রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের কৃষি অনুষদ ভবন সংলগ্ন গবেষণা পুকুর

বৃহস্পতিবার দিবাগত রাত ২টার দিকে এই চুরির ঘটনা ঘটে। বিষয়টি জানিয়েছেন গবেষণার দায়িত্বে থাকা শিক্ষক মাহাবুবুর রহমান। তিনি বিশ্ববিদ্যালয়ের ফিশারিজ বিভাগের অধ্যাপক।

জানতে চাইলে গবেষক মাহাবুবুর রহমান বলেন, শুক্রবার সকাল সাড়ে ৯ টায় আমার শিক্ষার্থীরা গবেষণা পুকুরে খাবার দিতে গিয়ে আমার শিক্ষার্থীরা দেখতে তিনটি খাঁচার মাছ চুরি হয়ে গেছে। পরে শিক্ষার্থীরা বিষয়টি জানালে আমি রাতে দায়িত্বে থাকা গার্ডের সঙ্গে কথা বলি। কথা বলে জানতে পারি বৃহস্পতিবার দিবাগত রাত আনুমানিক ২টার সময় মোটর-সাইকেল নিয়ে ১৫ থেকে ২০ জন এসে গার্ডকে ভীতি প্রদর্শন করে ১৬টি খাঁচার মধ্যে তিনটি খাঁচার মাছ নিয়ে চলে যায়।

তিনি আরো বলেন, মাছ চুরি হওয়াতে আমার তেমন আর্থিক ক্ষতি হয়নি, তবে গবেষণার কাজ পিছিয়ে গেলো। ফের চুরি হওয়ার আশঙ্কায় সামনে যে আবার নতুন মাছ নিয়ে গবেষণা শুরু করব এটা নিয়েও শঙ্কিত। আশা করি, যে বা যারাই এই ঘৃণিত কাজটা করুক না কেন, এরপর যেনো তারা এমন কাজ করার সুযোগ না পায়। এমন কাজের পুনরাবৃত্তি না ঘটে সে বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণ করবেন বলে আশা করছি। 

গবেষণার কাজে নিয়োজিত শিক্ষার্থী তহমিনা ইসলাম শিখা বলেন, আমরা মূলত সিলভার কার্প মাছ নিয়ে গবেষণা করছি। প্রতিটা খাঁচায় ৮টি করে মাছ আছে। অর্গানিক খাবার খাওয়ানোর মাধ্যমে মাছগুলোর সুন্দর রঙ আনার পাশাপাশি, আকার বৃদ্ধি নিয়ে আমাদের গবেষণা চালাচ্ছিলাম। কিন্তু মাছগুলো চুরি হয়ে যাওয়ায় আমাদের গবেষণা এক ধাপ পিছিয়ে গেলো। 

শিখা আরো বলেন, এই গবেষণা পুকুরগুলো দিনের বেলায় নিরাপদ না। আর রাতের বেলা তো আরো নিরাপদ না। গার্ড থাকা সত্বেও মাছ চুরি হয়ে যাচ্ছে। আমি মনে করি বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রশাসনের এই বিষয়ে আরো পদক্ষেপ নেয়া দরকার।

গবেষণা পুকুরের দেখভাল করার দায়িত্বে থাকা পিয়ন দেলোয়ার হোসাইন বলেন, এখানের পুকুরগুলোতে প্রায়ই মাছ চুরির ঘটনা ঘটে। গত দুই মাস আগেও এমন ঘটনা ঘটেছিলো। এখানে মাছ চুরির পাশাপাশি মাছের খাঁচাও চুরির মতো ঘটনাও ঘটেছে।

জানতে চাইলে বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিসি অধ্যাপক গোলাম সাব্বির সাত্তার বলেন, এই বিষয়ে কথা বলার আমার মানসিকতা নেই। কারা এর সঙ্গে সম্পৃক্ত এটা খুঁজে দেখো। এগুলো লজ্জার ছাড়া আর কিছুই না। এখানে প্রশাসন কি করবে! সবকিছু যদি প্রশাসন করে, তাহলে এখানে বুদ্ধিবৃত্তিক মানুষ বসবাস করে কেন!

নিরাপত্তার প্রসঙ্গে জানতে চাইলে ভিসি বলেন, নিরাপত্তা আছে তো। গার্ড দেয়া আছে, কিন্তু গার্ডকে কেউ যদি ভয় দেখায়। আমরা তো মিলিটারিও না পুলিশ না! এটা যারা করছে তারা সচেতন না হলে কিছু করার নেই। এটা খুবই নোংরা জিনিস। আর সেখানে ১০ গার্ড দেয়ার মতো তো বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্ষমতা নেই। সেই গবেষকের সঙ্গে আমার কথা হয়েছে। এখন দেখি কি করা যায়।