যোগাযোগের অন্যতম মাধ্যম ‘কথা’, এবং বর্তমানে সফলতা অর্জনের একটি বড় হাতিয়ার। আর সুন্দর করে কথা বলা এক ধরনের আর্ট। পৃথিবীতে এমন অনেক মানুষ আছে যারা শুধু সুন্দর কথার মাধ্যমেই অনেক সমস্যার সমাধান নিমিষেই করে ফেলেন। আসলে একেকজনের কথা বলার ধরন একেক রকম।

শুধু সুন্দর করে কথা বলার গুণ আপনার ক্যারিয়ারকে নিয়ে যেতে পারে অনন্য উচ্চতায়। শিক্ষকের সঙ্গে, ব্যবসায়িক বা কোনো উদ্ভাবনী ভাবনা উপস্থাপনের সময়, এমনকি করপোরেট দুনিয়ায় বুদ্ধিদীপ্ত কথা আপনার লক্ষ্য অর্জন অনেক সহজ করে দিতে পারে। হার্ভার্ড বিজনেস রিভিউয়ের তথ্যমতে, যাঁরা পেশাজীবনে প্রাঞ্জলভাবে কথা বলেন, তাঁদের সাফল্য আসে দ্রুত। আবার কথা বলা কিন্তু একটি শিল্পও বটে। সাবলীল কথা বলার গুণ চর্চার মাধ্যমে আয়ত্ত করা যায়।

কথা বলার ধরনের সাথে কথা বলার কিছু কৌশলও রয়েছে। যা জীবনে চলার পথে প্র্যাকটিস করলে ভালো ফল পাওয়া সম্ভব হবে। তাই সুন্দর করে কথা বলে, সমস্যা জয়ের কৌশল জেনে নিনঃ-

সর্বদা পরিস্থিতি বুঝে কথা বলুন।
কথা বলার সময় মৃদু ও নম্রস্বরে এবং যতটা সম্ভব স্পষ্টভাবে কথা বলার চেষ্টা করুন।
এমনভাবে কথা বলবেন যেন শ্রোতা আপনার কথা বুঝতে পারে।
যে বিষয় সম্পর্কে আপনি জানেন সে বিষয় নিয়ে কথা বলুন। অন্যথায় চুপ করে থাকুন।
কথার মাঝখানে কথা বলে অন্যের মুড নষ্ট করবেন না।
শুধু নিজে কথা না বলে অন্যকেও কথা বলতে সুযোগ দিন।
কখনও একনাগাড়ে কথা বলে যাবেন না, অন্যের কথাও মনোযোগ দিয়ে শুনার চেষ্টা করুন। অন্যজন কী বলতে চায়, কী বোঝাতে চায়-তা বুঝতে চেষ্টা করুন, না বুঝলে তাকে আবার সেই কথাটি পূনরায় বলতে বলুন, তবে যেন আবার বারবার এমনটা না হতে থাকে সেদিকে সতর্ক থাকবেন।
কোনো কথার বিরপীতে কথা বলতে চাইলে শান্তভাবে কথা বলুন।
উত্তেজিতভাবে চেঁচামেচি করে কথা বলা উচিত নয়, আর এটা শোভনীয়ও নয়।
কখনও গাড়ি থেকে কাউকে চেঁচিয়ে ডাকবেন না। এতে অন্যদের মাঝে বিরক্তিকর পরিস্থিতির সৃষ্টি হবে। অসুস্থ্য লোক গাড়িতে থাকলে তার কষ্ট হতে পারে আপনার উচ্চস্বরের কারণে।
কারো সাথে কথা বলার সময় অবাঞ্ছিত কোনো শব্দ করবেন না বা অসৌজন্যমূলক আচরণও করবেন না। এতে করে আপনার প্রতি শ্রোতার সম্মানবোধ কমে যেতে পারে।
কথা বলতে বলতে ঝগড়া-বিবাদে জড়িয়ে পড়বেন না কিংবা অযথা বা অপ্রয়োজনীয় তর্কে মেতে উঠবেন না। এমন পরিস্থিতি সৃষ্টির সম্ভাবনা দেখা দিলে কথা না বাড়িয়ে সে জায়গা থেকে সরে যাওয়াই হবে উত্তম কাজ।
রাস্তাঘাটেও যথা সম্ভব মার্জিতস্বরে কথা বলার চেষ্টা করুন। কারণ পথে ঘাটে চিৎকার করে কথা বললে অন্য মানুষরা আপনাকে সন্দেহের চোখে দেখতে পারে বা বিরূপ মন্তব্য করতে পারে।
অল্প পরিচিত কোনো নারী বা পুরুষের সাথে নিজের সমস্যার কথা বলবেন না। খুব ঘনিষ্ঠ না হলে ব্যক্তিগত কথা বলা উচিত হবে না কারণ এতে করে আপনারই সমস্যা হতে পারে।
অধিক কথা বলে কোনো অনুষ্ঠানকে ঘোলাটে করবেন না।
কারো অন্যায় সমালোচনা করা উচিত নয়। কোনো অন্যায় করে থাকলে ক্ষমা প্রার্থনা করুন-কারণ ক্ষমা প্রার্থনা মহৎ গুণ।
সুচিন্তিতভাবে আপনার কথা বলুন- এলোমেলো, অগোছালো বা আজেবাজে অর্থহীন কথা বলা পরিহার করুন।
মনে রাখবেন সঠিক সময় সঠিক ভাবে কথা বলতে না পারলে অনেক সময় অনেক ছোট সমস্যাও বড় আকার ধারন করে আবার এই কথার ভিক্তিতেই অনেক বড় সমস্যার সমাধানও হয়ে যায় খুব সহজেই। জীবনের সাথে সমস্যা অতঃপ্রত ভাবে জড়িত তাই সুন্দর করে কথা বলার মধ্য দিয়েই সমস্যা সমাধান করে ভালো থাকুন।

