ও নানাভাবে ভয়ভীতি দেখান।

গত ১৩ জুলাই বুধবার সন্ধ্যায় বড় ছেলে কবীর হোসেনসহ ভাড়া করা সাত সন্ত্রাসী নিয়ে বাড়িতে প্রবেশ করে মা-বাবাকে জমি লিখে দেওয়ার জন্য চাপ সৃষ্টি করেন। বাবা নেলুমুদ্দিন জমি লিখে দিতে অস্বীকার করেন। এতে ক্ষীপ্ত হয়ে কবীর হোসেন বাবাকে বেদড়ক মারধর ও গলাটিপে হত্যা করার চেষ্টা করেন। এ সময় মা বিলকিছ বেগম থামাতে গেলে কবীর লোহার শাবল দিয়ে মাথায় আঘাত করলে রক্তাক্ত অবস্থায় মাটিতে লুটে পড়েন। ছোট ছেলে রাসেল (২৬) এগিয়ে আসলে তাকেও মারধর করে জখম করেন। তাদের ডাক-চিৎকারে আশেপাশের লোকজন ছুটে আসলে বড় ছেলে কবীর মা-বাবাকে হত্যার হুমকি দিয়ে চলে যান। পরে এলাকাবাসী তিনজনকে উদ্ধার করে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করান।

এ ব্যাপারে পিতা নেলুমুদ্দিন বাদী হয়ে বড় ছেলে কবীর হোসেনকে (৩৪) প্রধান আসামি করে সহযোগী সাতজনের নামে কালিয়াকৈর থানায় একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন। পরে পুলিশ তাকে গ্রেফতার করে।

কালিয়াকৈর থানার ওসি আকবর আলী খাঁন বলেন, ঘটনাটি দুঃখজনক। বড় ছেলে কবীরকে গ্রেফতার করা হয়েছে।

কালিয়াকৈর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা তাজওয়ার আকরাম সাকাপি ইবনে সাজ্জাদ জানান, বিষয়টি আমার জানা নেই। ওসিকে বলে দিয়েছি, দ্রুত ব্যবস্থা গ্রহণ করার জন্য।