ঈদুল আজহাকে সামনে রেখে ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় চাহিদা বেড়েছে গো-খাদ্যের। ছবি: ডেইলি বাংলাদেশ

সরজমিনে ক্রেতা-বিক্রেতাদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, জেলা শহরের কাউতলি মোড়, সাবেরা সোবাহান গার্লস স্কুলের সামনে, রেলওয়ে স্টেশনের সামনে, কাজী পাড়া ঈদগাহ মাঠের সামনে, নিয়াজ মোহাস্মদ স্টেডিয়ামের সামনে, ডিসি-এসপি রোডে, টিএ রোড, থানা ব্রিজ সংলগ্ন, মৌলভীপাড়া, ব্রাহ্মণবাড়িয়া উচ্চ বিদ্যারয়ের সামনে, মেড্ডা বাস স্টেশনের সামনে বসেছে এই গো-খাদ্যের বাজার। মূলত যারা গো-খাদ্য বিক্রি করছেন তারা অন্য পেশার সঙ্গে জড়িত কিংবা শ্রমিকের কাজ করেন। 

ঈদুল আজহাকে সামনে রেখে ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় চাহিদা বেড়েছে গো-খাদ্যের।

কোরবানিকে সামনে রেখে গত বুধবার থেকে খর, তাজা ঘাস, ভূষি ও গড় নিয়ে জনাকীর্ণ এলাকায় বসেছেন তারা। একেক বান্ডেল ঘাস ও খর ৪০-৬০ টাকা, ভূষি ৬০-৭০ টাকা ও গড় ১৫০-৩০০ ট্কা দরে বিক্রি করছেন। যারা পশু কিনে নিজ বাড়িতে রাখছেন তারাই মূলত এসবের ক্রেতা। 

ক্রেতারাও মনের আনন্দে কোরবানির পশুর জন্য এই গো-খাদ্য কিনে নিয়ে যাচ্ছেন। অস্হায়ী এই বাজার গুলোতে গো-খাদ্য বিক্রি করায় ক্রেতাদের খুব উপকার হয়েছে বলে তারা জানান। খুব সহজেই তারা হাতের নাগালে এই গো-খাদ্য গুলো পাচ্ছেন তাদের কোরবানির পশুর জন্য।

ডিসি-এসপি রোডে গো-খাদ্য বিক্রিতা জেলা শহরের শেরপুর এলাকার বাসিন্দা মানিক মিয়া জানান, প্রতি বান্ডিল খড় ও কাঁচা ৪০ থেকে ৬০ দরে বিক্রি করছেন। প্রায় দশ বছর দরে তিনি কোরবানি ঈদের আগে এই গো-খাদ্য বিক্রি করে আসছেন। 

ঈদুল আজহাকে সামনে রেখে ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় চাহিদা বেড়েছে গো-খাদ্যের।

তিনি আরো জানান, তিনি মূলত শেরপুর কবর স্হানে মাটি খোড়ার কাজ করেন। একটু বাড়তি লাভের আশায় প্রতি বছর এই গো-খাদ্য বিক্রি করে থাকি। ২ কানি (৩০ শতকে ১ কানি) জমিতে কাঁচা ঘাষ চাষ করেছিলাম, চলতি বন্যায় ২ কানি জমির ঘাষ এখন পানির নিচে।

থানা ব্রিজ সংলগ্ন গো-খাদ্য বিক্রেতা সদর উপজেরার মীরহাটি এলাকার সাদেক মিয়া জানান, আমি পেশায় একজন মুরগি ব্যবসায়ি একটু লাভের আশায় কোরবানি ঈদের আগে এগুলো বিক্রি করে থাকি। আশা করছি ভালো ব্যবসা হবে।

ঈদুল আজহাকে সামনে রেখে ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় চাহিদা বেড়েছে গো-খাদ্যের।

ব্রাহ্মণবাড়িয়া উচ্চ বিদ্যালয়ের সামনে গো-খাদ্য বিক্রেতা জেলা শহরের শেরপুর এলাকার মনা মিয়া ও অলফত খাঁন জানান, মোটামোটি বেচাকেনা হচ্ছে, তবে বিকেল এবং আগামীকাল ভালো ব্যবসা হবে বলে আশা করি। প্রতি কেজি ভূসি ৬০-৭০ টাকা, গড় ১৫০ থেকে ৩০০ টাকা, খর ও কাঁচা ঘাস ৪০ থেকে ৬০ টাকা বান্ডিল দরে বিক্রি করা হচ্ছে। আগে এই ব্যবসার দোকান কম ছিলো, আমাদের বেশি বিক্রি হতো। এবার বেশি দোকান হওয়ায় একটু কম বিক্রি হচ্ছে।

ঈদুল আজহাকে সামনে রেখে ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় চাহিদা বেড়েছে গো-খাদ্যের।

ব্রাহ্মণবাড়িয়া পৌর এলাকার মধ্যপাড়ার খন্দকার সোহরাব হোসেন তুষার কোরবানির জন্য দুুুটি গরু ও একটি খাসি কিনেছি। কোরবানির গরুর জন্য খড় ও ঘাস কিনতে ছুটে এসেছেন ব্রাহ্মণবাড়িয়া উচ্চ বিদ্যালয়ের সামনে। 

কথা হলে হাসি মুখেই বলেন, আরো দুইদিন তো গরু গুলো পালতে হবে। তাই খর ও ঘাস কিনতে এলাম।

পৌর এলাকার পাইকপাড়ার বাসিন্দা মো. রমজান মিয়া ও মেড্ডার সুমন মিয়া বলেন, কোরবানির জন্য গরু কিনেছি। অন্যান্য খাবারের পাশাপাশি খর ও ঘাস কিনতে এসেছি। অস্থায়ী বিক্রেতারা ঘাস ও খর নিয়ে বসায় আমাদের জন্য অনেক সুবিধা হয়েছে।

‘গড়’ বিক্রেতা মো. হায়দার জানান, আজ দুপুর পর্যন্ত তিনি ৬ টি গড় বিক্রি করেছেন। একেকটি গড় সাইজ বুজে ১৫০-৩০০ টাকা করে বিক্রি করেছেন। তিনি আরো বলেন, তেঁতুল গাছ কেটে ৯০টি গড় তিনি তৈরি করেছেন।