নিচে নিচে ১৭টি উপায় নিয়ে আলোচনা করা হলো। যেগুলো অনুসরণ করে আপনিও সুন্দরভাবে কথা বলতে পারবেন:

১. শরীর ও মুখের অভিব্যক্তি প্রকাশ করা শিখুন: হাসিমুখে কথা বলা শিখুন আর শরীরী ভাষার দিকে নজর দিন। কথা বলার সময় হাত কোথায় রাখছেন, ঘাড় কতটুকু বাঁকাচ্ছেন কিংবা ভ্রু কতটুকু ব্যবহার করছেন—সবটাই খেয়াল রাখুন। চোখে চোখ রেখে কথা বলা শিখুন। যাঁর সঙ্গে কথা বলছেন, তাঁর দিকে না তাকিয়ে কথা বলা অসম্মান ও অভদ্রতা। আয়নার সামনে দাঁড়িয়ে নিজের শরীরী ভাষা সংশোধনে সময় নিন। টানা পাঁচ সপ্তাহ এমন চেষ্টা করুন, নিজের মধ্যে পরিবর্তন দেখবেন।

২. আত্মবিশ্বাসের সাথে কথা বলুন: ধরা যাক, ক্লাস বা অফিসের কোন প্রেজেন্টেশন। টপিক সম্পর্কে আপনার খুবই ভাল ধারণা থাকা সত্ত্বেও শুধু মাত্র আত্মবিশ্বাসের অভাবে প্রতিযোগিতায় পিছিয়ে পড়ছেন আপনি। ভয়েস টোন বাড়ান। যেখানে জোরে কথা বলা দরকার সেখানে জোরে, যেখানে আস্তে কথা বলা দরকার সেখাসে আস্তে কথা বলুন। এবং এমন ভাবে কথা বলুন, যাতে শ্রোতার মনে ধারনা জন্মে আপনি যা বলছেন তা সঠিক। এমনকি আত্মবিশ্বাসের সাথে মিথ্যা বলেও আপনি পার পেয়ে যেতে পারেন অনেক সময়।

