দর্পণ ডেস্ক: ইউনিভার্সাল ফুড লিমিটেড এর কাছে পাওনা প্রায় ৩৫ কোটি টাকা ফেরত পাওয়ার জন্য সারা বাংলাদেশের ২৪০ জন ডিলার জন ডিলার সংবাদিক সম্মেলন করেছে। ২৫ জুলাই মঙ্গলবার দুপুর ১২ টায় ঢাকায় জাতীয় প্রেস ক্লাবের মাওলানা মোহাম্মদ আকরম খাঁ হলে সংবাদিক সম্মেলন ও পরে প্রেস ক্লাবের সামনে মানববন্ধন করেছে ক্ষতিগ্রস্ত ব্যবসায়ীগণ।

ইউনিভার্সাল ফুড লি. কর্তৃক ক্ষতিগ্রস্ত ডিলারদের সভাপতি মোঃ কামাল হোসেন লিখিত বক্তব্যে জানান,ইউনিভার্সাল ফুড লিমিটেড, পাবনা দিলালপুর এর পরিবেশক । আমরা তাদের টেষ্টি স্যালাইন ও অন্যান্য পন্য দীর্ঘ দিন ধরে সুনাম এবং নিষ্ঠার সহিত প্রতিটি জেলায় এবং থানায় কমিশনের ভিত্তিতে পরিবেশন করে আসছি। প্রতিবারের ন্যায় আমরা সারা বাংলাদেশে ২৪০ জন পরিবেশক গত জানুয়ারি ২০২২ তারিখ হইতে বিভিন্ন সময়ে পন্যের জন্য কোম্পানির নিকট ব্যাংকিং চ্যানেল এর মাধ্যমে পন্য পাওয়ার শর্তে প্রায় ৩৫ কোটি  টাকা প্রেরণ করি। টাকা প্রাপ্তির পর কোম্পানির পক্ষে থেকে আমাদের কে পন্য না দিয়ে কালক্ষেপন করিতে থাকে । কোম্পানির প্রতিনিধিদের সাথে যোগাযোগ করিলে তাহারা বিভিন্ন অজুহাতে আমাদের পন্য না দিয়ে তালবাহানা করিতে থাকে। হয়। এসব টাকার প্রদেয় পণ্য বুঝিয়ে না দিয়ে প্রতিষ্ঠানটি অসৎ উদ্দেশ্যে গত রমজানে অতি গোপনে শুধুমাত্র ইউনিভার্সাল ফুড লিমিটেড বন্ধ ঘোষণা করেন। তাদের অন্যান্য ব্যবসা বর্তমানে ভালভাবে চলমান রয়েছে।

বাধ্য হয়ে কোম্পানির মালিক ড.সোহানী হোসেনের সাথে পন্য বাবদ প্রদেয় পাওনা প্রায় ৩৫ কোটি টাকা কবে এবং কিভাবে ফেরত পাবো, এই ব্যাপারে নিয়ে কথা বলিলে তিনি বিভিন্ন তালবাহানায় সময়ক্ষেপন করিতে থাকেন। পরবর্তীতে আমাদের চাপের মুখে গত ০৬/১১/২০২২ ইং তারিখে হইতে পরবর্তী ০৩ মাসের মধ্যে আমাদের পন্য সরবরাহ করিয়া ব্যবসা চলমান রাখিবে বলে ড. সোহানী হোসেন স্বাক্ষরীত ইউনিভার্সাল কোম্পানী নিজস্ব প্যাডে লিখিত প্রদান করে, যাহার মেয়াদ ০৬/০২/২০২৩ ইং তারিখ শেষ হয়েছে। তিন মাস অতিবাহিত হওয়ার পরেও টাকা না পেয়ে আমরা ইউনিভার্সেল ফুড লি: এর ম্যানেজিং ডিরেক্টর ড. সোহানী হোসেন এর সহিত সাক্ষাৎ করিতে চাহিলে উনি আমাদের সাথে দেখা করেন নাই। উপারন্ত গত কোরবানীর ঈদের কলেকদিন পূর্বে তার পাবলিক রিলেশন অফিসার কে এম ফয়সাল মোর্শেদ টিটু তার ব্যক্তিগত মোবাইল নম্বর 01711301666 দিয়ে আমাকে (মো: কামাল হোসেন) ফোন দিয়ে আমাদেরকে এ ব্যাপারে কোন মানববন্ধন না করতে হুমকি দেন এবং তার ফোনটি ড. সোহানী ম্যাডামকে দেন এবং তিনিও (ড. সোহানী) আমাকে হুমকী দিয়ে বলেন, কার এতো কেরা হয়েছে, কেন এতো গুটি চালাচালি করেন, দেশের অবস্থা ভালো না, সিরিয়াস, এরকম করলে টাকা পাবেন না, কোর্টে যেয়ে মামলা করে টাকা আদায় করেন।”

