লাইফস্টাইল ডেস্ক: শিক্ষাজীবনে মানসিক ও শারীরিক চাপে থাকা অতি স্বাভাবিক বিষয়। পরীক্ষার সময় এই চাপ আরও বেড়ে থাকে। কিছু গবেষণা থেকে জানা যায়, আপনি যা খাবেন, তা মেজাজকে প্রভাবিত করবে। চাপের স্তর পরিবর্তনের ফলে উদ্বেগ ও অস্থিরতা দেখা দিতে পারে। পরীক্ষার চাপ, ভয়, ধকল থেকে নিজেকে নিয়ন্ত্রণ রাখা প্রতিটি শিক্ষার্থীরই খুবই জরুরি। অন্যথায় পরীক্ষার ফল খারাপ হতে পারে। তাই সুষম খাবারের দিকে শিক্ষার্থীদের মনযোগী হওয়া উচিত। পরীক্ষায় চাপের অনুভূতি কমানোর জন্য শিক্ষার্থীদের খাবার কেমন হওয়া উচিত, সে সম্পর্কে জানাবো আজ।
১. যখন কোনো কারণে চাপ ও ধকল বৃদ্ধি পায়, তখন শরীরে ভিটামিন সি, বি৫, বি৬, জিংক, ম্যাগনেশিয়াম, পটাশিয়ামের মতো উপাদানের প্রয়োজনীয়তা বেড়ে যায়। এগুলো চাপ বৃদ্ধিকারক হরমোনের বিরুদ্ধে কাজ করে।
২. সকালের নাশতা কখনোই ত্যাগ করা উচিত নয়। যেসব শিক্ষার্থী সকালে নিয়মিত নাস্তা করে, তাদের পরীক্ষা অনেক ভালো হয়। তাই দুধ, দই, ডিমের সাথে স্বাস্থ্যকর নাস্তা খেতে হবে।
৩. রাতে ঘুমানোর আগে ভারী খাবার খাওয়া থেকে দূরে থাকতে হবে। ভারী খাবার খেলে রাতের ঘুম ভালো হয় না। ফলে মস্তিষ্ক ঠিকমতো কাজ করে না। তাই রাতে বিশেষ করে পরীক্ষার রাতে ঘুমানোর প্রায় তিন ঘণ্টা আগে খাবার খেয়ে নিতে হবে।
৪. খাবারে পর্যাপ্ত পরিমাণ তাজা ফলমূল ও সবজি রাখতে হবে। ডিম, গাজর, ব্রকোলি, বাদাম, সবুজ পাতাযুক্ত সবজিতে অ্যান্টি-অক্সিডেন্ট, ভিটামিন ‘এ’, ‘ই’ ও ‘সি’ প্রচুর পরিমাণে থাকে। এগুলো মস্তিষ্কের ক্ষতির মাত্রা কমিয়ে দেয়। এ ছাড়াও সুষম খাবার রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়ায়।
৫। ওট বা জই, বাদামি চাল, গমের মতো সম্পূর্ণ শস্য দানা খাওয়া উচিত। ডাল, শুকনো ফল ও বীজ, কম চর্বিযুক্ত দুগ্ধজাত দ্রব্যও খেতে হবে। এগুলোতে ভিটামিন ‘বি’ ও প্রচুর পরিমাণে জিংক থাকে।
৬. সম্ভব হলে সামুদ্রিক খাবার তথা স্যামন, সার্ডিন, মেকেরল ইত্যাদি খাওয়া উচিত। এগুলো খুবই স্বাস্থ্যকর খাবার। এগুলোতে ওমেগা-৩ রয়েছে, যা মস্তিষ্ক, ত্বক ও হৃদপিণ্ড সুস্থ রাখতে খুবই কার্যকরী।
৭. সাদা আটা, সাদা চাল, মিষ্টি পানীয় ও চিনি খাওয়া বা সীমিত করতে হবে। জাঙ্ক ফুড ও খারাপ গুণসম্পন্ন চর্বি খাবার এড়িয়ে চলতে হবে। ফাস্ট ফুড মস্তিষ্কের প্রয়োজনীয় পুষ্টি কমাতে পারে, যাতে মস্তিষ্ক সঠিকভাবে কাজ করে না।
৮. পরীক্ষার সময় শরীর হাইড্রেটেড বা আর্দ্র রাখা খুবই জরুরি। এ জন্য প্রচুর পানি পান করতে হবে। শরীরে পানি কমে গেলে অবসাদ, মাথা ধরা শুরু হতে পারে। এ ছাড়াও পরীক্ষায় একাগ্রতা কমে যায়।
৯. স্বল্পমাত্রায় চা, কফি অথবা ক্যাফেইনযুক্ত পানীয় পান করা যায়। অধিক মাত্রায় পান না করাই ভালো। এ জন্য গ্রিন টি পান করা উচিত। গ্রীন টিতে ক্যাফেইন ও অ্যান্টি-অক্সিডেন্ট পরীক্ষায় মনোযোগ বাড়ায়।