সকল ধর্মের মানুষ অসাম্প্রদায়িক রাষ্ট্রে স্বাধীনভাবে তাদের নিজ নিজ ধর্মীয় রীতিনীতি সংস্কৃতি পালন করবেন এটাই স্বাভাবিক। বাংলাদেশকে রাষ্ট্রীয়ভাবে বলা হয় অসাম্প্রদায়িক রাষ্ট্র কিন্তু বাংলাদেশের সকল ক্ষেত্রেই সাম্প্রদায়িকতার লক্ষন পরিলক্ষিত হয়। এই দেশে ধর্মীয় বিধি-নিষেধের কারনে অন্য ধর্মের মানুষের অনেক খাবার খোলা বাজারে বিক্রি করা যার না। যা সম্পূর্ণভাবে ব্যক্তি স্বাধীনতার পরিপন্থি। ইসলাম ধর্মে নিষিদ্ধ খাবার খোলা বাজারে বিক্রি করলে ধর্মের কোন ক্ষতি হবে মর্মে আমার কাছে মনে হয় না। শুধুমাত্র ইসলাম ধর্মে হালাল-হারামের দোহাই দিয়ে অন্য ধর্মের ব্যক্তির ইচ্ছা ও মনবাসনা থাকা শর্তেও তাদের পছন্দমত খাবার তারা খোলা বাজার ও রেস্টুরেন্ট হতে কিনতে পারেন না। খ্রীষ্ট ও বৌদ্ধ সম্প্রদায়ের মানুষের পছন্দের খাবার শুকরের মাংস। আমাদের বাংলাদেশে কয়েক লক্ষ নাগরিক আছে খ্রীষ্ট ও বৌদ্ধ ধর্মালম্বী। এই ধর্মালম্বীর মানুষ তাদের ধর্মীয় উৎসব ও বিভিন্ন সংস্কৃতিতে অনুষ্ঠানে ইচ্ছা করলেই তারা খোলা বাজার হতে শুকরের মাংস ক্রয়ের সামর্থ থাকার পরও ক্রয় করতে পারে না। যদি কোন ব্যক্তি শুকরের মাংস কিনে তাও আবার লুকিয়ে নির্দিষ্ট কোন দোকান হতে। যা সম্পূর্ণ ব্যক্তি স্বাধীনতা পরিপন্থী। এমনকি বাংলাদেশে রেস্টুরেন্ট,খাবার দোকান ও নিত্যপণ্যের বাজারে শুকরের মাংসা খোলা বাজারে বিক্রি সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ। কিন্তু বাংলাদেশে মুসলিম ও সনাতন ধর্মের মানুষেরা তাদের পছন্দ মত সকল খাবার খোলা বাজার হতে ক্রয় করতে পারেন এমনকি রেস্টুরেন্টে বসেও খেতে পারেন। সরকারের উচিত ইসলাম ধর্মের হালাল-হারামের ধর্মীয় দোহাই বাদ দিয়ে সকল ধর্মের মানুষের খাবার খোলাবাজারে ক্রয়-বিক্রির অনুমতি দেয়া । সেই সাথে সরকারের দৃষ্টি দেয়া উচিত যাতে ধর্মীয় বিধি-নিষেধের কারনে ব্যক্তি স্বাধীনতা হরণ না হয়। সাম্প্রদায়িকতার উর্দ্ধে যেয়ে সরকারের উচিত শুকরের মাংস খোলা বাজারে বিক্রি ও রেস্টুরেন্টে রান্না করার অনুমতি দিয়ে খ্রীষ্ট ও বৌদ্ধ সম্প্রদায়ের মানুষের দীর্ঘদিনের মনের পঞ্চভূত কস্ট প্রসমিত করা। শুকরের মাংস খোলা বাজারে বিক্রি করলে ইসলাম ধর্ম শেষ হয়ে যাবে তা কোরআন ও হাদিসের কোথায় লেখা আছে?

লেখক:
মোসাঃ সাথী খাতুন
স্টাফ রিপোর্টার
দৈনিক দর্পণ প্রতিদিন