৩. বলার আগে চিন্তা করুন: হুট করে কোন কথা বলে ফেলার চেয়ে বরং একটু সময় চিন্তা করুন আপনি কি বলতে যাচ্ছেন, যেটা বলতে যাচ্ছেন সেটা সম্পর্কে আপনার যথেষ্ট ধারণা আছে কি না এবং আপনার কথায় শ্রোতার কেমন প্রতিক্রিয়া হতে পারে। কথা বলার আগে একটু চিন্তা করার ফলে অনেক বেফাঁস কথা বলার হাত থেকে বেঁচে যাবেন, এবং আপনার কথা হয়ে উঠবে অনেক বুদ্ধিদীপ্ত।

৪. একটু বিরতি দিয়ে কথা বলুন: আমরা যখন বাসায় বা বন্ধুদের সাথে কথা বলি তখন আমাদের খেয়াল থাকে না যে আমরা কি বলছি। হড়বড় করে সব কথা বলে ফেলি অনেক দ্রুত। এর চেয়ে একটু ধীরে প্রত্যেকটা শব্দের উপর পর্যাপ্ত জোর দিয়ে কথা বলার চেষ্টা করুন। এতে করে আপনার কথা সবাই প্রথমবারেই বুঝবে এবং আপনাকে দেখবে একটু আলাদা দৃষ্টিতে।

৫. শুনুন এবং বুঝুন: শুধু মাত্র আপনিই হড়বড় করে সব বলে যাবেন, এটা স্মার্টনেসের মধ্যে পড়ে না। বরং আপনি যার সাথে কথা বলছেন তার প্রত্যেকটা কথা শোনা এবং বোঝাও স্মার্টনেসের অন্তর্ভুক্ত। কেউ আপনার সাথে কথা বলার সময় তাকান সরাসরি তার দিকে, তার চোখের দিকে। কোন কথা বুঝতে সমস্যা হলে তার ঠোটের দিকে তাকিয়ে বুঝতে চেষ্টা করুন সে কি বলছে। এটাকে বলে ‘লিপ রিডিং’ যেটা কম শ্রবন শক্তির অধিকারী মানুষজন ব্যবহার করে থাকেন। তার কথায় সম্মতি জানান, মাথা বা হাত নেড়ে তাকে বোঝান যে আপনি তার কথা মন দিয়ে শুনছেন। এবং কারো কথা শোনার সময় মন দিয়ে শুনুন এবং তার প্রশ্ন বুঝার চেষ্টা করুন। কারণ প্রশ্ন ঠিকভাবে বুঝলেই কেবল আপনি ঠিক উত্তরটা দিতে পারবেন, এতে অনেক ভুল বুঝাবুঝিও কমবে।

৬. আঞ্চলিকতার টান পরিহার করা শিখুন: বিশ্ববিদ্যালয় কিংবা পেশাদারি যেকোনো কাজে বাংলা ভাষায় সুন্দর করে কথা বলতে নিজের আঞ্চলিকতা পরিহারের চেষ্টা করুন। শুরুতে হয়তো সমস্যা হবে, কিন্তু আঞ্চলিকতা অবশ্যই পরিহার করা যায়। টানা ছয়-সাত সপ্তাহ সময় দিলে আঞ্চলিক টান কথায় কমিয়ে আনতে পারবেন। ইংরেজিতে কথা বলার সময় পরিষ্কারভাবে ব্রিটিশ কিংবা আমেরিকান উচ্চারণ অনুসরণ করুন। কথার মধ্যে কখন, কীভাবে, কতটুকু বিরতি নিতে হয়, তা নিজেই উপলব্ধি করুন।

