গোফরান পলাশ, পটুয়াখালী প্রতিনিধি: পটুয়াখালীর কলাপাড়া উপকূলে ধানক্ষেতে ইঁদুরের
গর্ত খূঁড়ে ধান সংগ্রহ করছে শিশুরা। যা বিক্রী করে শিশুরা মিলে
চড়–ইভাতি’র আয়োজন করছে। প্রতিবছর শীতের সময়ে শিশুদের এ চড়–ইভাতি এখন
গ্রামীন কৃষ্টি কালচারে নতুন মাত্রা যুক্ত করেছে। এজন্য ইঁদুরের গর্ত
খুঁড়তে স্কুল ফাইনাল পরীক্ষার অবসরে মাঠে ছুঁটছে শিশুর দল। এজন্য কারও
হাতে দেখা মিলছে কোদাল, কারও হাতে দাও, কারও হাতে খোন্তা-শাবল, আবার কারও
হাতে ব্যাগ।
স্থানীয়রা জানায়, শীতের সকালে রোদ কিছুটা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গেই কাটা ধানের
ক্ষেতে ভিড় করে ছোট ছোট শিশুর দল। ধান কাটার পরে নাড়ার সাথে দুই এক গোছা
ধান থাকলে সেগুলোও কুড়িয়ে নেয় ওরা। আমন ধান কাটার এ মৌসুমে অনেক শিশু
কিশোর ফসলের মাঠে ইঁদুরের গর্তের ধান সংগ্রহে ব্যস্ত হয়ে পড়েছে।
উপজেলার বালিয়াতলী ইউনিয়নের তুলাতলী গ্রামের ক্ষেতে পরিত্যক্ত ধান কুড়াতে
ব্যস্ত ছোট্ট শিশু রবিউল। তার সারা গায়ে লেগে আছে কাঁদা মাটির ছোপ ছোপ
দাগ। আর এর একটু পাশেই শিশু হাসান, তহিদুল, মানসুরা ও মিতু দীর্ঘক্ষণ
ইঁদুরের গর্ত থেকে ধান উদ্ধারে চেষ্টা করছে। শিশু হাসান জানায়, কৃষক মাঠ
থেকে ধান কেটে নিয়ে যাওয়ার পর অনেক ধানের ছড়া এমনিতেই পড়ে থাকে। সেগুলো
আমরা কুড়িয়ে নেই। এছাড়া ইঁদুরের গর্ত খুঁড়লে পাওয়া যায় ধান। এক একটি গর্ত
থেকে ১০ কেজির বেশি ধান পাই। যখন ধান পরিমানে বেশী হবে তখন তা বিক্রি করে
সবাই মিলে চড়–ইভাতি হবে।
উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা এ আর এম সাইফুল্লাহ বলেন, ইঁদুরের গর্ত খুঁড়ে ধান
বের করা, এটা শিশুদের জন্য মোটেই নিরাপদ নয়। গর্তে সাপ থাকতে পারে। এছাড়া
ইদুর নিধনের জন্য কৃষকদের বিভিন্ন ধরনের প্রশিক্ষণ দেয়া হয়েছে বলে তিনি
জানিয়েছেন।