দিবাকর সরকার, কলাপাড়া প্রতিনিধি: কুয়াকাটার পর্যটন ইউনিয়ন নামে খ্যাত লতাচাপলী ইউনিয়নের লক্ষ্মীর খালের উপরনির্মিত আয়রণ ব্রীজটি ভেঙ্গে নদীতে পড়ে এখন মরণ ফাঁদে পরিনত হয়েছে। স্থানীয় সরকার অধিদপ্তর দেড় যুগ আগে এ ব্রীজটি নির্মাণ করলেও সংস্কারের অভাবে দু’ বছর ধরে চলাচলের অনুপযোগী হয়ে পড়েছে।
ব্রীজটির উপর দিয়ে লতাচাপলী ও খাপড়াভাঙ্গা দু’ইউনিয়নের কয়েক হাজার মানুষ প্রতিনিয়ত চলাচল করত। বর্তমানে ব্রীজটি ভেঙ্গে নদীগর্ভে পড়ে থাকায় জনদুর্ভোগ চরমে উঠেছে। একদিকে নোভেল করোনা ভাইরাসের কারণে মানুষ ঘর বন্ধী হয়ে কর্ম বিমুখ হয়ে পড়েছে। অপর দিকে দু’ইউনিয়নের যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন থাকায় এ অঞ্চলের হত দরিদ্র কৃষকের উৎপাদিত ফসল বাজার জাত করতে না পারায় অসহায় জীবনযাপন করতে হচ্ছে তাদের। কুয়াকাটা সহ উপকূলীয় অঞ্চলের মানুষের সাপ্তাহিক বাজার মৎস্য বন্দর আলীপুরও মহিপুর। তাই নিত্য প্রয়োজনীয় দ্রব্যাদি ক্রয় বিক্রয়ের জন্য মিশ্রিপাড়া,নয়ামিশ্রিপাড়া, লক্ষ্মীর হাট, খাপড়াভাঙ্গা ও মমনসাতলী গ্রামের লোকজনের এ ব্রীজ পার হয়ে আসতে হয় সাপ্তাহিক বাজারে। যোগাযোগ বিচ্ছিন্নতার কারণে ঘরবন্ধী মানুষের দুঃখ কষ্টের যেন শেষ নেই। এলাকাবাসী সূত্রে জানা গেছে, স্থানীয় সরকার অধিদপ্তর ২০০১ সালে লক্ষ্মীর খালের উপর এ আয়রণ ব্রীজটি নির্মাণ করে। করোনা ভাইরাসের কারণে বর্তমানে শিক্ষা প্রতিষ্ঠান বন্ধ থাকলেও স্বাভাবিক সময় কুয়াকাটা খানাবাদ ডিগ্রী কলেজ, ঐতিহ্যবাহি মিশ্রীপাড়া ফাতেমা হাই মাধ্যমিক বিদ্যালয় ও মিশ্রিপাড়া সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহস্রাধীক ছাত্র-ছাত্রীদের ব্রীজ পার হয়ে স্কুল কলেজে আসতে হয়। অথচ মেরামত না হওয়ায় সম্প্রতি ব্রীজটি ভেঙ্গে নদীতে পরে দু’ইউনিয়নের যোগাযোগ একেবারে বিচ্ছিন্ন হয়ে গেছে।
একদিকে প্রকৃতির বিরূপ আচরণ নোভেল করোনা ভাইরাস, অপরদিকে স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তরের অব্যবস্থাপনা এযেন দেখার কেউ নাই। লক্ষ্মী গ্রামের শফিকুল আলম ও আঃ রশিদ হাওলাদার জানান, নির্মাণের পর থেকে এব্রিজটির অদ্যবদি কোন মেরামত করা হয়নি। লোকজনের চলাচলে দূর্ভোগ দেখে স্থানীয়রা কিছুদিন কাঠের তক্তা দিয়ে মেরামত করে চলাচল করছে। তাও আবার সম্প্রতি ভেঙ্গে গিয়ে একেবারে অচলাবস্থা হয়েগেছে।
লতা চাবলী ইউনিয়ন চেয়ারম্যান মোঃ আনছার উদ্দিন মোল্লা জানান, অনেক আগেই ব্রীজটি দিয়ে চলা অনুপযোগি ঘোষণা করা হয়েছে। লতাচাপলীইউনিয়নে এরকম আরও ৪টি ব্রীজ রয়েছে যা দ্রুত নির্মান করা দরকার অন্যথায় যেকোন সময় বড় ধরণের দুর্ঘটনা ঘটে যেতে পারে, তবে সংস্কারের জন্য স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তরে যোগাযো চলছে। এ ব্যাপারে স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তর’র প্রকৌশলী আঃ মান্নান বলেন, ভাইরাস থেকে আল্লাহ আমাদের মুক্ত করুক তার পর ব্রীজ নির্মাণের কার্যকরী ব্যবস্থা গ্রহণের চেষ্টা করব।