৭. কিছু শব্দের উচ্চারণ সঠিক করুন: অনেক সময় দেখা যায় আমরা ঠিকঠাক কথা বলছি। কিন্তু কিছু শব্দের বেলায় আমরা সেই ভুল উচ্চারণই করে যাচ্ছি। প্রথমে চিহ্নিত করুন ঠিক কোন কোন শব্দ উচ্চারণে আপনার সমস্যা হচ্ছে। যেমন, আমরা অনেকেই বলি “কেমন আসেন” “ভাল আসি” ।কিন্তু ‘স’ এর জায়গায় যদি ‘ছ’ ব্যবহার করা যায় তাহলে “কেমন আছেন” কথাটা অনেক শ্রুতিমধুর শোনায়। অনেকে ‘প’ এর জায়গায় ‘ফ’ ব্যবহার করেন, অথবা ‘ব’ র জায়গায় ‘ভ’ । এই সামান্য কিছু শুব্দের শুদ্ধ উচ্চারণ কিন্তু আপনার কথা আকাশ পাতাল ফারাক এনে দিতে পারে। তবে পরিবর্তন একদিনে হবে না। নিজে প্র্যাকটিস করুন। আয়নার সামনে দাঁড়িয়ে। নিজের বাসা থেকেই।

৮. মিশ্র ভাষা পরিহার করুন: অনেকে মনে করেন ইংরেজিতে কথা বলা, হিন্দিতে কথা বলা বেশ একটা ভাবের ব্যাপার। আপনি ইংরেজিতে অবশ্যই কথা বলবেন। কারন এটা আন্তর্জাতিক ভাষা। তবে তখনই, যখন আপনার দরকার হবে এই ভাষায় কথা বলা। অথবা বন্ধুদের সাথে অনুশীলন করতে পারেন। আপনার উপকারই হবে। কিন্তু বিনা কারণে ইংরেজিতে কথা বলা অন্য একজন বাঙ্গালির সাথে শুধু মাত্র স্মার্টনেস দেখানোর জন্য! এটা বোকামি। তার উপর আবার একটা বাক্যের অর্ধেক ইংরেজি অর্ধেক বাংলা! আপনি যদি ভেবে থাকেন এভাবে কথা বললে সবাই আপনাকে বেশ স্মার্ট ভাববে, তাহলে আপনার ধারণা ভুল।

৯. শব্দভান্ডার বাড়ান: হোক বাংলা কিংবা ইংরেজি, সব ভাষার ক্ষেত্রেই পর্যাপ্ত শব্দ জানা আবশ্যক। এতে করে আপনাকে চিন্তা করতে হবে না যে এই শব্দের পর আপনি অন্য কোন শব্দ ব্যবহার করবেন। আমরা দৈনন্দিন জীবনে যেসব শব্দ ব্যবহার করি, বাংলা অভিধান খুলে তার সমার্থক শব্দগুলো দেখে নিতে পারেন। অথবা এমন অনেক শব্দ খুঁজে নিতে পারেন যেগুলো সাধারণ কথায় আমরা খুব কমই ব্যবহার করি, এবং তা প্রয়োগ করুন উপযুক্ত ক্ষেত্রে বুঝে। এতে আপনার কথা যেমন সুন্দর হবে তেমনি শ্রোতার মনে আপনার জ্ঞান সম্পর্কে ভাল ধারনা জন্মাবে।

১০. অঙ্গভঙ্গি: অঙ্গভঙ্গি আপনার কথার মুল্য অনেকগুন বাড়িয়ে দিতে পারে সঠিক বডি ল্যাংগুয়েজ। আপনার এক্সপ্রেশন, দাঁড়ানো বা বসার ভঙ্গি, হাত নাড়ানো এসব দিকে মনযোগ দিন। কোন কিছুই অতিরিক্ত করার দরকার নেই। তবে কথার সাথে যেন অঙ্গভঙ্গি খাপ খায় সে চেষ্টা করুন। অনেকের অভ্যাস থাকে অন্যের সাথে কথা বলার সময় কাঁধে হাত দেয়া, বা বারবার গায়ে খোঁচা দিয়ে নিজের দিকে মনযোগ ফেরানোর। আপনার যদি এমন কোন অভ্যাস থেকে থাকে, দয়া করে এখনি পরিহার করুন।

