চট্টগ্রামের আনোয়ারা থানার পাহাড়ি এলাকায় অভিযান চালিয়ে সোমবার রাতে কক্সবাজারে অষ্টম শ্রেণির এক স্কুলছাত্রীকে ধর্ষণ মামলার মূল আসামি আশিককে গ্রেপ্তার করেছে র্যাব। কক্সবাজারে হোটেলে দুই দিন ধরে স্কুলছাত্রীকে আটকে রেখে ধর্ষণের পর মামলা করলে পুনরায় ধর্ষণ করে তাকে মেরে লাশ গুম করে ফেলার হুমকি দিয়েছিল অভিযুক্ত আশিক। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে আসামি মো. আশিক র্যাবের কাছে এ তথ্য দিয়েছে। র্যাব
মঙ্গলবার দুপুরে র্যাব-১৫ এর কক্সবাজার কার্যালয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে এসব তথ্য জানান অধিনায়ক লে. কর্নেল খায়রুল ইসলাম সরকার।
খায়রুল ইসলাম সরকার আরও জানান, হোটেলে স্কুলছাত্রীকে ধর্ষণের সংবাদ গণমাধ্যমে প্রকাশ হওয়ার পর র্যাবের একটি দল সোমবার রাত সাড়ে ১১টার দিকে চট্টগ্রাম জেলার আনোয়ারা এলাকায় এ অভিযান চালায়। এ সময় ধর্ষণে অভিযুক্ত কক্সবাজার শহরের উত্তর নুনিয়াছড়া এলাকার নজরুল ইসলামের ছেলে মো. আশিককে (২৭) গ্রেপ্তার করা হয়।
র্যাব-১৫ অধিনায়ক বলেন, কলাতলীর হোটেল-মোটেল জোনে একটি আবাসিক হোটেলে অষ্টম শ্রেণি পড়ুয়া এক ছাত্রীকে জিম্মি করে ধর্ষণ করে মো. আশিক নামে এক যুবক। জিম্মি দশা থেকে মুক্তি পেয়ে হাসপাতালে চিকিৎসা নেয় ওই ছাত্রী। এরপর ছাত্রীর বাবা সদর থানায় ৫ জনের বিরুদ্ধে মামলা করেন।
মামলার এজাহারে অভিযোগ করা হয়েছে, কক্সবাজার সাংস্কৃতিক কেন্দ্র সংলগ্ন মামস্ নামের এক আবাসিক হোটেলে দুই দিন ধরে আটকে রেখে একাধিকবার ধর্ষণ করা হয়েছে ওই স্কুল ছাত্রীকে। ওই ছাত্রীর দাবি, গত ১৩ ডিসেম্বর সন্ধ্যায় পরীক্ষার ফলাফল জেনে বাড়ি ফেরার পথে আশিকের নেতৃত্বে কয়েকজন তাকে অপহরণ করে নিয়ে যায়। পরে ১৫ ডিসেম্বর রাতে তাকে একটি গাড়িতে বাড়ির সামনে নামিয়ে দেয়। পরে ওই ছাত্রীকে কক্সবাজার সদর হাসপাতালের ওয়ান স্টপ ক্রাইসিস সেন্টারে (ওসিসি) ভর্তি করে চিকিৎসা সেবা দেওয়া হয়। ছাত্রীর বাবা বাদী হয়ে ৫ জনের নাম উল্লেখ করে কক্সবাজার সদর থানায় এজাহার দায়ের করেন। গত ১৮ ডিসেম্বর পুলিশ মামলাটি নথিভুক্ত করে।
এর আগে সোমবার সন্ধ্যায় কক্সবাজার শহরের পৃথক স্থানে পুলিশ অভিযান চালিয়ে গ্রেপ্তার করে এই মামলার এজাহারভুক্ত ৪ নম্বর আসামি কক্সবাজার শহরের উত্তর নুনিয়াছড়া এলাকার নজরুল ইসলামের ছেলে মো. কামরুলকে এবং ঘটনাস্থল মমস্ গেস্ট হাউজের ব্যবস্থাপক মোহাম্মদ শাহীনকে। পরে সোমবার রাতে চট্টগ্রামের আনোয়ারা থেকে আটক হল মূল আসামি আশিক।
এদিকে অভিযুক্ত আশিকের ভাবি শাহিনা আকতার দাবি করেছেন, আশিকের সঙ্গে ওই ভুক্তভোগী মেয়ের প্রেমের সম্পর্ক রয়েছে। উভয়েই বিয়ে করতে রাজি। তবে মেয়েটির পরিবারের সদস্যরা মানছে না। তারা উল্টো মামলা দিয়েছে।