অপ্রাপ্তবয়স্ক এক কিশোরীকে বন্দুক দেখিয়ে ধর্ষণের অভিযোগ উঠেছে পাকিস্তানের লেগ স্পিনার ইয়াসির শাহের বিরুদ্ধে। সেই বালিকা ইতোমধ্যেই ইয়াসির শাহ ও তার এক বন্ধুর বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করেছেন।

মামলার নথিতে ১৪ বছরের বালিকা জানিয়েছে, ইয়াসির এবং ফারহান (ইয়াসিরের বন্ধু) জোর করে অস্ত্রের মুখে তাকে ধর্ষণ করে এবং ধর্ষণের সেই ভিডিও ক্যামেরাবন্দি করেন। পাশাপাশি এই ঘটনার কথা যাতে বাইরে না আসে সেই বিষয়ে বিভিন্ন ভাবে তাকে ভয়ও দেখিয়েছেন ইয়াসির।
মেয়েটির দাবি, ‘বিষয়টি পুলিশকে জানালে ইয়াসির আমাকে বলে যে ও আমাকে একটি ফ্ল্যাট কিনে দেবেন এবং আগামী ১৮ বছরের জন্য আমার খরচও বহন করবে।’

ইসলামাবাদের শালিমার পুলিশ স্টেশনে দায়ের কৃত মামলায় বলা হয়েছে, ধর্ষণের শিকার হয়েছেন ১৪ বছরের এক কিশোরী। আর সেই কিশোরীকে অস্ত্রের মুখে ধর্ষণ করেছেন ইয়াসিরের বন্ধু ফারহান। এর ভিডিও ধারণ করে পরে ছড়িয়ে দেওয়ার ভয়ও দেখানো হয়েছে মেয়েটিকে। মামলায় বলা হয়, ঘটনাটি ঘটেছে গত ১৪ আগস্ট। তবে এখনও কাউকে গ্রেফতার করা হয়নি।

অভিযোগে কিশোরী বলেছেন, ‘আমি ওই ঘটনার পর ইয়াসিরের সঙ্গে হোয়াটসঅ্যাপে যোগাযোগ করি। তাকে সব কিছু খুলে বলি। কিন্তু ঘটনা শুনে ও হেসে দিয়েছিল। আর বলেছিল কম বয়সী মেয়ে তার ভালো লাগে।’

পাকিস্তানের এক সংবাদমাধ্যমের খবর অনুযায়ী, মামলার নথিতে লেখা আছে, ‘ইয়াসির শাহ ওই বালিকা’কে বলেছিলেন, তিনি একজন প্রভাবশালী ব্যক্তি এবং একাধিক উচ্চ পদস্থ পুলিশের সঙ্গে পরিচিতি রয়েছে তার। ঘটনার কথা বাইরে জানাজানি হলে মৃত্যু ভয় পর্যন্ত দেখানো হয়েছিল।’

বাদী এমনও দাবি করেছেন যে, ইয়াসির ও ফারহান নাকি প্রায়ই অপ্রাপ্তবয়স্ক মেয়েদের ধর্ষণ করেন এবং ভিডিও বানান।

ইসলামাবাদ পুলিশ জানিয়েছে, ওই বালিকার মেডিক্যাল চেকআপ করা হয়েছে। মেডিক্যাল চেকআপের রিপোর্ট এবং পরিস্থিতির উপর নির্ভর করে তদন্ত এগোবে। যদি ধর্ষণের কোনও প্রমাণ পাওয়া যায় তা হলে আইনি ব্যবস্থা যথাযথ ভাবে নেওয়া হবে।

এ ব্যাপারে পাকিস্তান ক্রিকেট বোর্ড (পিসিবি) থেকে বলা হয়েছে, ‘আমরা তার বিরুদ্ধে অভিযোগ ওঠার খবর পেয়েছি। বোর্ড আপাতত এ ব্যাপারে সব তথ্য জোগাড় করছে। সব সাক্ষ্যপ্রমাণ পেলেই আমরা আনুষ্ঠানিক মন্তব্য করব।’