দর্পণ ডেস্ক : চীনের প্রেসিডেন্টের সাথে ঘনিষ্ঠ ৯ জন উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা জানিয়েছেন, চীন বাইডেনকে নয়, ট্রাম্পকে ফের ক্ষমতায় দেখতে চায়। আন্তর্জাতিক গণমাধ্যম ব্লুমবার্গ এমন খবর দিয়েছে।

নভেম্বরের প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে ডেমোক্রেটিক পার্টির মনোনীত প্রার্থী জো বাইডেনকে ক্ষমতায় আনার জন্য কাজ করছে চীন, এরকম অভিযোগ করে আসছেন ডোনাল্ড ট্রাম্প। বেশ কয়েকবার তার মুখে এমন অভিযোগ শোনা গেছে।

বাণিজ্য যুদ্ধ থেকে শুরু করে করোনাভাইরাসের বিশ্বব্যাপী সংক্রমণের জন্য যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট যখন চীনকে বারবার দোষারোপ করে আসছে, তখন চীনের তরফ থেকে ট্রাম্পকে ফের ক্ষমতাসীন দেখার ব্যাপারে চীনের এধরনের আপাতত উদ্ভট চাওয়া । কিন্তু কেন? 

চীনা কর্মকর্তাদের একজন মনে করেন যুক্তরাষ্ট্র যে বিশ্বের বিভিন্ন মিত্রদের থেকে নিজেদের গুটিয়ে নিচ্ছে এটা চীনের ওপর চাপিয়ে দেয়া বাণিজ্য যুদ্ধ কিংবা ভূরাজনৈতিক অস্থিরতার চেয়ে কম গুরুত্বপূর্ণ। ট্রাম্প আসার পরেই যুক্তরাষ্ট্র আন্তর্জাতিক নেতৃত্ব থেকে নিজেদের আনেকটা সরিয়ে নেয়। আর এ সুযোগ কাজে লাগাচ্ছে চীন আর রাশিয়া।

বাণিজ্য যুদ্ধে কিছুটা ক্ষতি হলেও চীনের লক্ষ্য আগামীতে ইউরোপ ও এশিয়ার বিভিন্ন দেশে তাদের বাণিজ্যের গতি বৃদ্ধি করে যুক্তরাষ্ট্রের অবরোধ মোকাবেলা করা। তাছাড়া এশিয়া-ইউরোপে নিজেদের মিত্রতা বৃদ্ধি করে বিশ্ব শক্তি হিসেবে নিজেদের প্রতিষ্ঠার সুযোগ দেখছে চীন। সেটা ট্রাম্প আসলে চীনের জন্য অনেকটা সহায়ক হবে বলে ধারণা চীনা সরকারের। আর সে জন্যই চির শত্রুকে আরো চার বছর সহ্য করতে রাজি বেইজিং।

হোয়াইট হাউসে কে আসবে সেটার ওপর দুই দেশের ভবিষ্যৎ সম্পর্ক ও উত্তেজনা অনেকটা নির্ভর করবে। ট্রাম্প আসলে বাণিজ্য যুদ্ধসহ অনেকভাবে সম্পর্ক খারাপ হলেও ভূ-রাজনৈতিক দিক দিয়ে লাভবান হবে চীন। বাইডেন আসলে যুক্তরাষ্ট্রে দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক অন্য দেশের সাথে বেড়ে যেতে পারে। তাই বাণিজ্য যুদ্ধকে নিজেদের বৈশ্বিক রাজনৈতিক স্বার্থে মেনে নিতে প্রস্তুত চীন। করোনা ভাইরাসের এ সময়ে নিজেদের ক্ষমতা দেখানোর একটা সুযোগ পেয়েছে তারা।

বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থাসহ বেশ কয়েকটা আন্তর্জাতিক সংস্থার কাছে নিজেদের অবস্থান শক্ত করেছে চীন। অন্যদিকে জলবায়ু ইস্যুসহ বেশ কয়েকটি ইস্যুতে ইউরোপের সাথে বৈরিতায় জড়িয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। নিজেদের সেনা প্রত্যাহার করছে আফগান, ইরাক ও জার্মানি থেকে। বিশ্ব থেকে সরে এসে নিজ দেশ নিয়ে কাজ করতে চান ট্রম্প। আর এটাই বড় সুযোগ চীনের সামনে।