কলাপাড়া প্রতিনিধি: ’স্যার আমার নামডা পত্রিকায় দেলেন ক্যা? চেয়ারম্যান হের লোকজন দিয়া মোরে কাইল পরিষদে ধইররা নেছেলে। আমারে অনেক হুমকী ধামকি দেছে। হেসময় ৯মেম্বরও উপস্থিত আছেলে।’ এভাবেই কেঁদে এ প্রতিবেদককে বলেন ভিজিএফ’র চাল বিতরনে অনিয়মের প্রতিবাদকারী হতদরিদ্র জেলে মো: ইয়াকুব হাওলাদার।

ইয়াকুব আরও বলেন, ’মুই তো আর এলাকায় থাকতে পারমুনা। চেয়ারম্যান কইছে তুই বেশী বাড়ছো। ইউএনও আর সাংবাদিকগো কইছো। তুই আর এলাকায় থাকতে পারবিনা। তোর বাড়ী খাস জাগার উপরে। তোরে উচ্ছেদ কইরা হেইহানে লাল নিশান দিয়া দিমু। ইউনিয়ন পরিষদ থেকে তুই আর কোনও সাহায্য পাবিনা। তোরে যেকোন সময় গাঁজা, বাবা দিয়া ধইরা পুলিশে দিমু।’

সরকারের তালিকাভুক্ত হতদরিদ্র, প্রান্তিক ও দুস্থ্য জেলেদের জন্য বরাদ্দকৃত বিশেষ ভিজিএফ’র চাল বিতরনে অনিয়মের অভিযোগ সংক্রান্ত প্রতিবেদন সোমবার (৩০মার্চ) গনমাধ্যমে প্রকাশের পর দায়িত্ব প্রাপ্ত বিআরডিবি ও সমাজসেবা’র দুই তদারকি কর্মকর্তাকে শোকজ করেন কলাপাড়া ইউএনও। এছাড়া অভিযুক্ত ধূলাসার ও চম্পাপুর ইউপি চেয়ারম্যানকে বিষয়টি জানতে তলব করেন ইউএনও। একই সাথে ভুক্তভোগী জেলেদের চাল সমন্বয় করে দেয়া সহ অনিয়মের বিষয়ে তদন্ত করে প্রতিবেদন দিতে বলেন ইউএনও। সোমবার রাতে কলাপাড়া ইউএনও আবু হাসনাত মোহাম্মদ শহিদুল হক এ নির্দেশ দিয়েছেন বলে উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা তপন কুমার ঘোষ নিশ্চিত করেন।

এরপর মঙ্গলবার ধূলাসার ইউপি চেয়ারম্যান আ: জলিল মাষ্টার’র ক্যাডার বাহিনী ভিজিএফ’র চাল বিতরনে অনিয়মের অভিযোগকারী চরগঙ্গামতি গ্রামের প্রান্তিক জেলে মজিদ হাওলাদার’র পুত্র ইয়াকুব হাওলাদার (৩২) কে জোরপূর্বক মোটরসাইকেলে তুলে নিয়ে যায়। পরিষদে নেয়ার পর চেয়ারম্যান তাকে বেঁধে ফেলার নির্দেশ দেন অনুসারীদের। নিরুপায় ইয়াকুব সকলের হাত পা ধরে প্রায় দু’ঘন্টা পর কোন রকম রক্ষা পেয়ে বাড়ী ফেরেন। সেই থেকে তার খাওয়া দাওয়া বন্ধ। এখন পরিবার পরিজন নিয়ে অজানা আতংকে পড়েছে ইয়াকুব।

নামপ্রকাশে অনিচ্ছুক ধূলাসার ইউনিয়ন পরিষদের একটি সূত্র জানায়, পরিষদের সদস্যদের নিয়ে চেয়ারম্যান সভা করেছেন। চাল নিয়ে ঝামেলা হওয়ায় প্রশাসন ও পত্রিকা ম্যানেজ করতে বেশ কিছু টাকা লাগবে বলে চেয়ারম্যান বলেছেন। এজন্য ভিজিডি, ভিজিএফ সুবিধাভোগীদের হতে উদ্বৃত্ত চাল বিক্রী করে এ খাতে খরচ করার কথা চেয়ারম্যান বলেছেন।

এ বিষয়ে ধূলাসার ইউপি চেয়ারম্যান আবদুল জলিল মাষ্টার বলেন, ’ইয়াকুবের সাথে আমার দু’এক দিনে দেখা হয় নাই। ইয়াকুব পরিষদেও আসে নাই। পরিষদের তো নয়জন মেম্বর আছে, তাদের কাছে জিজ্ঞাসা করেন। ইয়াকুবকে হুমকী দেয়ার প্রশ্নই আসেনা।’

ইউএনও আবু হাসনাত মোহাম্মদ শহিদুল হক বলেন, ’আমাকে ধূলাসারের ভিজিএফ নিয়ে একজন জেলে মুঠো ফোনে জানিয়েছিল। বিষয়টি পত্রিকায়ও দেখেছি। এনিয়ে কোন ছাড় দেয়ার সুযোগ নাই। অভিযোগকারী জেলে তাকে হুমকী দেয়ার বিষয়ে আমাকে জানায়নি।’

প্রসংগত, করোনা সংক্রমন এড়াতে দেশ যখন লাকডাউনে তখন প্রান্তিক জেলেদের মাঝে সরকারের বিশেষ খাদ্য বরাদ্দের মাথা পিছু ৪০ কেজি ভিজিএফ চাল নিয়ে অনিয়মের অভিযোগ ওঠে ধূলাসার ও চম্পাপুর ইউপি চেয়ারম্যানের বিরুদ্ধে। উপজেলার ধূলাসার ইউনিয়নের ৮নং ওয়ার্ড জেলে পাড়া খ্যাত চরগঙ্গামতি গ্রামের প্রান্তিক জেলেরা তাদের মাথাপিছু বরাদ্দের ৮০ কেজির স্থলে চাল পরিমানে কম পাওয়ায় হতদরিদ্র জেলে ইয়াকুব হাওলাদার প্রতিকার পেতে মুঠো ফোনে বিষয়টি সোমবার (৩০মার্চ) কলাপাড়া ইউএনওকে জানান। একই অভিযোগ চরগঙ্গামতি গ্রামের প্রান্তিক জেলে ইব্রাহিম মুন্সী, কুদ্দুস মুসুল্লী, দেলোয়ার তালুকদার, ইউসুফ, মনির গাজী, রুবেল গাজী, বেল্লাল ফকির, রাসেল সিকদার, হাসান সিকদারের।