১১. অন্যকে অনুসরণ করুন, শিখুন : সুন্দর করে কথা বলার শিল্প রপ্ত করতে টেড–এর বিভিন্ন ভিডিওসহ হার্ভার্ড বিজনেস রিভিউ কিংবা ব্লুমবার্গ বিজনেস ম্যাগাজিনের বিভিন্ন ভিডিও দেখুন। হার্ভার্ড বিশ্ববিদ্যালয়সহ বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষকেরা লাইভ ভিডিও লেকচার দিয়ে থাকেন, সেগুলো দেখুন। ভিডিও থেকে তাঁদের মতো করে কথা বলা, বাক্য ব্যবহার আর শব্দ প্রয়োগ আয়ত্ত করুন। আপনি পেশাজীবনে যাঁর মতো হতে চান, তাঁকে অনুসরণ করতে পারেন।

১২. বুঝে কথা বলুন, শ্রোতাকেও বুঝুন: কথা বলার সময় মুখ আর মস্তিষ্কের মধ্যে সমন্বয় আনার চেষ্টা করুন। কথা শুরুর আগে কী বলবেন, তা গুছিয়ে নিন, প্রয়োজনে টুকরো কাগজে লিখে নিন। আপনি যাঁর সঙ্গে কথা বলছেন, তিনি কথা বুঝতে পারছেন কি না, সেদিকে মনোযোগ দিন। আপনি কী বলছেন, তার চেয়ে বেশি গুরুত্বপূর্ণ হলো আপনার শ্রোতা কী শুনছেন বা কী বুঝছেন। আপনার কথায় আত্মবিশ্বাস থাকতে হবে। শ্রোতার মুখ ও শরীরের অভিব্যক্তি দেখে শ্রোতাকে বুঝতে চেষ্টা করুন।

১৩. বক্তৃতার ক্ষেত্রে কৌশলী হোন: অনেক মানুষের সামনে, মঞ্চে দাঁড়িয়ে কথা বলার সময় আপনাকে খুবই কৌশলী হতে হবে। শ্রোতাদের চোখে তাকান। তাঁদের প্রতিক্রিয়ার ওপর নির্ভর করে আপনার স্ক্রিপ্ট পরিবর্তন করতে হতে পারে, সে জন্য তৈরি থাকুন। খুব দ্রুত কথা বলছেন কি না, সেটা বুঝতে হলে আগে নিজেই নিজের কথা মুঠোফোনে রেকর্ড করুন। বারবার অনুশীলন করুন।

কথা বলার সময় অবশ্যই বক্তব্য গুছিয়ে নেবেন। অন্তত একটা ছক তৈরি করে নিন। প্রথম মিনিটে কী বলবেন, দ্বিতীয় মিনিটে কী আলোচনা করবেন আর বক্তব্য শেষ করবেন কীভাবে—সাজিয়ে নিন।

১৪. থিসিস বা গবেষণা উপস্থাপন: জটিল বাক্য ও নেতিবাচক কথা পরিহার করুন, যাঁরা গুছিয়ে কথা বলেন, তাঁরা আসলে কম শব্দে খুব বেশি কাজের কথা বলেন। কথা বলার সময় জটিল বাক্য ব্যবহার করবেন না। শব্দভান্ডার কিংবা বিদ্যার দৌড় কখনোই কথার মধ্যে প্রকাশের চেষ্টা করবেন না। সরল ও সাধারণ শব্দ ও বাক্যে কথা বলার চেষ্টা করুন। খেয়াল রাখবেন, কথা বলার সময় অন্য কারও নামে নেতিবাচক বাক্য কিংবা শব্দ কোনোভাবেই বলবেন না। নেতিবাচক বাক্য ব্যবহারে আসলে নিজের দুর্বলতাই প্রকাশ পায়। সমালোচনা করতে হলে যৌক্তিকভাবে করুন। বুদ্ধিমত্তার পরিচয় দিন।

