ঈদের বাজার নিয়ে অসহায় হাজেরার পাশে ইউএনও  মুন মুন জাহান লিজা

সশরীরে উপস্থিত হয়ে তিনি ঈদের বাজারসহ যাবতীয় সাহায্য সামগ্রী পৌঁছে দিয়েছেন। তিনি বেশ কিছু সময় হাজেরার পাশে অবস্থান করে হাজেরার সার্বিক খোঁজখবর নেন। মাথায় হাত বুলিয়ে হাজেরাকে আদর করেন। পরে উপস্থিত লোকজনকে হাজেরার চলাফেরায় সহায়তা করার জন্য অনুরোধ জানান।

হাজেরা বেওয়ার বয়স শত বছর ছুঁই ছুঁই। অসহায় পথের ভিক্ষুক। পৃথিবীতে হাজেরার আপন বলতে কেউ নেই। ভিটে মাটি, বসতবাড়ি, স্বামী  সন্তান কিছুই নেই তার। ভিক্ষার থলি ছাড়া তার কোনো সম্পদ নেই। ৪০ বছর ধরে ভিক্ষাবৃত্তি করে জীবিকা নির্বাহ করে আসছেন। কিন্তু বয়সের ভারে এখন অচল। বয়স্ক ভাতা, বিধবা ভাতা, ভিজিএফ ও ভিজিডি সব সুবিধা থেকে বঞ্চিত হয়ে অতিকষ্টে জীবন যাপন করছিলেন হাজেরা বেওয়া। 

গণমাধ্যমে হাজেরার কষ্টের কথা জানতে পেরে হাজেরার আজীবন ভরণপোষণের দায়িত্ব নেন বকশীগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী অফিসার মুন মুন জাহান লিজা। সেই মোতাবেক প্রতি মাসে তিনি নিজে হাজেরার কাছে উপস্থিত হয়ে প্রয়োজনীয় নিত্যপণ্য, ওষুধ ও টাকার জোগান দিয়ে আসছেন। উপজেলা নির্বাহী অফিসার মুন মুন জাহান লিজার তত্ত্বাবধানেই বেচেঁ থাকার স্বপ্ন দেখছেন অসহায় হাজেরা বেওয়া।

ইউএনওর মুন মুন জাহান লিজার দাবি যেহেতু তার কোনো আত্মীয়-স্বজন নেই তাই সে জন্য নিজেই তার কাছে গেলে একটু হলেও সে শান্তি পাবে। মানুষ তো মানুষই। নিজ নিজ জায়গা থেকে দায়িত্ব পালন করা প্রতিটি নাগরিকের কর্তব্য। সে হিসেবে দেশের সব যোগ্য ব্যক্তি যদি তার নিজ দায়িত্ব পালন করে তাহলে সমাজে তথা দেশ অনেক উন্নত হবে। সেই সঙ্গে দুর্নীতির মূল শেকড় নির্মূল করাও সম্ভব হবে।