গোফরান পলাশ, পটুয়াখালী সংবাদদাতা: ঈদ-উল-আযহার সরকারী ছুটির দ্বিতীয় দিনে পর্যটন কেন্দ্র কুয়াকাটায় নিষেধাজ্ঞা উপেক্ষা করে সৈকতে ভিড় করেছে বেশ কিছু
পর্যটক। নিষেধাজ্ঞা থাকা সত্ত্বেও আজ সকাল থেকে ইকোপার্ক সংলগ্ন ঝাউবাগান
ও মাঝি বাড়ি পয়েন্টে এসব পর্যটকের সমাগম বাড়ে। এছাড়া কুয়াকাটার আবাসিক
হোটেলে পর্যটকদের অবস্থান করতে দেখা গেছে। তবে কুয়াকাটায় আগত এসকল
পর্যটকরা বেশির ভাগই বরিশাল বিভাগের বিভিন্ন জেলার বলে জানিয়েছে পর্যটন
সংশ্লিষ্ট ব্যবসায়ীরা।

পর্যটক মৌসুমী বেগম বলেন,  আমার ছেলে ও স্বামীকে নিয়ে ঘুরতে এসেছি কুয়াকাটায়। আমাদের বাড়ি বরগুনা জেলার আমতলীতে। আমরা স্বামী-স্ত্রী ঢাকাতে একটি গার্মেন্টসে কাজ করি। আত্মীয়-স্বজনদের সঙ্গে ঈদের আনন্দ উপভোগ করার জন্য ঈদের দুইদিন আগে বুধবার ১২ মে বাড়িতে এসেছি। কিন্তু, করোনার মধ্যে ঢাকা থেকে আসায় আত্মীয়-স্বজনদের বাড়িতে গেলে তারা আনইজি (অস্বস্তি) বোধ করে। এ কারণে কুয়াকাটা ঘুরতে এসেছি, আগামীকালকে ঢাকা চলে যাবো।

পর্যটক মো. সবুজ মিয়া বলেন, আমার বাড়ি জেলার কলাপাড়া। ঢাকা থেকে অনেক কষ্ট করে বাড়িতে এসেছি ঈদ করতে। এবছর ঈদে তেমন আনন্দ হয়নি। কারণ জানতে চাইলে তিনি বলেন, করোনার মধ্যে ঢাকা থেকে আসছি। তাই আত্মীয়-স্বজনরা আমাকে আলাদা থাকতে বলছে। এতে মোটরসাইকেল নিয়ে ঘুরতে এলাম কুয়াকাটা। প্রচণ্ড দক্ষিণা বাতাস আর সৈকতের ঢেউয়ের শব্দ ভালো লাগছে। এখানে অনেক মানুষ এসেছে তাদের সাথে ঈদের আনন্দ উপভোগ করলাম। আত্মীয়-স্বজনদের সঙ্গে ঈদের আনন্দ উপভোগ করতে পারিনি, সেই কষ্টটা দূর হয়ে গেছে।

কুয়াকাটা চৌরাস্তা ও জিরো পয়েন্টে ট্যুরিষ্ট পুলিশের টহল অব্যাহত থাকায়
সৈকতে প্রবেশের মূল পথ রয়েছে একেবারে ফাঁকা। মাঝি বাড়ী পয়েন্ট ও ঝাউবাগান
সংলগ্ন সৈকতে আগত পর্যটকের মাক্স পরিধান কিংবা স্বাস্থ্যবিধি মানতে দেখা
যায়নি। অনেকটা হাতে হাত, কাঁধে কাঁধ রেখেই প্রিয়জনকে নিয়ে ঘুরে বেড়াচ্ছেন
তারা।

কুয়াকাটা ট্যুরিষ্ট পুলিশের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার আবদুল খালেক জানান,
কুয়াকাটায় করোনা সংক্রমনরোধে সরকার ঘোষিত নিষেধাজ্ঞা মানতে পুলিশ দায়িত্ব
পালন করে যাচ্ছে। সৈকত সহ ট্যুরিষ্ট স্পট গুলোতে ভ্রমনে যেতে দেয়া হচ্ছে
না কাউকে।

এদিকে শুক্রবার থেকে ফের শুরু হচ্ছে ১৪দিনের সর্বাত্মক লকডাউন। যা ৫
আগষ্ট রাত ১২টা পর্যন্ত বহাল থাকার নির্দেশনা রয়েছে। এসময় দেশের সব কিছু
বন্ধ থাকবে জরুরী পরিসেবা ব্যতীত।