দর্পণ ডেস্ক : রাজধানী মানামায় যুক্তরাষ্ট্র এবং ইসরায়েলি প্রতিনিধি দলের উপস্থিতিতে দু’দেশের মধ্যে চুক্তি স্বাক্ষরের মধ্য দিয়ে আরব আমিরাতের পর এবার ইসরায়েলের সঙ্গে আনুষ্ঠানিকভাবে সম্পর্ক স্থাপন করল বাহরাইন। খবর বিবিসি, আল জাজিরা।

রোববার যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যস্থতায় কূটনৈতিক সম্পর্ক স্থাপনে চুক্তি স্বাক্ষর করেছে বাহরাইন ও ইসরায়েল। ১৯৪৮ সালে ইসরায়েল প্রতিষ্ঠার পর কয়েক দশক ধরেই বেশিরভাগ আরব রাষ্ট্র ইসরায়েলকে বয়কট করে আসছে।

ফিলিস্তিনের সঙ্গে বিরোধ নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত কোন দেশই কূটনৈতিক সম্পর্ক স্থাপন করবে না বলে জানাচ্ছিল। কিন্তু ইসরায়েলের সঙ্গে চুক্তি স্বাক্ষরের মাধ্যমে সংযুক্ত আরব আমিরাত, মিসর, জর্ডান এবং বাহরাইন ইসরায়েলকে স্বীকৃত দিল।

ফিলিস্তিনিরা এই কূটনৈতিক পদক্ষেপের নিন্দা জানিয়ে বলছে, এটা তাদের পিঠে ছুরি মারার শামিল। রোববার সন্ধ্যায় মানামায় এক অনুষ্ঠানে বাহরাইন ও ইসরায়েলের কর্মকর্তারা পূর্ণ কূটনৈতিক সম্পর্ক স্থাপনের লক্ষ্যে একটি যৌথ চুক্তিপত্রে স্বাক্ষর করেন। এখন দুই দেশেই দূতাবাস খোলার বিষয়ে একমত প্রকাশ করেছে।

ইসরায়েলি গণমাধ্যম জানিয়েছে যে, ওই নথিতে ইসরায়েল-ফিলিস্তিন সংঘর্ষ নিয়ে কোনো কিছু উল্লেখ ছিল না। চুক্তি স্বাক্ষরের পরে বাহরাইনের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আবদুল লতিফ বিন রশিদ আল-জায়ানি এক বক্তব্যে বলেন, তিনি দু’দেশের মধ্যে প্রতিটি ক্ষেত্রে ফলপ্রসূ দ্বিপক্ষীয় সহযোগিতা প্রত্যাশা করছেন।

তিনি ফিলিস্তিনি সংঘাতের অবসানে দ্বি-রাষ্ট্রীয় সমাধানসহ এই অঞ্চলে শান্তি প্রতিষ্ঠারও আহ্বান জানান। বাহরাইনের আন্তর্জাতিক ডায়ালিং কোডের সাথে মিল রেখে ইসরায়েলি দল ইআইএআই ফ্লাইট ৯৭৩ নম্বরে সফর করেছে।

তবে মানামায় আসার জন্য সৌদি আরব অতিক্রম করার কারণে তাদেরকে ওই দেশটির বিশেষ অনুমতি নিতে হয়েছে। যদিও ইসরায়েলের সঙ্গে সম্পর্ক স্বাভাবিক করার ব্যাপারে এ পর্যন্ত যতো আহ্বান এসেছে, তার সবই প্রত্যাখ্যান করে আসছেন সৌদি নেতারা।

এই কূটনীতিতে সৌদি আরব ও ইরানের মধ্যে আঞ্চলিক বৈরিতা একটি ভূমিকা রেখেছে ধর্মীয় বিভাজনের কারণে। অর্থাৎ শিয়া মুসলিম শাসিত ইরানের সাথে সুন্নি মুসলিম শাসিত সৌদি আরবের সম্পর্ক গত এক দশকে আরও বৈরী হয়েছে।

সংযুক্ত আরব আমিরাত এবং বাহরাইন এই দুই দেশই সৌদি আরবের মিত্র। এর আগে নানা অনানুষ্ঠানিক যোগাযোগের সময় এই দুই দেশ ইরানকে নিয়ে তাদের উদ্বেগের বিষয়টি ইসরায়েলের কাছে প্রকাশ করেছে।

ইসরায়েলের প্রতিনিধিদের সঙ্গে মার্কিন অর্থমন্ত্রী স্টিভ মুচিনও উপস্থিত ছিলেন। মঙ্গলবার সংযুক্ত আরব আমিরাতে ইসরায়েলের প্রথম প্রতিনিধি দলের সাথেও তার যাওয়ার কথা রয়েছে।

ফিলিস্তিনি নেতারা এই ঘোষণায় রীতিমত অবাক হয়েছেন বলে জানা গেছে। তারা সংযুক্ত আরব আমিরাতের সাথে ইসরায়েলের ওই চুক্তি এবং পরবর্তীতে বাহরাইনের সাথে ইসরায়েলের চুক্তির নিন্দা জানিয়েছে।

গত মাসে যখন এই চুক্তির ঘোষণা দেওয়া হয়েছিল, তখনই বাহরাইন থেকে রাষ্ট্রদূত প্রত্যাহার করে নিয়েছিল ফিলিস্তিন। সেসময় ফিলিস্তিনের পক্ষ থেকে এক বিবৃতিতে বলা হয়েছিল, এটি ফিলিস্তিনি জনগণের জাতীয় অধিকার এবং যৌথ আরব পদক্ষেপের জন্য বড় ক্ষতি।