কানিজ ফাতেমা অনি নিজের স্বামী ও বাংলাদেশ ব্যাংকের বহিষ্কৃত উপ পরিচালক তাওফিক উস সামাদ তন্ময়ের বিরুদ্ধে যৌতুকের দাবিতে নির্যাতন, পরকিয়া, বহুগামিতা, প্রতারণা ও ধর্ষণের অভিযোগ এনেছেন।
এসময় অবিলম্বে তাকে গ্রেফতার করে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবিও জানান।
রাজধানীর ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটির (ডিআরইউ) সাগর-রুনি মিলনায়তনে ভুক্তভোগী পরিবারের সদস্যদের উপস্থিতিতে সংবাদ সম্মেলন করে স্ত্রী কানিজ ফাতেমা অনি এসব অভিযোগ করেন।
সংবাদ সম্মেলনে তুলে ধরা হয় পারিবারিক প্ররোচনায় কীভাবে মেয়ে দেখার নামে বিভিন্ন বাসায় দাওয়াত গ্রহণ ও উপঢৌকন দিয়ে সম্পর্ক স্থাপন করে তার স্বামী বিভিন্ন মেয়ের সাথে শারীরিক সম্পর্ক গড়ে ছবি ও ভিডিওচিত্র ধারণ করে হাতিয়ে নিতো মোটা অংকের টাকা।
লিখিত বক্তব্যে জানানো হয়, গত ১ ফেব্রুয়ারি পারিবারিকভাবে বিয়ে হয় তাওফিক উস সমাদ তন্ময়ের সাথে কানিজ ফাতেমা অনির। বিয়ের ১৮ দিন পর ১৮ ফেব্রুয়ারি সহকর্মীর ধর্ষণ মামলায় গ্রেফতার হয় তন্ময়। প্রায় ১০ লাখ টাকা খরচ করে তন্ময়কে জামিনে বের করা হয়। এরপর সে সাইফুর’স এর শেয়ার কেনার জন্য ১৫ লাখ টাকা যৌতুক চায়। এ নিয়ে শুরু হয় পারিবারিক ঝামেলা।
এদিকে জেলে থাকাবস্থায় তার সম্পর্কে একাধিক মেয়ের সঙ্গে শারীরিক সম্পর্কের বিষয় প্রকাশ পায়। এ বিষয়ে প্রশ্ন উত্থাপন করতেই অনির উপর শারীরিক ও মানসিক নির্যাতন।
সংবাদ সম্মেলনে অনির খালা রকসি রহমান বলেন, গত ২৯ সেপ্টেম্বর দুপুর ১টায় খালামনি আমাকে বাঁচাও অনির কাছ থেকে এমন ফোন পেয়ে আমরা ছুটে যাই তার বনানীর বাসায়। কিন্তু তারা বাসায় ঢুকতে দেয়নি। পরে নিরাপত্তা প্রহরীর সহযোগিতায় ভাগ্নিকে মৃতপ্রায় অবস্থায় উদ্ধার করে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ওয়ান স্টপ ক্রাইসিস সেন্টারে (ওসিসি) ভর্তি করি এবং বনানী থানায় জিডি করি। এরপর গত ১ অক্টোবর বনানী থানায় নারী ও যৌতুকের মামলা করি। একাধিক বিবাহের কথা গোপন করার কারণে গত ১৭ অক্টোবর আরেকটি প্রতারণার মামলা করি কোর্টে। যা পিবিআইতে তদন্তাধীন।
তিনি তন্ময়ের অতীত সম্পর্কে বলেন, তার পরিবার দীর্ঘদিন ধরে বিয়ের নামে প্রতারণা করে আসছে অনেক মেয়ের পরিবারের সাথে। দাওয়াত গ্রহণ করে ও উপঢৌকন দিয়ে সম্পর্ক স্থাপন করে শারীরিক সম্পর্ক গড়ে এবং সেগুলোর ছবি ও ভিডিওচিত্র ধারণ করে হাতিয়ে নেয় মোটা অংকের টাকা। আর তার এই অবৈধ যৌনাচার ও প্রতারণার দোসর তার পরিবার, বিশেষত তার বাবা।
ছাত্রজীবনে টিউশনির নামে বাসায় ঢুকে ছাত্রীদের প্রেমের ফাঁদে ফেলে যৌন সম্পর্ক স্থাপন করেছে। বাদ যায়নি ছাত্রী/ছাত্রের মা, বড় বোন বা মামী। সেগুলো ভিডিও করে রেখে বিভিন্ন সময়ে টাকা ও অন্যান্য সুবিধা গ্রহণ করেছে তন্ময় ও তার পরিবার।
এছাড়া দীর্ঘদিন ধরে এক মেয়ের সাথে স্বামী স্ত্রী পরিচয়ে সাবলেট নিয়ে থেকেছে। উত্তরাতে এক বাসায় বিগত কয়েক মাস যাবত যাতায়াত করছে একটি ইউনিভার্সিটির এক মেয়েকে নিয়ে। তিনি বলেন, বিভিন্ন সময়ে তার পরিবার মেয়ে দেখার নামে দাওয়াত খেয়ে বেড়ায়। তার প্রোফাইল, শিক্ষাগত যোগ্যতা, সরল শিশুসুলভ আচরণের অভিনয় এবং পরিবার সংযুক্ত থাকায় মেয়ে ও মেয়ের পরিবারের আস্থা অর্জন করে ফেলে খুব সহজেই। যেমনটি আমাদের ক্ষেত্রেও হয়েছে।
এ সময় আরো জানানো হয়, আইনগতভাবে বিবাহিত হওয়া সত্ত্বেও তথ্য গোপন করে বিবাহবিডি ডট কমে রেজিস্ট্রেশন করে বিভিন্ন মেয়ের সাথে প্রতারণার অভিযোগে বিবাহ বিডি কর্তৃপক্ষ তন্ময়ের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করে। তার বিরুদ্ধে জনৈক নারীর অভিযোগের ভিত্তিতে গবছর ২৯ অক্টোবর তাকে বাংলাদেশ ব্যাংক কর্তৃপক্ষ সাময়িক বরখাস্ত করা হয়। সংবাদ সম্মেলন থেকে তন্ময়ের এসব অপকর্ম তদন্ত করে প্রয়োজনীয় আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানায় অনির পরিবার।
সূত্র: বাংলাদেশ প্রতিদিন