এরই মধ্যে বিভিন্ন আন্তর্জাতিক প্রদর্শনীতে স্থান করে নিয়েছে সাজুর ক্যালিগ্রাফি। সুযোগ পেয়েছেন কাবা শরীফের গিলাফের প্রধান ক্যালিগ্রাফার মুখতার আহমাদ শিকদারের সঙ্গে সাক্ষাতেরও। এছাড়া নিজের কাজগুলো নিয়ে ‘কোট নোট আর্ট’ নামে একটি প্রতিষ্ঠান দাড় করিয়েছেন তিনি।
তাওহীদের জন্ম ও বেড়ে উঠা চুয়াডাঙ্গার দামুড়হুদায়। লেখাপড়ার শুরুটা গ্রামের মাদ্রাসা থেকে। ২০০৯ সালে দামুড়হুদা ডিএস দাখিল মাদ্রাসা থেকে দাখিল এবং ২০১১ সালে খুলনার দারুল কুরআন সিদ্দিকীয়া কামিল মাদ্রাসা থেকে আলিম পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হন। পরে ২০১২-১৩ শিক্ষাবর্ষে ভর্তি হন ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের লোকপ্রশাসন বিভাগে। সেখান থেকে সম্পন্ন করেছেন স্নাতক ও স্নাতকোত্তর। একাডেমিক পড়ালেখার পাঠ চুকিয়ে তাওহীদ এখন স্বপ্ন দেখেন পৃথিবীর সেরা ক্যালিগ্রাফার হওয়ার। এই লক্ষ্য নিয়ে প্রচুর সময়ও দিচ্ছেন ক্যালিগ্রাফির কাজে।
তাওহীদ বলেন, ছোটবেলার ভালোলাগা থেকে করা আঁকি-বুকিই যে আজ পেশায় পরিণত হবে তা নিজেও ভাবতে পারিনি। স্নাতকোত্তর শেষ করে একটা চাকরি নিয়েছিলাম। কিন্তু সেই চাকরিতে মন টানল না। ভেবেছিলাম কিভাবে সরকারি চাকরির পড়া শুরু করব, কিভাবে লাখ লাখ প্রতিযোগীর মধ্যে নিজেকে যোগ্য করে গড়ে তুলব, তখন জানতে পারি ক্যালিগ্রাফির কথা। যেহেতু আঁকাআকির প্রতি ভালোলাগা ছিল, তাই খোঁজখবর নিয়ে ভর্তি হয়ে গেলাম। কোর্স শেষে প্রায় দুইশত শিক্ষার্থীর মধ্যে প্রথম হলাম।’
বিষয়টি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে শেয়ার করলে বন্ধুবান্ধব ও শুভাকাঙ্ক্ষীদের অনুপ্রেরণা পান তাওহীদ। পরে নতুন নতুন ক্যালিগ্রাফি আঁকেন এবং ফেসবুকে দেন। ধীরে ধীরে কয়েকটি ক্যালিগ্রাফি বিক্রি হয়। পরে নিয়মিত আঁকার পাশাপাশি প্রচারণা চালাতে থাকেন অনলাইনে। এভাবে নিজেদের নামের ক্যালিগ্রাফি করিয়ে নিতে অর্ডার করা শুরু করেন অনেকেই। এখন তিনি পুরাদস্তুর ব্যস্ত ক্যালিগ্রাফির কাজ নিয়ে। চাকরির পড়াশোনা বাদ রেখে পুরোটা সময় দিচ্ছেন ক্যালিগ্রাফি শেখা ও আঁকায়।
তাওহীদ নিজের কাজগুলো নিয়ে প্রতিষ্ঠা করেছেন ‘কোট নোট আর্ট’ নামের প্রতিষ্ঠান। তিনি প্রতিষ্ঠানটির প্রধান নির্বাহী। সাজু ইতোমধ্যেই তার সৃজনশীল ক্যালিগ্রাফি নিয়ে একাধিক আন্তর্জাতিক প্রদর্শনীতে অংশ নিয়েছেন। চলতি বছরের জুলাইতে আন্তর্জাতিক কুরআন ক্যালিগ্রাফি প্রদর্শনী এবং ফেব্রুয়ারিতে ইন্দো-ইরান আন্তর্জাতিক কলা ও ক্যালিগ্রাফি প্রদর্শনীতে তার শিল্পকর্ম স্থান পায়। এর আগে গত বছরের অক্টোবরে নিউইয়র্ক আন্তর্জাতিক সীরাত প্রতিযোগিতায়ও স্থান পায় তাওহীদের ক্যালিগ্রাফি। দেশের প্রায় প্রতিটি জেলাতেই ক্যালিগ্রাফি পৌঁছে গিয়েছে তাওহীদের। তাছাড়া যুক্তরাষ্ট্র, কানাডা, আয়ারল্যান্ড, তুরস্ক, দুবাই, সৌদি আরব প্রভৃতি দেশেও গিয়েছে তার ক্যালিগ্রাফি।
ক্যালিগ্রাফি প্রশিক্ষক মাহবুব মুর্শিদ বলেন, ‘ক্যালিগ্রাফির প্রতি তাওহীদ সাজুর বেশ আগ্রহ। আমার বিশ্বাস, সে একদিন নামকরা ক্যালিগ্রাফার হবে।’
তাওহীদ বলেন, আরবি ক্যালিগ্রাফির মতো স্বর্গীয় শিল্পকে বেছে নিয়েছি জীবিকার মাধ্যম হিসেবে। এটি হালাল পেশা। বর্তমানে নিজে ক্যালিগ্রাফি করছি। তবে, ভবিষ্যতে নতুনদের মধ্যে ক্যালিগ্রাফি বিষয়ে প্রশিক্ষণ দেওয়ার ইচ্ছাও আছে।