১৫. সমস্যা নয়, সমাধান বলুন:  ধরুন, আপনি একজন বিনিয়োগকারীর সঙ্গে লিফটে উঠেছেন। ত্রিশ সেকেন্ডের জন্য তাঁর সঙ্গে নিরিবিলিতে কথা বলার সুযোগ আপনি পাচ্ছেন। এই অল্প সময়ের মধ্যে কীভাবে তাঁর সামনে কোনো ‘আইডিয়া’ উপস্থাপন করবেন? ২০-৩০ সেকেন্ডের মধ্যে কার্যকরভাবে একটা ভাবনা উপস্থাপন করাকে বলা হয় ‘এলিভেটর পিচ’। এসব ক্ষেত্রে সমস্যা নয়, সমাধান বলুন। শ্রোতার আগ্রহের জায়গা সম্পর্কে আগে জেনে নিন, সেভাবেই আপনার বক্তব্য তৈরি করুন। ‘আরেকটু সময় পেলে বোঝাতে পারতাম,’ এই মনোভাব রাখবেন না।

১৬. বলতে হলে পড়তে হবে: যাঁরা সুন্দর করে কথা বলেন, তাঁরা কিন্তু ব্যক্তিজীবনে অনেক পড়াশোনা করেন। পড়ার বিকল্প নেই। ফিকশন, নন-ফিকশন—সব ধরনের বই পড়ুন। নানা ধরনের বই পড়লে নিজের মধ্যে নানা বিষয়ে জ্ঞান ও তথ্য জমা হয়, তাই কথা বলার সময় গুছিয়ে বলে ফেলার শিল্প রপ্ত করা সহজ হয়। যেকোনো মিটিং কিংবা পাবলিক স্পিকিংয়ের ক্ষেত্রে কথা শুরুর আগে শ্রোতা কিংবা যাঁর সঙ্গে কথা বলছেন, তাঁর বা তাঁদের অনুমতি নিয়ে শুরু করুন। শ্রোতার মনোযোগ ধরে রাখার জন্য সঠিক তথ্য ব্যবহার করে কথা বলুন। খেয়াল রাখবেন, শ্রোতা যা জানেন, তার পুনরাবৃত্তি করা ঠিক নয়।

১৭. চর্চাই সব: হুট করে সুন্দর কথা বলার শিল্প আয়ত্তে আসে না। নিজেকে বদলাতে চার থেকে পাঁচ মাস সময় দিন। এই বিনিয়োগ কিন্তু আজীবন কাজে আসবে। শেখার সময় ভুল হবেই, তা-ও শিখতে থাকুন। বাড়ির বড়দের কিংবা বিশ্ববিদ্যালয়ের বন্ধুদের কাছ থেকে আপনার যত ভুল, তা জেনে নিন। মানুষের কটাক্ষে মন খারাপ না করে ভুল সংশোধনে মনোযোগ দিন। স্পষ্ট করে কথা বলুন।

১৭. চর্চাই সব: হুট করে সুন্দর কথা বলার শিল্প আয়ত্তে আসে না। নিজেকে বদলাতে চার থেকে পাঁচ মাস সময় দিন। এই বিনিয়োগ কিন্তু আজীবন কাজে আসবে। শেখার সময় ভুল হবেই, তা-ও শিখতে থাকুন। বাড়ির বড়দের কিংবা বিশ্ববিদ্যালয়ের বন্ধুদের কাছ থেকে আপনার যত ভুল, তা জেনে নিন। মানুষের কটাক্ষে মন খারাপ না করে ভুল সংশোধনে মনোযোগ দিন। স্পষ্ট করে কথা বলুন।