গত ৩১ মে মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা ক্যান্টনমেন্ট জোনাল টিমের পরিদর্শক (নিরস্ত্র) কাজী শরীফুল ইসলাম আদালতে এ চার্জশিট দাখিল করেন। তবে অভিযোগের সত্যতা না পাওয়ায় ইফতেখারের মা-বাবাকে অব্যাহতির আবেদন করা হয়েছে।
শুক্রবার সংশ্লিষ্ট আদালতের সাধারণ নিবন্ধন শাখা সূত্রে এ তথ্য জানা গেছে।
আদালত সূত্রে জানা যায়, গত ২০ জুন ঢাকার অ্যাডিশনাল চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আসাদুজ্জামান নূরের আদালতে মামলাটি শুনানির জন্য ধার্য ছিল। ডিবি পুলিশের দেওয়া চার্জশিটের বিরুদ্ধে নারাজি দেবেন জানিয়ে এলমার বাবা সময় আবেদন করেন। আদালত আগামী ৩ আগস্ট নারাজির বিষয়ে শুনানির তারিখ ধার্য করেছেন।
ঐদিন ইফতেখার এবং মা ও বাবা আত্মসমর্পণ করে জামিন বাড়ানোর আবেদন করেন। আদালত ইফতেখারের জামিন নামঞ্জুর করে তাকে কারাগারে পাঠানোর আদেশ দেন। তবে ইফতেখাতের বাবা ও মায়ের জামিন বহাল রাখেন আদালত।
চার্জশিটে ইফতেখারের বিরুদ্ধে বলা হয়, ঘটনার দিন বাসার বাইরে যেতে চাইলেও আসামি ইফতেখার আবেদীন এলমাকে যেতে না দিয়ে বাসার চাবি নিয়ে দরজা আটকে রাখে এবং শারীরিক ও মানসিক অত্যাচার করে। আসামি ভিকটিমকে অকারণে কুৎসা রটিয়ে অসৌজন্যমূলক আচরণ ও মারপিট করে। ভিকটিম অসৌজন্যমূলক আচরণ, অকারণে কুৎসা রটনা ও মারপিট সহ্য করতে না পেরে শয়নকক্ষে সিলিং ফ্যানের সঙ্গে নিজের পরনের ওড়নায় গলায় ফাঁস দিয়ে আত্মহত্যা করে।
মামলায়র অভিযোগে আরো বলা হয়, ২০২১ সালের গত ২ এপ্রিল ইফতেখার আবেদীনের সঙ্গে এলমা চৌধুরীর বিয়ে হয়। এলমা চৌধুরী ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে নৃত্যকলা বিভাগের শেষ বর্ষের ছাত্রী ছিল। বিয়ের পর আসামি ইফতেখার আবেদীনের পিতা ভুক্তভোগী এলমা চৌধুরীর বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়া বন্ধ করার জন্য বলেন। তবে এলমা পড়া বন্ধ করতে না চাইলে আসামী ইফতেখার ও তার বাবা-মা মিলে এলমাকে শারীরিক নির্যাতন করে মাথার চুল কেটে দেয় এবং সাংসারিক বিভিন্ন বিষয়ে নানা সময় মানসিক ও শারীরিক নির্যাতন করতে থাকে। বিয়ের আনুমানিক তিন মাস পর এলমাকে বনানীর বাসায় রেখে আসামি ইফতেখার কানাডার চলে যায়। গত ১১ডিসেম্বর কানাডা থেকে দেশে আসে। এরপর ১৪ ডিসেম্বর আনুমানিক বেলা সাড়ে ৩টার দিকে ভুক্তভোগী এলমার মাকে মোবাইলে আসামি ইফতেখার ফোন করে জানায়, ‘আপনার মেয়ে গুরুতর অসুস্থ তাকে চিকিৎসার জন্য শুলশানস্থ ইউনাইটেড হাসপাতালে নিয়া যাচ্ছি, আপনারা আসেন।’
এরপর ভুক্তভোগীর বাবা-মা হাসপাতালে গিয়ে এলমা চৌধুরীর লাশ দেখতে পান। এ ঘটনায় ইলমার বাবা সাইফুল ইসলাম চৌধুরী বাদী হয়ে বনানী থানায় হত্যা মামলা করেন। মামলায় ইলমার স্বামী, শ্বশুর ও শাশুড়িকে আসামি করা হয়।