মোহান্নাদ ইউসুফ হাসান আল হিন্দির মৃত্যুর তদন্তকাজে সহায়তা করতে কো-পাইলট খালিল আবদুল রাজাককে পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশনে (পিবিআই) জিজ্ঞাসাবাদে হাজির হতে নির্দেশ দেয়া হয়েছে। ইউনাইটেড হাসপাতালসহ অন্যদের বিরুদ্ধে ফৌজদারি মামলায় পিবিআই ও ভুক্তভোগীর পরিবারের শুনানি আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে সোমবার ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট-৮ এর আদালত এ নির্দেশ দেন।
আদালতের নির্দেশ অনুযায়ী, গালফ এয়ারের প্রতিনিধিত্বকারী ঈশা শাহের কাছে পিবিআইয়ের জিজ্ঞাসাবাদের জন্য মামলার মূল সাক্ষী কো-পাইলট খালিল আবদুল রাজাককে হাজির হওয়ার নির্দেশ দেয়া হয়। পিবিআই বেশ কয়েকবার অনুরোধ করার পরও গালফ এয়ার তদন্তকাজে সাড়া না দিলে প্রয়াত পাইলটের বোন তালা এলহেনডি জোসেফানো আদালতের শরণাপন্ন হন।
ভুক্তভোগীর বোন তালা এলহেনডি দাবি করেন, গালফ এয়ারের অবহেলার কারণে তার ভাইয়ের মৃত্যু হয়। এই মৃত্যুর বিষয়ে চুপ থাকার বিনিময়ে বাংলাদেশ বেসামরিক বিমান কর্তৃপক্ষ (সিভিল এভিয়েশন অথরিটি অব বাংলাদেশ- সিএএবি) বিশেষ সুবিধা পেয়েছে।
তিনি বলেন, নিরাপত্তা পদ্ধতি ও নীতি লঙ্ঘনের এ ঘটনায় বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্স ও গালফ এয়ারের মধ্যে বিশেষ বন্দোবস্ত (কোডশেয়ার) হয়েছে। বিমান বাংলাদেশকে যুক্তরাষ্ট্রে ফিরতে দেয়া হবে বলে ভুয়া প্রতিশ্রুতি দেয়া হয়েছে। সিএএবি এমনকি দুর্ঘটনার দিনের সিসিটিভি ফুটেজও সংগ্রহ করতে পারেনি। যুক্তরাষ্ট্রে গালফ এয়ারের কার্যক্রম পরিচালনা করা বা তাদের থাকা খুবই দুর্বিসহ হয়ে উঠেছে। বিষয়টি ফেডারেল এভিয়েশন অ্যাডমিনিস্ট্রেশনকে (এফএএ) জানানো হয়েছে।
গালফ এয়ারের পাইলট মোহান্নাদ ইউসুফ হাসান আল হিন্দি গত বছরের ১৪ ডিসেম্বর ঢাকার ইউনাইটেড হাসপাতালে মৃত্যুবরণ করেন। তালা এলহেনডি জোসেফানো এ বছরের ২৬ জানুয়ারি বাংলাদেশ এসে পৌঁছান। তিনি ইউনাইটেড হাসপাতাল থেকে তার ভাইয়ের মামলাসংক্রান্ত তথ্য ও নথিপত্র সংগ্রহের চেষ্টা করেন এবং বেশ কয়েকদিন ধরে তার ভাইয়ের মৃত্যুর বিষয়টি ব্যক্তিগতভাবে তদন্ত করেন।
বাংলাদেশ মেডিক্যাল অ্যান্ড ডেন্টাল কাউন্সিলের (বিএমডিসি) প্রতিবেদন জমা দিতে দেরি হওয়া, মৃত্যুর দিন হাসপাতালের অবহেলা সংক্রান্ত প্রমাণ সংগ্রহে গালফ এয়ারের কান্ট্রি ম্যানেজার ইশা শাহের গড়িমসি ও মূল সাক্ষী উপস্থাপনে গালফ এয়ারের বিলম্বের কারণে আগামী ২ অক্টোবর পর্যন্ত পিবিআইয়ের প্রতিবেদন জমা দেয়ার সময় পিছিয়ে দেয়া হয়।
এ বছরের ৫ সেপ্টেম্বর গালফ এয়ার মিথ্যা বিবৃতিতে দাবি করে যে, তারা পিবিআই এর তদন্তে পূর্ণ সহযোগিতা করছে। অথচ বাস্তবতা হচ্ছে গালফ এয়ার ও এর কান্ট্রি ম্যানেজার ইশা শাহ পিবিআই-এর সঙ্গে সহযোগিতামূলক আচরণ করছে না। ভুক্তভোগীর পরিবার গালফ এয়ার, ইশা শাহ ও খলিলের বিরুদ্ধে ন্যায়বিচারে বাধা দেওয়ার এবং প্রমাণ গোপন করার অভিযোগে যথাযথ পদক্ষেপ গ্রহণ করবে।
অন্যদিকে, আদালতের আদেশের পাশাপাশি প্রধান সাক্ষী এবং প্রাসঙ্গিক মেডিকেল রেকর্ড উপস্থাপনের জন্য গালফ এয়ারকে বেশ কয়েকবার অনুরোধ পাঠানোর বিষয়টি নিশ্চিত করেছে পিবিআই। গালফ এয়ার অনুরোধের কোনো উত্তর দেয়নি। ভুক্তভোগীর মৃত্যুতে গালফ এয়ারের সম্পৃক্ততা গোপন করার উদ্দেশে এই সাক্ষীকে সামনে নিয়ে আসা হচ্ছে না বলে আশংকা করেছে ভুক্তভোগীর পরিবার।