গোফরান পলাশ, পটুয়াখালী সংবাদদাতা: ক্ষমতাসীন দলে থেকে অভ্যস্ত তিনি। বিএনপি ক্ষমতায় থাকা কালে তিনি বিএনপি নেতা। জাপা (এ) ক্ষমতায় থাকা কালে তিনি
জাপা নেতা। ৯০’র স্বৈরশাসকের পতনের পর তিনি, জাপা (এ) মহিপুর থানা কমিটির
সভাপতি ও রুহুল আমিন হাওলাদারের ঘনিষ্ঠ সহচর।
কিন্তু হাওলাদারের মহাসচিব পদ হারানোর পর তিনি নৌকায় উঠতে মরিয়া হয়ে ওঠেন। বড় বড় সাইজের কোড়াল, ইলিশ, সুন্দরবনের খাঁটি মধু, মহিষের দধি নিয়ে দৌড় ঝাপ শুরু করেন আওয়ামীলীগের কেন্দ্রীয় নেতা ও মন্ত্রীদের বাসায় বাসায়। কৌশলে স্বল্প টাকায় কুয়াকাটায় নিস্কন্টক জমি কিনে দেয়ার বিশেষ প্রলোভন দিতে শুরু করেন হেভিওয়েট নেতাদের। দৌড় ঝাঁপ বাদ যায়নি তার জেলা, বিভাগ ও উপজেলার প্রভাবশালী নেতাদের দোড় গোড়ায়ও। কিন্তু কিছুতেই বর্তমান ক্ষমতাসীন দলের সদস্য পদ জোটেনি তার। তবুও হাল ছাড়েননি তিনি। এরপর নিজের অনুসারীদের নিয়ে হেভিওয়েট নেতাদের সাথে তোলা ছবি ফেসবুকে পোষ্ট দেয়া শুরু করেন। তবুও সদস্য পদও জোটেনি তার। এবার দলীয় প্রধানের দৃষ্টি কাড়তে ভিন্ন পন্থা নিলেন তিনি।
এতক্ষন যার রাজনৈতিক ইতিবৃত্ত নিয়ে আপনারা জানলেন। তিনি কুয়াকাটা পৌরসভা
নির্বাচনে স্বতন্ত্র মোড়কে নির্বাচিত মেয়র মো: আনোয়ার হোসেন হাওলাদার।
ঈদ-উল-আযহা উদযাপনে এবার অনুসারীদের নিয়ে বিশেষ মিশন তার। গত ক’দিন ধরে
কুয়াকাটায় বঙ্গবন্ধুর নামে ৮ টি গরু ও ২ টি মহিষ দিয়ে কোরবানী দেয়ার
বিজ্ঞপ্তি দিয়ে যাচ্ছেন তিনি। সাড়ে ৭ লাখ টাকায় তিনি এ মহিষ ও গরু ক্রয়
করেছেন। মঙ্গলবার তার অনুসারী কিছু গনমাধ্যম কর্মীদের মাধ্যমে বিষয়টি
গণমাধ্যমে এনে শিরোনাম হবার চেষ্টা তার। যে ঘোষণায় তিনি কোরবানীর পর মাংস
পৌর এলাকার গরীব ও দুস্থদের বাড়িতে নিজ উদ্যোগে পৌঁছে দেয়ার কথা জানান।
এসব গরু মহিষ ইতিমধ্যে তিনি ৯ টি ওয়ার্ড কাউন্সিলরদের হাতে পৌছে দিয়েছেন
বলেও জানান তিনি। বুধবার সকালে তিনি নিজে উপস্থিত থেকে এসব গরু কোরবানী
দেবেন।
এদিকে মেয়রের পদাঙ্ক অনুসরন করে ৭ নং ওয়ার্ডের পৌর কাউন্সিলর শহীদ দেওয়ান
প্রধানমন্ত্রীর নামে কোরবানী দেওয়ার উদ্দেশ্যে ৭০ হাজার টাকায় ১টি গরু
ক্রয় করেছেন। তারা জানান, বঙ্গবন্ধুর রুহের মাগফেরাত কামনা ও
প্রধানমন্ত্রীর দীর্ঘায়ু কামনা করে তারা এ কোরবানীর আয়োজন করেছেন।
আলোচিত পৌর মেয়র আনোয়ার হাওলাদার বলেন, ’পৌর এলাকায় অনেক গরীব, দুস্থ ও
মধ্যবিত্তরা কোরবানী দিতে পারছেন না। তারা কারও কাছে মাংস চাইতেও পারেন
না। পৌর এলাকার সকল মানুষ যাতে কোরবানীর মাংস খেতে পারেন এজন্য
বঙ্গবন্ধুর নামে এ কোরবানী দেয়া।’
এ বিষয়ে কুয়াকাটা পৌর আ’লীগ সভাপতি আ: বারেক মোল্লা বলেন, ’বঙ্গবন্ধুর
নামে কোরবানী দেয়া নিয়ে গত ক’দিন ধরে ভূমি দস্যু আনোয়ার যে বিজ্ঞপ্তি ও
প্রচারনা করছে, তা দু:খ জনক। বিষয়টি আইন আমলে নেয়ার জন্য সরকারের প্রতি
অনুরোধ তার।’
কলাপাড়া উপজেলা আওয়ামীলীগের সাধারণ সম্পাদক আবদুল মোতালেব তালুকদার বলেন, ’আনোয়ার আওয়ামীলীগের কেউ নন। তিনি এভাবে বঙ্গবন্ধুর নামে কোরবানী দেয়া নিয়ে বিজ্ঞপ্তি ও প্রচারনা করতে পারেন না। এছাড়া দলীয় বিধানেও এটি নাই।
প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহনে বিষয়টি দলের নীতি নির্ধারনী পর্যায়ে জানানো হবে বলে তিনি জানান।’