অনলাইন ডেস্ক : মুন্সীগঞ্জের সিরাজদিখানে সাংবাদিক, মুক্ত মনা ব্লগার ও লেখক শাহজাহান বাচ্চুকে (৫৫) গুলি করে হত্যা করেছে দুর্বৃত্তরা। সোমবার সন্ধ্যা অনুমান সাড়ে ৬টায় উপজেলার পূর্ব কাকালদী তিন রাস্তার মোড় এ ঘটনা ঘটে।

পরে পুলিশ ঘটনাস্থল থেকে তাকে উদ্ধার করে সিরাজদিখান উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত ডাক্তার তাকে মৃত ঘোষণা করেন। শাহজাহান বাচ্চু উপজেলার পশ্চিম শিয়ালদী গ্রামের মৃত মন্তাজ উদ্দিন চেয়ারম্যানের পুত্র।

প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, শাহজাহান বাচ্চু কাকালদী তিন রাস্তার মোড়ে আনোয়ারের ওষুধের দোকানে বসে ছিলেন। দুইটা মোটরসাইকেল চার যুবক এসে তাকে ওই ওষুধের দোকান থেকে টেনে হেচড়ে নিয়ে গিয়ে বুকে গুলি করে হত্যা করে।

শাহজাহান বাচ্চুর এক ভাতিজা ( নাম প্রকাশ না করার শর্তে ) বলেন, ‘উনি ব্লগে লেখালেখি করতো। মৌলবাদিরা তাকে প্রতিনিয়ত হুমকি ধমকি দিতো। আজকেও আমার দোকানে বসা ছিল বিকাল ৩টা পর্যন্ত। আমি মাগরিবের আজানের কিছুক্ষণ আগে খবর পেলাম আমার চাচাকে কারা যেন গুলি করে হত্যা করেছে।’

সিরাজদিখান থানার পুলিশ পরিদর্শক (তদন্ত) মোহাম্মদ হেলাল উদ্দিন ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে জানান, দুর্বৃত্তদের গুলিতে শাহজাহান বাচ্চু নামে এক ব্যক্তি নিহত হয়েছে। দোষীদের আমরা গ্রেফতারের চেষ্টা চালাচ্ছি।

শাহজাহান বাচ্চুর মেয়ে আচল জাহান বলেন, ‘আমার বাবা একজন ব্লগার ছিলেন। তিনি ধর্মবিরোধী লেখাখেখি করতেন। গত তিন বছর ধরে তিনি গ্রামের বাড়িতেই বসবাস করতেন।’

সদ্য এসএসসি পাস করা আচল আরও বলেন, ‘আমার বাবার ২ স্ত্রী। আমি দ্বিতীয় স্ত্রীর সন্তান। তার সৎ মা ও সৎ দুই বোন ঢাকার যাত্রাবাড়িতে থাকে। গ্রামের বাড়িতে বাবার সাথে তার মা, সে এবং নবম শ্রেণির পড়ুয়া ভাই। আমার সৎ বোন দূর্বা জাহান বাবার বিশাখা প্রকাশনী চালায়। অন্য বোন বিপাশা জাহানের বিয়ে হয়ে গেছে।

আচল বলেন ‘একসময় যখন ব্লগারদের হত্যা করা হচ্ছিল তখন আমার বাবার নাম ১১ নম্বর লিস্টে ছিল। ২ বছর আগে আমার বাবাকে নিয়মি হত্যার হুমকি দেয়া হকো মুঠোফোনে।’

অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (সিরাজদিখান সার্কেল) আসাদুজ্জামান জানান, দুটি মোটরসাইকেলযোগে ৪ জন দুর্বৃত্ত এই মুক্তমনা লেখককে গুলি করে। এতে ঘটনাস্থলেই তার মৃত্যু হয়। ময়নাতদন্তের জন্য লাশ মুন্সীগঞ্জ জেনারেল হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে।

ঢাকা জেলা প্রশাসন থেকে ডিকলারেশন নেয়া ‘আমাদের বিক্রমপুর’ নামের একটি অনিয়মিত সাপ্তাহিক পত্রিকার ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক হিসেবে তিনি কাজ করতেন শাজাহান বাচ্চু। তিনি জেলা কমিউনিস্ট পার্টির সাবেক সাধারণ সম্পাদক ছিলেন।