অনলাইন ডেস্ক : সরকারের সঙ্গে সমঝোতা বৈঠকে আন্দোলন স্থগিতের ঘোষণা দেওয়ার পরও যারা চাকরির কোটা সংস্কারের দাবিতে বিক্ষোভ চালিয়ে যাচ্ছে, তাদের ‘মতলব’ নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার রাজনৈতিক উপদেষ্টা এইচ টি ইমাম।
মঙ্গলবার বিকালে ধানমণ্ডিতে আওয়ামী লীগ সভানেত্রীর রাজনৈতিক কার্যালয়ে প্রচার উপ কমিটির সভা শেষে তিনি বলেন, আন্দোলনকারীদের প্রতি সরকারের কোনো বিরূপ মনোভাব নেই। ভারতে কোটার পরিমাণ ৫১ শতাংশ। বাংলাদেশেও তা পরিবর্তন করা যায়, কিন্তু সেজন্য আলোচনা করতে হবে।
“এ জন্যই সরকার শিক্ষার্থীদের সঙ্গে সমঝোতায় বসেছে। সরকার সুন্দরভাবে সমাধান করছে বলেই আন্দোলনকারীরা আন্দোলন থেকে সরে এসেছে।”
তারপরও শিক্ষার্থীদের একটি অংশের আন্দোলন চালিয়ে যাওয়ার সমালোচনা করে এইচ টি ইমাম বলেন, “এর পরেও যারা আন্দোলন করছে, বুঝতে হবে তাদের অন্য কোনো মতলব আছে।”
সরকারি চাকরির কোটা পদ্ধতি সংস্কারের দাবিতে ‘বাংলাদেশ সাধারণ ছাত্র অধিকার সংরক্ষণ পরিষদ’ এর ব্যানারে আন্দোলনরতদের সঙ্গে রোববার সারা রাত ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে পুলিশ ও ছাত্রলীগের সংঘর্ষ চলে।
এরপর সোমবার বিকালে সচিবালয়ে আন্দোলনকারীদের প্রতিনিধি দলের সঙ্গে সমঝোতা বৈঠকের পর ৭ মের মধ্যে বিদ্যমান কোটা পদ্ধতি পরীক্ষা নিরীক্ষা করে সিদ্ধান্ত জানানোর ঘোষণা আসে সরকারের তরফ থেকে।
বৈঠকে অংশ নেওয়া ছাত্র অধিকার সংরক্ষণ পরিষদের প্রতিনিধিরা ৭ মে পর্যন্ত আন্দোলন স্থগিতের ঘোষণা দিলেও বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে অবস্থানে থাকা আন্দোলনকারীরা তা প্রত্যাখ্যান করে এবং মঙ্গলবারও তারা আন্দোলন চালিয়ে যায়।
রোববার রাতে আন্দোলনের মধ্যে উপাচার্যের কার্যালয়ে হামলার জন্য বিএনপিকে দায়ী করে এইচ টি ইমাম বলেন, “আজকে বিএনপির প্রতিক্রিয়াতেই যেন মনে হচ্ছে- ঠাকুর ঘরে কে রে, আমি কলা খাই না।”
বিএনপির জ্যেষ্ঠ যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী মঙ্গলবার এক সংবাদ সম্মেলনে অভিযোগ করেন, কোটা সংস্কারের আন্দোলন ভিন্নখাতে নিতে ‘সরকারের এজেন্টরাই’ ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে উপাচার্যের বাসভবনে হামলা চালিয়েছে।
এ বিষয়ে আওয়ামী লীগের প্রচার ও প্রকাশনা সম্পাদক হাছান মাহমুদ বলেন,“ইতোপূর্বে যারা পেট্রোল বোমা হামলা করেছে। তারাই উপাচার্য ভবনে হামলা করেছে। তারাই এ ঘটনা ঘটিয়েছে। আজকে বিএনপির বিবৃতিতেই স্পষ্ট, বিএনপিই ওই হামলা করে ঘোলা পানিতে মাছ শিকার করতে চাচ্ছে।”
আওয়ামী লীগের প্রচার উপ কমিটির এই সভায় অন্যদের মধ্যে আওয়ামী লীগের উপ প্রচার সম্পাদক আমিনুল ইসলাম, প্রচার উপ কমিটির সদস্য শাহ মোস্তফা উপস্থিত ছিলেন।