রাজধানীর ভাটারা থানার সন্ত্রাসবিরোধী আইনে করা মামলায় জামায়াতে ইসলামীর সেক্রেটারি জেনারেল মিয়া গোলাম পরওয়ারসহ দশজনকে আসামি করে আদালতে অভিযোগপত্র (চার্জশিট) দাখিল করেছে ডিবি পুলিশ। মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা ও ডিবির গুলশান জোনাল টিমের পরিদর্শক কাজী ওয়াজেদ আলী আদালতে আসামিদের বিরুদ্ধে অভিযোগপত্র দাখিল করেন।
ভাটারা থানার আদালতের সাধারণ নিবন্ধন কর্মকর্তা উপপরিদর্শক রনপ কুমার ডেইলি বাংলাদেশকে রোববার বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
তিনি বলেন, গত ২১ এপ্রিল ভাটারা থানার সন্ত্রাসবিরোধী আইনে করা মামলায় জামায়াতে ইসলামীর দশ জনের বিরুদ্ধে অভিযোগপত্র দাখিল করে ডিবি পুলিশ। মামলাটি বিচারের জন্য প্রস্তুত হওয়ায় সন্ত্রাস বিরোধী বিশেষ ট্রাইব্যুনালে পাঠানো হয়েছে।
অভিযোগপত্রে উল্লেখিত অন্য আসামিরা হলেন- জামায়াতে ইসলামী বাংলাদেশের কেন্দ্রীয় নির্বাহী পরিষদের সদস্য মো. আব্দুর রব, সেক্রেটারি জেনারেল এএইচএম হামিদুর রহমান আযাদ, কেন্দ্রীয় নির্বাহী পরিষদের সদস্য মো. ইজ্জত উল্যাহ, মো. মোবারক হোসেন, সুরা সদস্য মো. ইয়াছিন আরাফাত, সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল মো. রফিকুল ইসলাম খান, সেক্রেটারি জেনারেলের গাড়িচালক মো. মনিরুল ইসলাম, জামায়াতে ইসলামীর সমর্থক মো. আবুল কালাম আজাদ এবং জানায়াতে ইসলামী বাংলাদেশের নায়েবে আমীর আ.ন. ম মুহাম্মদ সামশুল ইসলাম।
এদিকে এ মামলার এজাহারভুক্ত আসামি মো. ইমাম হোসেন ও মো. আবুল কালামের বিরুদ্ধে কোনো অভিযোগ প্রমাণিত না হওয়ায় তাদের মামলার দায় হতে অব্যাহতির জন্য আবেদন করা হয়েছে।
তদন্তে আসামিদের বিরুদ্ধে অভিযোগ প্রমাণিত হওয়ায় ২০০৯ সালের সন্ত্রাস বিরোধী (সংশোধনী-২০১৩) ৬(৩)/১০/১১/১২/১৩ ধারা ক অভিযোগপত্র দাখিল করা হয়। ঢাকার সন্ত্রাসবিরোধী বিশেষ ট্রাইব্যুনালে এ মামলার অভিযোগপত্র আমলে গ্রহণের জন্য আগামী ২১ জুলাই দিন ধার্য রয়েছে।
মামলার সূত্রে জানা যায়, ২০২১ সালের ৬ সেপ্টেম্বর রাজধানীর বসুন্ধরা আবাসিক এলাকা থেকে জামায়াতে ইসলামীর সেক্রেটারি জেনারেল মিয়া গোলাম পরওয়ারসহ ৯ জনকে গ্রেফতার করে পুলিশ। এ সময় তাদের কাছে থেকে রাষ্ট্রবিরোধী ও সরকার বিরোধী বিভিন্ন প্রকার লিফলেট, জামায়াতে ইসলামীর সম্পাদিত উগ্র মতবাদের বিভিন্ন বই, সাংগঠনিক কার্যক্রম পরিচালনার রেজিস্ট্রার ও কাগজপত্র, ল্যাপটপ ও মোবাইল উদ্ধার করে।
ঐদিন রাতে ভাটারা থানায় উপপরিদর্শক হাসান মাসুদ বাদী তাদের বিরুদ্ধে সন্ত্রাসবিরোধী আইনে মামলা করেন। এছাড়া মামলায় অনেককে অজ্ঞাতনামা আসামি করা হয়। তার পরদিন ৭ সেপ্টেম্বর এ মামলায় জামায়াতে ইসলামীর সেক্রেটারি জেনারেল মিয়া গোলাম পরওয়ারসহ ৯ জনের চারদিন করে রিমান্ড মঞ্জুর করেন আদালত।
এ মামলায় উত্তরার বাসা থেকে শামসুল ইসলামকে গ্রেফতার করে পুলিশ। গত ১০ সেপ্টেম্বর ঢাকা মহানগর হাকিম দেবব্রত বিশ্বাস বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর নায়েবে আমির মাওলানা আ.ন.ম শামসুল ইসলাম ও তার বাবুর্চি মো. ইমাম হোসেনের চারদিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন। একই বছরের ১২ সেপ্টেম্বর চার দিনের রিমান্ড শেষে নয় আসামিকে আদালতে হাজির করা হয়। এরপর মামলার সুষ্ঠু তদন্তের স্বার্থে ফের পাঁচ জনের দশ দিন করে রিমান্ডে নিতে আবেদন করেন মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা পরিদর্শক কাজী ওয়াজেদ আলী। শুনানি শেষে আদালত তাদের প্রত্যেকের দুইদিন করে রিমান্ড মঞ্জুর করেন। এ মামলায় জামায়াতের সেক্রেটারি জেনারেলের গাড়ি চালক মনিরুল ইসলাম ও জামায়াতের কর্মী আব্দুল কালাম আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দেন।