অনলাইন ডেস্ক : ছাত্রী নিপীড়নের অভিযোগে বহিষ্কৃত ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের কবি সুফিয়া কামাল হলের ছাত্রলীগ সভাপতি ইফাত জাহান এশাকে ফুলের মালা পরিয়েছেন ছাত্রলীগের সাবেক নেতারা।
আজ বৃহস্পতিবার সন্ধ্যা ৭টার দিকে এশার বনশ্রীর ই-ব্লকের বাসায় তাকে দেখতে যান ছাত্রলীগের সাবেক কেন্দ্রীয় নেতারা। এ সময় তারা এশার ওপর হামলাকারীদের বিচারের দাবি জানান।
সেখানে উপস্থিত একাধিক নেতার সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, সাবেক নেতাদের দেখে এশা কান্নাকাটি শুরু করেন। তাকে ফাঁসানো হয়েছে বলে ক্ষোভ প্রকাশ করেন। তাকে ঘটনার সময় কোনো কথাই বলতে দেওয়া হয়নি। তার বক্তব্য না শুনেই প্রক্টর স্যার তাকে সব ছাত্রীর সামনে গালি-গালাজ শুরু করে। এতে তিনি সবার সামনে অপরাধী প্রমাণিত হয়ে যান এবং পরিস্থিতি তার প্রতিকূলে চলে যায়। এরপর তিনি নিজের বক্তব্য দেয়ার আর সুযোগ পাননি।


এশা সাবেক নেতাদের কাছে অভিযোগ করে বলেন, ‘আমার অপরাধ প্রমাণিত হলে আমাকে যে শাস্তি দেয়া হতো তা আমি মাথা পেতে নিতাম। কিন্তু ঘটনার পর আমার কোনো কথাই শোনা হয়নি। আমাকে ব্যাপকভাবে শারীরিক ও মানসিক টর্চার করা হয়েছে। কোনো অপরাধ না করেই আমাকে সংগঠন, হল এবং বিশ্ববিদ্যালয় থেকে বহিষ্কার করা হয়েছে।’
এশা আরও বলেন, ‘কষ্টের বিষয় হলো- যে বিশ্ববিদ্যালয় ও হলকে আমি আমার প্রাণের থেকে বেশি ভালবাসতাম, তার ছাত্রীরাই আমার গলায় জুতার মালা পরিয়েছে। একটি বারও আমার কথা শোনার প্রয়োজন মনে করেননি। অপরাধ না করেও আজ আমার এবং আমার পরিবারের যে সম্মানহানি হলো এই সম্মান আমাকে কে ফিরিয়ে দেবে?’
এশার বাড়িতে উপস্থিত ছিলেন- ছাত্রলীগের সাবেক সহসভাপতি জয়দেব নন্দী, শাহিনুর রশিদ সোহেল, ওয়ারেছি চঞ্চল, আব্দুর রহমান জীবন, জিসান মাহমুদ, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মোস্তাফিজুর রহমান মোস্তাক, সাবেক যুগ্ম সাধারণ ও যুব মহিলা লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক সম্পাদক শারমিন সুলতানা লিলি, শামসুল কবির রাহাত, হাসানুজ্জামান তারেক, মামুনুর রশিদ সর্দার, এস এম তরিকুল ইসলাম, রেজাউল হাফিজ রেশিম, সাবেক সাংগঠনিক সম্পাদক শিহাবুজ্জামান শিহাব, আফরিন নুসরাত, সাবেক গ্রন্থনা ও প্রকাশনা সম্পাদক নবেন্দু সাহা নব, সাবেক দফতর সম্পাদক শেখ রাসেল, সাবেক ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় সভাপতি মেহেদী হাসান, সাধারণ সম্পাদক ওমর শরীফ, সাবেক সহসম্পাদক শারমিন সুলতানা তনমী ও জাকিয়া নিপাসহ আরও অনেকে।
গত মঙ্গলবার (১০ এপ্রিল) দিবাগত রাতে কোটা সংস্কারের আন্দোলনে অংশ নেওয়ায় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের (ঢাবি) কবি সুফিয়া কামাল হলের কয়েকজন ছাত্রীকে রাতে মারধর করা হয়েছে এমন অভিযোগ এনে হলটির সভাপতি ইফাত জাহান এশাকে হল, বিশ্ববিদ্যালয় এবং সংগঠন থেকে বহিষ্কার করা হয়। ‘আন্দোলনে অংশ নেয়ায় ছাত্রীর রগ কেটে দেয়া হয়েছে’ এমন তথ্য সামাজিক যোগাযোগে ছড়িয়ে পড়লে বিভিন্ন হল থেকে ছাত্ররা এসে হলটির সামনে জড়ো হয় এবং ঘটনার প্রতিবাদ জানান।