 তিনি আরও বলেন, ইউনিভার্সেল ফুড লি: এর ম্যানেজিং ডিরেক্টর ড. সোহানী হোসেন এর পাওনা পরিশোধের  লিখিত কমিসমেন্ট এর পরেও ৫ মাস অতিবাহিত হওয়ার পরেও টাকা না পেয়ে বাধ্য হয়ে এ ব্যাপারে সকল কিছু অবগত করে প্রতিকার পাওয়ার আশায় গত ২৬/০২/২০২৩ইং তারিখ জেলার প্রশাসনিক সর্বোচ্চ কর্মকর্তা জেলা প্রশাসক, পাবনা, পুলিশ সুপার, পাবনা, অফিসার ইন চার্জ, পাবনা সদর থানা,  এবং সভাপতি চেম্বার অব কমার্স, পাবনা ও সভাপতি, প্রেস ক্লাব, পাবনা বরাবর আবেদন দিয়েছিলাম। ইউনিভার্সালকে টাকা দিতে গিয়ে ব্যাংক এবং বিভিন্ন আর্থিক প্রতিষ্ঠান ও এনজিও হইতে চড়া সুদে ঋণ নিয়েছিলাম। পন্য এবং টাকা কোনটাই না পেয়ে আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলিকে ঋণের সুদ দিতে গিয়ে আমরা আজ নিঃস্ব হয়েছি। আমাদের অনেকের বাড়ি ঘর বিক্রি করে দিতে হয়েছে, ঋণ পরিশোধ করতে গিয়ে, আবার অনেকের ব্যবসা প্রতিষ্ঠান বন্ধ করে দিতে হয়েছে মূলধনের অভাবে। আজকে আমরা পথের ভিখারি, আমাদের পরিবার এবং আমরা মানবেতর জীবনযাপন..করছি।

কামাল হোসেন আরও দাবী করেন, “আমরা খোঁজ নিয়ে জেনেছি ড. সোহানী সরকারের ২৭০ কোটি টাকার রাজস্ব ফাঁকি এবং আমাদের ৩৫ কোটি টাকা না দেয়ার অসৎ উদ্দেশ্যে ইতিমধ্যে কোম্পানীর কয়েকটি প্রপার্টি বিক্রি করেছেন এবং বাকী সব সম্পত্তি বিক্রি করে বিদেশে পালিয়ে যাওয়ার পায়তারা করছেন। আপনাদের মাধ্যমে সংশ্লিষ্ট প্রশাসনের কাছে আবেদন জানাচ্ছি যাতে তিনি দেশ থেকে পালিয়ে যেতে না পারেন।” তিনি দেশনেত্রী বঙ্গবন্ধু কন্যা জননেত্রী শেখ হাসিনার নিকট এই ২৪০টি পরিবারকে ইউনিভার্সাল কোম্পানীর হাত থেকে রক্ষা করে পাওনা টাকা ক্ষতিপূরণ সহ ফেরত পেতে প্রয়োজনীয় নির্দেশ দিতে আকুল আবেদন জানান।