এক মালিকের একাধিক সংবাদমাধ্যম না রাখা এবং সাংবাদিকদের সুরক্ষায় একটি আইনের সুপারিশ করেছেন গণমাধ্যম সংস্কার কমিশন প্রধান কামাল আহমেদ।

শনিবার দুপুরে প্রধান উপদেষ্টার বাসভবন যমুনায় এ প্রতিবেদন প্রধান উপদেষ্টার হাতে তুলে দেন কামাল আহমেদ। বের হয়ে এসে সাংবাদিকদের সামনে ব্রিফিংয়ে সাংবাদিক সুরক্ষা আইনের প্রস্তাবের কথা জানান তিনি। এ সময় কমিশনের অপর সদস্যরা এবং প্রধান উপদেষ্টার প্রেস সচিব শফিকুল আলম উপস্থিত ছিলেন।

ব্রিফিংয়ে গণমাধ্যম সংস্কার কমিশনের প্রধান বলেন, আমরা বলেছি ক্রস ওনারশিপ বাতিল করতে হবে। একই মালিকের একাধিক সংবাদমাধ্যম থাকতে পারবে না। একটিকে বেছে নিতে হবে মালিককে। সেক্ষেত্রে অন্যগুলোর মালিকানা হস্তান্তর করতে হবে অথবা যেটি সবচেয়ে শক্তিশালী তার সঙ্গে একীভূত করতে হবে। এসব প্রতিষ্ঠানে কর্মরতরাও যাতে কোনো সমস্যায় না পড়েন সেটিও বলা হয়েছে।

তিনি বলেন, একই ব্যক্তি টেলিভিশন এবং সংবাদপত্রের মালিকানা নিতে পারে না। যুক্তরাষ্ট্রসহ অনেক দেশে এমন বিধান আছে।

টেলিভিশনের আবেদন প্রসঙ্গে তিনি বলেন, সবকটি টেলিভিশন চ্যানেলের অনুমোদনের আবেদন দেখছি, কোথাও জনগণের কথা বলা হয়নি।

বাংলাদেশ টেলিভিশন এবং বেতারের স্বায়ত্তশাসনের সুপারিশ করা হয়েছে জানিয়ে কামাল আহমেদ বলেন, স্বাধীন একটি প্রতিষ্ঠান এই দুটি মাধ্যম চালাবে, একটি সম্প্রচার সংস্থা করার কথা বলেছি। বাসসকে এই দুটির নিউজরুম হিসেবে ব্যবহার করলে সরকারি সম্পদের অপচয় কমানো যাবে।

ইউরোপীয় ইউনিয়ন এরই মধ্যে এই আইন করেছে। সেখানে চাইলেও সাংবাদিকের ফোন তল্লাশি করতে পারে না সরকারি কেউ।

বিসিএস নবম গ্রেডের সমান বেতন-ভাতা সাংবাদিকতায় এন্ট্রি লেভেলে রাখতে বলা হয়েছে। সারা দেশে এটি কার্যকর করতে হবে। ঢাকায় যারা থাকেন তাদের জন্য আলাদা ভাতা থাকবে এখানে। প্রথমে এক বছরের শিক্ষানবিশকাল পার করেই তারপর স্থায়ী সাংবাদিক হিসেবে নিয়োগ দিতে হবে।

কামাল আহমেদ বলেন, সাংবাদিকদের বিজ্ঞাপন এজেন্ট হিসেবে কাজ করতে দেওেয়া যাবে না। সাংবাদিকের কাজ সাংবাদিকতা করা।

ডিএফপির মিডিয়া তালিকায় বিস্তর সমস্যার কথা তুলে ধরেন গণমাধ্যম সংস্কার কমিশনের প্রধান।

তিনি বলেন, আজকের দিনে ঢাকায় এক কোটি ৫১ লাখ পত্রিকা ছাপা হয়েছে সরকারি হিসাব মতে। কিন্তু বাস্তবে ১০ লাখের বেশি হবে না। তাহলে এই এক কোটি ৪১ লাখ পত্রিকার হিসাব কেন এলো। সরকারি বিজ্ঞাপন নেওয়ার জন্য এসব কারসাজি করা হয়েছে।

তিনি বলেন, সরকারি ডিএফপির তালিকায় ছয়শর বেশি পত্রিকা রয়েছে, অথচ ৫২টি পত্রিকা বিক্রি হয় ঢাকায়।
কামাল আহমেদ বলেন, টেলিভিশন টিআরপি কত তা দেখার জন্য আট হাজার ডিভাইস বসানের কথা সারা দেশে। ২০০ ডিভাইস বসানো হয়েছে। এই রিপোর্ট লেখার সময় আরও একশ বসানো হয়েছে। এগুলো বসাতে হবে এবং সবগুলো যাচাইযোগ্য হতে হবে। যাচাই শুধু সরকার বা ওই টেলিভিশন করতে পারবে না, তৃতীয় পক্ষ দিয়ে যাচাইয়েরও সুযোগ থাকতে হবে। আর সেই তৃতীয় পক্ষ হবে সুশীল সমাজ।

প্রতিবেদন জমা দেওয়ার সময় কমিশনের অন্য সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন।

একটি উত্তর ত্যাগ

আপনার মন্তব্য লিখুন দয়া করে!
এখানে আপনার নাম লিখুন দয়া করে