মোঃ সাজেদুর রহমান চৌধুরী:
করোনা দুর্যোগের কারণে পুরো পৃথিবীর মানুষের জীবন স্তব্ধ হয়ে পড়ছে। এই সুযোগ কাজে লাগিয়ে জঙ্গিগোষ্ঠী বাংলাদেশে সামাজিক মাধ্যমকে ব্যবহার করে অসৎ উদ্দেশ্য হাসিলের জন্য তাদের ধর্মীয় মিথ্যা বাণী-বিবৃতি প্রচার করে সাধারণ ধর্মপ্রাণ মানুষের মধ্যে বিভ্রান্তি সৃষ্টি করছে। ফেসবুক-ইউটিউবসহ অন্য সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে জঙ্গিরা তাদের নিজেদের আদর্শগত বক্তব্য লাইভ-ভিডিও আপলোড করে ছেড়ে দিচ্ছে। মৌলবাদীরা সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে বক্তব্যে বলছেন, কেয়ামত খুব কাছে চলে এসেছে, করোনা কোনো অসুখ নয়, এটা আল­াহর গজব বিধর্মীদের ওপর। মুসলমানরা সবাই ইসলামের পথে চললে ও ইসলামের বাণী ঘরে ঘরে প্রচার করলে করোনা পৃথিবী থেকে চলে যাবে। এভাবেই মুসলিম জঙ্গিগোষ্ঠী ইসলামের অপব্যাখ্যা দিচ্ছে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ব্যবহার করে। জঙ্গিরা সহজ-সরল ধর্মপ্রাণ মানুষকে মিথ্যা প্রলোভন দিচ্ছে ধর্মের নামে, যার কারণে সাধারণ মানুষ বিভ্রান্তির মধ্যে পড়ে যাচ্ছে। এমনকি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে জঙ্গিরা জিহাদের ডাক দিচ্ছে। অন্য ধর্মের মানুষকে হত্যা করার প্ররোচণা দিয়ে বিদ্বেষ ও ঘৃণা ছড়াচ্ছে। বস্তুত তাদের মূল উদ্দেশ্যই হচ্ছে ইসলাম ধর্মের ভুল ব্যাখ্যা ব্যবহার করে মানুষে মানুষে, ধর্মে ধর্মে, জাতিতে জাতিতে ভেদাভেদ সৃষ্টি করে অরাজকতা তৈরি। গোটা মানবজাতি করোনা দুর্যোগে খুবই অসহায় হয়ে পড়ছে। মানুষের এই অসহায়ত্বের সুযোগ নিয়ে এসব ইসলামী জঙ্গিগোষ্ঠী সাধারণ মানুষকে ধাবিত করছে দেশে বিশৃঙ্খলা, মানুষ হত্যা, খুনোখুনির মতো জঘণ্য কাজে।
সরকারের আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর এখনই উচিত সময়ক্ষেপণ না করে তথ্যপ্রযুক্তি ব্যবহার করে এসব ইসলামী মৌলবাদী জঙ্গিগোষ্ঠী, বক্তা ও ইউটিউবারদের শনাক্ত করে তাদের প্রচারিত সব ভিডিও প্রচারণা বন্ধ করে দিয়ে আইনের আওতায় আনা। তাহলেই আমাদের দেশের মানুষ অনেক বিভ্রান্তির হাত থেকে বাঁচবে।
ইসলাম শান্তির ধর্মÑমহান স্রষ্টার প্রতি পরিপূর্ণ বিশ্বাস এবং তার সুমহান সত্তার প্রতি আÍসমর্পণের ধর্ম। আক্রান্ত না হলে, আÍরক্ষার জন্য না হলে অন্য যে কোনো ধর্ম বা বিশ্বাসে বিশ্বাসী মানুষকে আক্রমণ করার কোনো অবকাশ নেই। এমন কোনো দৃষ্টান্ত নেই মহানবী (সা.)-এর গোটা জীবন ইতিহাসে যে, তিনি কোনো অন্যায় যুদ্ধের নেতৃত্ব দিয়েছেন বা আদেশ দিয়েছেন। অথচ তার নাম ব্যবহার করে পৃথিবীব্যাপী বিভ্রান্ত কিছু মানুষ ‘জিহাদ’-এর নামে মিথ্যা ফতোয়া দিয়ে রীতিমতো গোনাহের কাজে লিপ্ত হচ্ছে। আমরা দৃঢ়ভাবে বিশ্বাস করি, পবিত্র কোরআন এবং মহানবী (সা.) এর হাদিসগুলো যদি কেউ সম্পূর্ণ মনোযোগসহকারে পড়েন তাহলে তিনি কোনোভাবেই এই বিভ্রান্ত জঙ্গি উগ্রবাদী, অসহিষ্ণু ব্যক্তিদের নিজ মনপছন্দ জঙ্গিবাদী আহ্বানের অন্তঃসারশূন্যতা স্পষ্টভাবে বুঝতে পারবেন এবং তাদের বিভ্রান্তিকর কর্মকাণ্ডে পথভ্রষ্ট হবেন না।
একজন প্রকৃত মুসলিম কোনোদিনই কোনো মানুষকে হত্যার আহ্বান জানাতে পারেন না; কারণ পবিত্র কোরআনে স্পষ্ট করে বলা আছেÑযিনি কোনো মানুষের জীবন রক্ষা করেন তিনি সারা পৃথীবিকে রক্ষা করেন। যিনি কোনো মানুষকে হত্যা করেন তিনি যেন পৃথীবিকেই বিপন্ন করেন।
যেসব মুসলিম নামধারী ছদ্মবেশীরা ইসলামের নামে এসব উগ্রবাদী হিংসাপূর্ণ কর্মকাণ্ড চালাচ্ছেন তারা কোনোভাবেই প্রকৃত ‘মুসলিম’ হতে পারেন না। আমরা যেন এ বিষয়ে সচেতন থেকে তাদের ফাঁদে পা না দিই। কারণ দুনিয়ার বুকে যারা অশান্তি সৃষ্টি করে তাদেরকে অভিশপ্ত বলা হয়েছে পবিত্র কোরআনে।
তাই আমাদেরও উচিত সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে প্রচারিত জঙ্গিগোষ্ঠী মৌলবাদীদের এসব অপপ্রচার এবং ভিডিও থেকে নিজেদের দূরে রাখা ও অন্যদের সজাগ থাকতে বলা। তবেই আমাদের সাামাজিক ও রাষ্ট্রীয় জীবন কল্যাণময় হবে।লেখক : মোঃ সাজেদুর রহমান চৌধুরী
সম্পাদক ও প্রকাশক
দৈনিক দর্পণ প্রতিদিন