দর্পণ ডেস্ক : নুরুল হাসান সোহানের ভুল, ‘নো বল’ নাটক, অবশেষে স্বস্তির জয়। বেচেঁ রইল সেমির আশা। হোবার্টের পর ব্রিসবেনেও রচিত হলো জয়ের গল্প। সুপার টুয়েলভে জিম্বাবুয়েকে ৩ রানে হারিয়ে টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের সেমিফাইনালে খেলার স্বপ্ন বাঁচিয়ে রাখলো বাংলাদেশ।
ক্রিকেট নিয়ে পুরনো প্রবাদ, গৌরবময় অনিশ্চিয়তার খেলা। বাংলাদেশ জিম্বাবুয়ের ম্যাচে যা ঘটলো, ক্রিকেট ইতিহাসে এমন ঘটনা এর আগে এমন ঘটনা কেউ দেখেছে বলে মনে হয় না। এক ম্যাচে দুইবার জয়োৎসব করল সাকিব-তাসকিন-আফিফরা। শেষ ওভারের শেষ বলে জয়ের জন্য জিম্বাবুয়ের দরকার ছিল ৫ রান। স্ট্রাইকে ব্লেসিং মুজারাবানি। মোসাদ্দেক হোসেনের বলে ব্যাট চালিয়েছিলেন তিনি। তবে বল ব্যাট হয়নি। স্টাম্পিং করেন উইকেটকিপার নুরুল হাসান সোহান। প্রথম দফা জয়োৎসব করে বাংলাদেশ। কিন্তু উইকেটের সামনে বল ধরেছিলেন নুরুল হাসান। স্টাম্পিংয়ের বদলে দেন টেলিভিশন আম্পায়ার। করমর্দন করে মাঠ ছেড়ে ছিলেন দুই দলের ক্রিকেটাররা। আবার তাদের মাঠে ফিরতে হয়।
এখন শেষ বলে প্রয়োজন ৪ রান। আবারও ব্যাট চালিয়েছিলেন মুজারাবানি, তবে এবারও মিস করে গেছেন। চার নয় ৩ রানের জয়ে দ্বিতীয় দফা জয়োৎসব করেছে বাংলাদেশ দল।
এর আগে টস জিতে ব্যাট করতে নেমে নাজমুল হোসেন শান্তর ক্যারিয়ার-সেরা ইনিংসে ৭ উইকেটে ১৫০ রান করে টাইগাররা। জবাবে ৮ উইকেটে ১৪৭ রান করে জিম্বাবুয়ে। রোববার প্রথম ওভারেই আঘাত হানেন তাসকিন আহমেদ। ওপেনার ওয়েসলি মাধভেরেকে সাজঘরে ফেরান তিনি। এরপর তৃতীয় ওভারে আবারও আঘাত হানেন ডানহাতি এই ফাস্ট বোলার। ফিরিয়ে দেন ক্রেইগ আরভিনকে।
এখানেই শেষ নয়, দলীয় ষষ্ঠ ওভারে বল করতে এসে টানা দুই বলে দুই উইকেট তুলে নেন মোস্তাফিজ। এতে চলতি বিশ্বকাপে দ্বিতীয় জয়ের সুবাস পেতে থাকে বাংলাদেশ। কিন্তু শন উইলিয়ামস ও রায়ান বার্লের ৬৩ রানের জুটিতে ভয় ধরায় বাংলাদেশ শিবিরে। কিন্তু উইলিয়ামসকে ৬৪ রানে, রান আউট হন। এর আগে ব্রিসবেনে শুরুটা ভালো হয়নি টাইগারদের। ইনিংসের দ্বিতীয় ওভারে সাজঘরে ফেরেন সৌম্য সরকার (০)। ব্যাট হাতে দারুণ ছন্দে ছিলেন লিটন দাস। কিন্তু ব্যক্তিগত ১৪ রানে স্কুপ করতে দিয়ে শর্ট থার্ডম্যানে ক্যাচ দেন ডানহাতি এই ব্যাটার।
এরপর নাজমুল হোসেন শান্তকে নিয়ে ৫৪ রানের জুটি গড়ে চাপ সামাল দেন সাকিব আল হাসান। রানের গতি বাড়াতে গিয়ে ব্যক্তিগত ২৩ রানে আউট হন টাইগার দলপতি। টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে প্রথম নিজের প্রথম অর্ধশতক তুলেন শান্ত।
দুর্দান্ত খেলতে থাকা বাঁহাতি এই ব্যাটার সাজঘরে ফেরেন ৫৫ বলে ৭১ রান করে। ফলে ভেঙে যায় শান্ত-আফিফের ২১ বলে ৩৬ রানের জুটি। শেষদিকে আফিফ হোসেনের ১৯ বলে ২৯ রানের জুটিতে চ্যালেঞ্জিং স্কোর পায় বাংলাদেশ।

News Editor : Ganash Chanro Howlader. Office: 38-42/2 Distillery Road, 1st floor, Gandaria, Dhaka-1204.