রোববার ঢাকার নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনাল-৭ এর বিচারক আবেরা সুলতানা খানমের আদালতে সাক্ষ্যগ্রহণে তিনি একথা বলেন।
এদিন মামলার সাক্ষ্য গ্রহণের জন্য দিন ধার্য ছিল। এজন্য সুবাহ আদালতে সাক্ষ্য দেন। এ সময় তিনি মৌখিকভাবে ইলিয়াসের বিরুদ্ধে মামলা চালাবেন না বলে বিচারককে বলেন সুবাহ। সুবাহ আদালতে বলেন, ‘আমাদের দুজনের মধ্যে ডিভোর্স হয়ে গেছে। আমি আর এ মামলা চালাতে চাই না। আমি মামলা প্রত্যাহার করতে চাই।’
এরপর বিচারক আসামি ও বাদীর উপস্থিতিতে মামলা প্রত্যাহারের বিষয় শুনানি জন্য আগামীকাল সোমবার দিন ধার্য করেন।
এদিকে গত ৩ জানুয়ারি যৌতুকের জন্য নির্যাতনের অভিযোগে বনানী থানায় মামলাটি করেন সুবাহ। চলতি বছরের মার্চ মাসে মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা পুলিশের নারী সহায়তা ও তদন্ত বিভাগের উপ-পরিদর্শক মাসুমা আফ্রাদ ইলিয়াসকে একমাত্র আসামি করে অভিযোগপত্র দাখিল করেন।
মামলায় সাক্ষী করা হয়েছে ১১ জনকে। এরপর গত ১৯ মে আদালত অভিযোগপত্র গ্রহণ করেন। গত ১৯ জুন আদালত আসামি ইলিয়াসের বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন করে বিচার শুরুর আদেশ দেন।
মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা মাসুমা আফ্রাদ অভিযোগপত্রে উল্লেখ করেন, সুবাহ একজন অভিনয়শিল্পী এবং আসামি ইলিয়াস একজন কণ্ঠশিল্পী। ২০২১ সালের সেপ্টেম্বরে তাদের পরিচয়। পরিচয়ের সূত্র ধরেই প্রেমের সম্পর্ক। পরে দুই পরিবারের সম্মতিতে ঐ বছরের ১ ডিসেম্বর ইসলামী শরীয়া মোতাবেক বিয়ে হয়। বিয়ের সময় আসামি ইলিয়াসের চাহিদা অনুযায়ী যৌতুক হিসেবে ১২ লাখ টাকা মূল্যের রোলেক্স ব্র্যান্ডের একটি ঘড়ি, ২৫ হাজার টাকা মূল্যের আরেকটি ঘড়ি, এক লাখ টাকার সোনার আংটি, গলার চেইনের জন্য ৫০ হাজার টাকা এবং বিয়ের কাপড় বাবদ দুই লাখ টাকা দেওয়া হয়। এতে সন্তুষ্ট না হয়ে সুবাহর কাছে ফ্ল্যাট কেনার জন্য ৫০ লাখ টাকা ও গাড়ি কেনার জন্য ৩০ লাখ টাকা যৌতুক দাবি করেন ইলিয়াস।
এছাড়া সুবাহর মায়ের কাছে যৌতুক হিসেবে ইউটিউব চ্যানেল কেনার জন্য ১০ লাখ টাকা দাবি করেন। তখনও ইলিয়াসকে আড়াই লাখ টাকা দেওয়া হয়।
অভিযোগপত্রে আরো বলা হয়, সুবাহ জানতে পারেন আসামি ইলিয়াস একাধিক বিয়ে করেছেন। এ বিষয়ে জানতে চাইলে সুবাহকে শারীরিক ও মানসিক নির্যাতন করেন ইলিয়াস। এরপর ঐ বছরের ২৭ ডিসেম্বর আসামি ইলিয়াস যৌতুক হিসেবে আরো ৮০ লাখ টাকা দাবি করেন। এ নিয়ে তাদের মধ্যে ঝগড়া চলছিল। এর জেরে ইলিয়াস কাচের গ্লাস ভেঙে তার ভাঙা অংশ দিয়ে সুবাহকে মারতে যান। তখন সুবাহ থামাতে গেলে তার বাম হাত জখম হয়। পরবর্তীসময়ে ইলিয়াস বিষয়টি নিয়ে সুবাহর কাছে ক্ষমা প্রার্থনা করেন এবং এ ধরনের ঘটনা আর ঘটবে না বলে সুবাহকে প্রতিশ্রুতি দেন।
পরদিন ২৮ ডিসেম্বর ইলিয়াস আবার সুবাহর কাছে ৮০ লাখ টাকা দাবি করেন। এতে সুবাহ অস্বীকৃতি জানালে ইলিয়াস এলোপাতাড়ি কিল-ঘুষি, লাথি মারেন এবং চুলের মুঠি ধরে দেওয়ালের সঙ্গে ঠুকে জখম করে। সুবাহ অসুস্থ হয়ে পড়লে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসা নেন।
মেডিকেল সনদপত্রে সুবাহকে মারপিট করে সাধারণ জখম করার বিষয়টি প্রকাশ পায়। তদন্তকালে ইলিয়াসের বিরুদ্ধে নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইন (সংশোধনী/২০০৩) এর ১১(গ) ধারায় অপরাধ প্রাথমিকভাবে প্রমাণিত হয়েছে বলে অভিযোগপত্রে উল্লেখ করা হয়েছে।